বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জীবনমান বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক দাবি তুলে ধরেছেন বাকৃবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাউল হক মিজু। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জনমত গড়ে তোলেন।
উপাচার্যের কাছে উপস্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জব্বারের মোড়ের হোটেলগুলোর খাবারের দাম কমানো ও মানোন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার, দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকা স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ ইন্স্যুরেন্স চালু করা।
এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে রেললাইন থাকা সত্ত্বেও স্টেশন বন্ধ থাকার বিষয়টিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে দ্রুত বাকৃবি রেলস্টেশন চালুর দাবি জানান। অন্তত আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালুর ওপর জোর দেন তিনি। আধুনিক কার্ডভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও মত দেন।
ক্যাম্পাসে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বৃক্ষনিধনের বিরোধিতা করে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
নিরাপত্তা ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার মান নিম্নমানের বা অপর্যাপ্ত। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে উচ্চমানের ক্যামেরা স্থাপন এবং মনিটরিং জোরদারের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি লন্ডন ব্রিজ এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা ও মাদক সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবেলায় আলোকসজ্জা ও নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলেন।
পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সময়োপযোগী নয়। রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বাকৃবিতেও ই-কার সেবা চালুর দাবি জানান তিনি, যা শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ করবে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অভিযোগ করেন, হেলথ কেয়ারে ওষুধ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। এ জন্য ডিজিটাল হেলথ কার্ড বা অ্যাপ চালুর মাধ্যমে সেবা গ্রহণের পূর্ণ রেকর্ড সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন। চিকিৎসার মানোন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ক্যাম্পাসের বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লিজ প্রদানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলেন।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হলে ‘জুলাই ব্যর্থ হবে’। প্রশাসনের প্রতি দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।


















