ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’ Logo পাবিপ্রবিতে বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা Logo হামে শিশুমৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের Logo ডিআরইউ সঙ্গে পুপরোয়া’র মতবিনিময় সভা Logo শিক্ষকদের পাঠ মুল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামুলক করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় Logo মোহাম্মদপুরে আসাদুল হত্যার নেপথ্যে মারধরের পুরনো ক্ষোভ: ডিএমপি

শহীদ ওসমান হাদিকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি হাবিপ্রবি শিক্ষকের

হাবিপ্রবির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক জুয়েল আহমেদ সরকার ফেসবুকে এক দীর্ঘ লেখায় শহীদ ওসমান হাদীকে হাইস্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, তরুণদের সামনে অনুসরণযোগ্য রোল মডেলের অভাবই সমাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অন্যতম কারণ। অনেক নেতা থাকলেও তাঁদের জীবন থেকে তরুণরা দৈনন্দিন জীবনে গ্রহণযোগ্য উদাহরণ খুব কমই পায়। ফলে তরুণ প্রজন্ম সঠিক দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জুয়েল আহমেদ সরকার লিখেছেন, শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন এক অনন্য তরুণ নেতা, যিনি দেশপ্রেম, সততা, সাহসিকতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিতে সমৃদ্ধ। তিনি জানতেন তাঁর ওপর হামলা হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল নিশ্চিত। তবুও তিনি পিছপা হননি, বরং দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই আত্মত্যাগ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এবং তরুণদের সামনে এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদী ছিলেন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তিনি কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেননি। প্রথমে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। এই দুই শিক্ষামাধ্যমের অভিজ্ঞতা তাঁকে বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণের বাস্তবতার সাথে যুক্ত করেছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা ছিল জনমানুষের প্রচারণা—মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার দক্ষতা, দরদ নিয়ে কথা বলার প্রবণতা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নতুন মডেল দাঁড় করানো তাঁকে মানুষের ‘ওসমান হাদী’ বানিয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষ তাঁকে অর্থ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সহায়তা করেছেন, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

জুয়েল আহমেদ সরকার উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদী শুধু রাজনীতির তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁর ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি তরুণদের সামনে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি ও সংস্কৃতির বাস্তব রূপরেখা তুলে ধরেছে। ৩৬ জুলাইয়ের পর তরুণ সমাজ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, তার একটি বাস্তবিক মডেল শহীদ হাদী দেখিয়ে গেছেন। তিনি সৎ ও দেশপ্রেমিক তারুণ্যের মডেল, জনদরদী নেতৃত্বের মডেল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের মডেল হয়ে উঠেছেন।

জুয়েল আহমেদ সরকারের মতে, একজন তরুণ হিসেবে কীভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে সততায়, সাহসিকতায় ও কর্মনিষ্ঠায় জীবনযাপন করতে হয় এবং সর্বোপরি কীভাবে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার চেষ্টা করা যায়—তার বাস্তব উদাহরণ শহীদ ওসমান হাদী। তিনি একই সাথে সাহসী, সৎ, রাজনীতি সচেতন, সংস্কৃতি সচেতন এবং প্রবল দেশপ্রেমিক। তাই ওসমান হাদী তরুণদের জন্য শুধু অনুপ্রেরণা নন, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণযোগ্য রোল মডেল।

সবশেষে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীকে হাইস্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে আগামী দিনের তরুণরা সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে উদ্যমী হবে।

জনপ্রিয়

বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

শহীদ ওসমান হাদিকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি হাবিপ্রবি শিক্ষকের

প্রকাশিত ০২:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

হাবিপ্রবির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক জুয়েল আহমেদ সরকার ফেসবুকে এক দীর্ঘ লেখায় শহীদ ওসমান হাদীকে হাইস্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, তরুণদের সামনে অনুসরণযোগ্য রোল মডেলের অভাবই সমাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অন্যতম কারণ। অনেক নেতা থাকলেও তাঁদের জীবন থেকে তরুণরা দৈনন্দিন জীবনে গ্রহণযোগ্য উদাহরণ খুব কমই পায়। ফলে তরুণ প্রজন্ম সঠিক দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জুয়েল আহমেদ সরকার লিখেছেন, শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন এক অনন্য তরুণ নেতা, যিনি দেশপ্রেম, সততা, সাহসিকতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিতে সমৃদ্ধ। তিনি জানতেন তাঁর ওপর হামলা হতে পারে, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল নিশ্চিত। তবুও তিনি পিছপা হননি, বরং দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই আত্মত্যাগ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এবং তরুণদের সামনে এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদী ছিলেন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তিনি কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসেননি। প্রথমে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। এই দুই শিক্ষামাধ্যমের অভিজ্ঞতা তাঁকে বাংলাদেশের অধিকাংশ তরুণের বাস্তবতার সাথে যুক্ত করেছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা ছিল জনমানুষের প্রচারণা—মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার দক্ষতা, দরদ নিয়ে কথা বলার প্রবণতা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নতুন মডেল দাঁড় করানো তাঁকে মানুষের ‘ওসমান হাদী’ বানিয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষ তাঁকে অর্থ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সহায়তা করেছেন, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

জুয়েল আহমেদ সরকার উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদী শুধু রাজনীতির তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁর ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি তরুণদের সামনে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি ও সংস্কৃতির বাস্তব রূপরেখা তুলে ধরেছে। ৩৬ জুলাইয়ের পর তরুণ সমাজ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, তার একটি বাস্তবিক মডেল শহীদ হাদী দেখিয়ে গেছেন। তিনি সৎ ও দেশপ্রেমিক তারুণ্যের মডেল, জনদরদী নেতৃত্বের মডেল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের মডেল হয়ে উঠেছেন।

জুয়েল আহমেদ সরকারের মতে, একজন তরুণ হিসেবে কীভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে সততায়, সাহসিকতায় ও কর্মনিষ্ঠায় জীবনযাপন করতে হয় এবং সর্বোপরি কীভাবে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার চেষ্টা করা যায়—তার বাস্তব উদাহরণ শহীদ ওসমান হাদী। তিনি একই সাথে সাহসী, সৎ, রাজনীতি সচেতন, সংস্কৃতি সচেতন এবং প্রবল দেশপ্রেমিক। তাই ওসমান হাদী তরুণদের জন্য শুধু অনুপ্রেরণা নন, বরং বাস্তব জীবনে অনুসরণযোগ্য রোল মডেল।

সবশেষে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীকে হাইস্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে আগামী দিনের তরুণরা সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে উদ্যমী হবে।