ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’ Logo পাবিপ্রবিতে বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা Logo হামে শিশুমৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের Logo ডিআরইউ সঙ্গে পুপরোয়া’র মতবিনিময় সভা Logo শিক্ষকদের পাঠ মুল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামুলক করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় Logo মোহাম্মদপুরে আসাদুল হত্যার নেপথ্যে মারধরের পুরনো ক্ষোভ: ডিএমপি

জাবিতে হিম উৎসবে ‘অশোভন’ নৃত্য, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী হিম উৎসবের প্রথম দিনের একটি নৃত্য পরিবেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের মঞ্চে পরিবেশিত ওই নৃত্যকে ‘অশোভন’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শালীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন একাংশের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ‘পরম্পরায় আমরা’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের ‘পঞ্চরস যাত্রাপালা’ পর্বে মঞ্চে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। নৃত্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেন, নৃত্যের ভঙ্গি ও উপস্থাপন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শালীনতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সুমাইয়া শশী তার ফেসবুক পোস্টে উৎসবের আয়োজন ও পরিবেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি পোস্টে লিখেন

“জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান–সম্মান ক্ষুণ্ন করে এমন একটি উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। কী পরিমাণ রুচির অবক্ষয় হলে এ ধরনের যাত্রাপালার আয়োজন করা যায়! যারা এই আয়োজন করেছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মর্যাদার বিষয়টি একেবারেই বিবেচনায় নেয়নি।

এর আগেও এ ধরনের বিতর্কিত পরিবেশনা দেখা গেছে। এবার তো জাহাঙ্গীরনগরকে নিম্নরুচির যাত্রাপালার মঞ্চে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কি এ ধরনের অশালীন আয়োজনের জায়গা হতে পারে?”

এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে পরিবেশনা এমন হওয়া উচিত, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও শালীনতা বজায় থাকে।”

এ বিষয়ে উৎসব আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর শীত মৌসুমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এবারের উৎসবের একটি পরিবেশনা ঘিরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয়

বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

জাবিতে হিম উৎসবে ‘অশোভন’ নৃত্য, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

প্রকাশিত ১১:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী হিম উৎসবের প্রথম দিনের একটি নৃত্য পরিবেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের মঞ্চে পরিবেশিত ওই নৃত্যকে ‘অশোভন’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শালীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন একাংশের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ‘পরম্পরায় আমরা’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের ‘পঞ্চরস যাত্রাপালা’ পর্বে মঞ্চে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। নৃত্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেন, নৃত্যের ভঙ্গি ও উপস্থাপন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শালীনতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সুমাইয়া শশী তার ফেসবুক পোস্টে উৎসবের আয়োজন ও পরিবেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি পোস্টে লিখেন

“জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান–সম্মান ক্ষুণ্ন করে এমন একটি উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। কী পরিমাণ রুচির অবক্ষয় হলে এ ধরনের যাত্রাপালার আয়োজন করা যায়! যারা এই আয়োজন করেছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মর্যাদার বিষয়টি একেবারেই বিবেচনায় নেয়নি।

এর আগেও এ ধরনের বিতর্কিত পরিবেশনা দেখা গেছে। এবার তো জাহাঙ্গীরনগরকে নিম্নরুচির যাত্রাপালার মঞ্চে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কি এ ধরনের অশালীন আয়োজনের জায়গা হতে পারে?”

এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে পরিবেশনা এমন হওয়া উচিত, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও শালীনতা বজায় থাকে।”

এ বিষয়ে উৎসব আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর শীত মৌসুমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে এবারের উৎসবের একটি পরিবেশনা ঘিরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।