ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইউজিসির কঠোর আপত্তিতেও পদোন্নতির দাবি ববি কর্মকর্তাদের

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ত্রুটিযুক্ত নীতিমালা সংশোধন না করেই পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন বোর্ড আয়োজনের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বিদ্যমান নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিলেও, কর্মকর্তারা বর্তমান নিয়মেই পদোন্নতি চান। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে এক ধরনের অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বছরে চারবার আপগ্রেডেশন বোর্ড বসার নিয়ম থাকলেও গত দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। এতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের আশঙ্কা ও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন সংবিধি প্রণয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তাই বর্তমান অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি প্রদানে কোনো আইনি বাধা নেই। দ্রুত এই দাবি মানা না হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা বা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইউজিসির ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে: যেখানে অর্গানোগ্রাম লঙ্ঘনের মাধ্যমে পদ খালি না থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ৪র্থ গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ রাখা, জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এর শর্ত লঙ্ঘন করে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতির ভুল সময়সীমা নির্ধারণ করা, অনুমোদিত অর্গানোগ্রামের বাইরে ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি ও পর্যায়ন্নোয়ন প্রদান করায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একাধিকবার উচ্চতর গ্রেড প্রদান করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে।

চলতি মাসের ১লা জানুয়ারী ইউজিসি থেকে প্রেরিত এক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সার্ভিস রুলস কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং প্রতিটি পদের যোগ্যতা ও শর্তাবলি যাচাই করে ইউজিসি থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন,”আমি এ বিষয়ে ইউজিসির সাথে আলোচনা করেছি, কর্মকর্তাদের নীতিমালা এখনো প্রস্তাবিত আকারে রয়েছে। তবে আমাদের নিজেস্ব যে নীতিমালা আছে সেই নীতিমালার আলোকে দেওয়া যাবে কিন্তু সেই নীতিমালাটা সংবিধি আকারে লিখে ইউজিসিতে প্রেরণ করলে তারা এ বিষয়ে অনাপত্তিপত্র দিবে তখন কাজটা করা সম্ভব যাবে।”

উল্লেখ্য, পদোন্নতি ও গ্রেড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৬৪৯০/২০২৫) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

জুনায়েত/ববি

জনপ্রিয়

ইউজিসির কঠোর আপত্তিতেও পদোন্নতির দাবি ববি কর্মকর্তাদের

প্রকাশিত ১২:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ত্রুটিযুক্ত নীতিমালা সংশোধন না করেই পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন বোর্ড আয়োজনের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বিদ্যমান নীতিমালার বিভিন্ন ধারায় আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিলেও, কর্মকর্তারা বর্তমান নিয়মেই পদোন্নতি চান। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে এক ধরনের অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বছরে চারবার আপগ্রেডেশন বোর্ড বসার নিয়ম থাকলেও গত দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। এতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের আশঙ্কা ও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন সংবিধি প্রণয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তাই বর্তমান অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি প্রদানে কোনো আইনি বাধা নেই। দ্রুত এই দাবি মানা না হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা বা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইউজিসির ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে: যেখানে অর্গানোগ্রাম লঙ্ঘনের মাধ্যমে পদ খালি না থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ৪র্থ গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ রাখা, জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ এর শর্ত লঙ্ঘন করে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতির ভুল সময়সীমা নির্ধারণ করা, অনুমোদিত অর্গানোগ্রামের বাইরে ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি ও পর্যায়ন্নোয়ন প্রদান করায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একাধিকবার উচ্চতর গ্রেড প্রদান করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে।

চলতি মাসের ১লা জানুয়ারী ইউজিসি থেকে প্রেরিত এক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সার্ভিস রুলস কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং প্রতিটি পদের যোগ্যতা ও শর্তাবলি যাচাই করে ইউজিসি থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন,”আমি এ বিষয়ে ইউজিসির সাথে আলোচনা করেছি, কর্মকর্তাদের নীতিমালা এখনো প্রস্তাবিত আকারে রয়েছে। তবে আমাদের নিজেস্ব যে নীতিমালা আছে সেই নীতিমালার আলোকে দেওয়া যাবে কিন্তু সেই নীতিমালাটা সংবিধি আকারে লিখে ইউজিসিতে প্রেরণ করলে তারা এ বিষয়ে অনাপত্তিপত্র দিবে তখন কাজটা করা সম্ভব যাবে।”

উল্লেখ্য, পদোন্নতি ও গ্রেড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৬৪৯০/২০২৫) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

জুনায়েত/ববি