দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্য-ব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) পুনর্বাসন সক্ষমতা জোরদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) এবং ডিজঅ্যাবলড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (ডিআরআরএ)-কে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
সিআরপি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সমন্বিত পুনর্বাসন সেবা প্রদানকারী একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ডিআরআরএ ১৯৯৬ সাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করে আসছে।
এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে সিআরপির মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় পুনর্বাসন পেশাজীবী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট (বিএইচপিআই)-কে সহায়তা দিচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের আওতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও আবাসন ব্যয় বহন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে দক্ষ ও সনদপ্রাপ্ত থেরাপিস্ট তৈরির সক্ষমতা আরও জোরদার হবে। বিশেষায়িত পুনর্বাসন পেশাজীবীর ঘাটতির এই সময়ে এই উদ্যোগ দেশে দক্ষ থেরাপিস্ট তৈরিতে সহায়তা করবে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন সেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, এসডিজি ৪: মানসম্মত শিক্ষা এবং এসডিজি ১০: বৈষম্য হ্রাস অর্জনে অবদান রাখবে।
এছাড়া ডিআরআরএ-র মাধ্যমে ঢাকার ভাটারা বস্তিতে ছয় মাসব্যাপী একটি অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এখানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও জীবিকার সীমিত সুযোগ নিয়ে জীবনযাপন করছে।
এই কর্মসূচির আওতায় একজন প্রতিবন্ধী তরুণ ও তার পরিচর্যাকারীর পরিচালনায় একটি মোবাইল ফুড কোর্টের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। উদ্যোগটির অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী মায়েদের ‘বাংলা মা’ নামের একটি অনলাইন দোকান পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি জোরদারের পাশাপাশি ঘরে বসে টেকসই আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
এই ধরনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কমিউনিটির সহনশীলতা জোরদারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী উন্নয়নের মূলধারার বাইরে না থাকে।




















