ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতিকে টেনেহিঁচড়ে বের করার চেষ্টা আরেক সহ-সভাপতির Logo খোলা বাজারে ‘সোনালী’ নামে বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন জাতের মুরগি Logo রিয়েলমির গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন ফুটবল তারকা রাফিনহা Logo ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদী Logo জাবিতে ১৭ দিনব্যাপী জিওস্পেশাল ডাটা অ্যানালাইসিস প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু  Logo সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্তির অপেক্ষায় নোবিপ্রবির হাজার কোটি টাকার প্রকল্প  Logo বাকৃবিতে স্নাতক ১ম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু: প্রথম দিনে ভর্তি ৪৪৬ জন, ভর্তি বাতিল একজনের Logo সারাদেশে চলমান সহিংসতা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে জাবিতে লাল কার্ড প্রদর্শন  Logo বাকৃবিতে নিরাপত্তা শাখার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত Logo ঢাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে মানববন্ধন

খোলা বাজারে ‘সোনালী’ নামে বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন জাতের মুরগি

খোলা বাজারে ‘সোনালী’ নামে বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন জাতের মুরগি

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ফার্মের (বয়লার) মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০–২২০ টাকা, আর ‘সোনালী’ মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০–৩৮০ টাকা দরে। দাম, স্বাদ ও গুণগত পার্থক্যের কারণে ক্রেতাদের কাছে এই দুই ধরনের মুরগির চাহিদাও ভিন্ন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ফার্মের মুরগি দ্রুত বড় হয়, মাংস নরম এবং দাম তুলনামূলক কম—যার ফলে এটি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বেশি সহজলভ্য। অন্যদিকে সোনালী মুরগি তুলনামূলক ধীরে বড় হয়, মাংস শক্ত ও স্বাদে দেশি মুরগির কাছাকাছি—এ কারণে এর দামও বেশি এবং অনেক ক্রেতা এটিকেই পছন্দ করেন।

তবে এই পার্থক্যই এখন তৈরি করছে বিভ্রান্তি। বাজারে ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘সোনালী’ নামে বিক্রি হওয়া সব মুরগি আসলে সোনালী নয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কালার বার্ড বা অন্যান্য হাইব্রিড জাতের মুরগি সোনালী হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সোনালী মুরগির চাহিদা বেশি, কিন্তু সব সময় সরবরাহ থাকে না। তখন অনেক সময় অন্য জাতের মুরগিই সোনালী বলে বিক্রি করতে হয়।”

দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে ফার্মের মুরগি, সোনালী ও অন্যান্য হাইব্রিড জাতের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। তবে অনেক ক্রেতা বলছেন, রান্নার পর স্বাদ ও গঠনে পার্থক্য ধরা পড়ে। এক ক্রেতার ভাষায়, “সোনালী ভেবে কিনেছিলাম, কিন্তু খাওয়ার পর মনে হয়েছে স্বাদটা বয়লারের মতো।”

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ও চাহিদা-সরবরাহের অসামঞ্জস্যের সুযোগেই এই ধরনের অনিয়ম ঘটছে। এতে একদিকে ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সুপারশপগুলোতে ‘ক্লাসিক সোনালী’ নামে মুরগি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করা হলেও সেখানে উৎস, প্রজাতি ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ফলে অনেক ক্রেতা আস্থার কারণে কিছুটা বেশি দাম দিয়েও সেখান থেকে মুরগি কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

সব মিলিয়ে, ফার্মের মুরগি ও সোনালীর স্পষ্ট পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও খোলা বাজারে এই দুইয়ের মধ্যে বিভ্রান্তি এখন বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।

জনপ্রিয়

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতিকে টেনেহিঁচড়ে বের করার চেষ্টা আরেক সহ-সভাপতির

খোলা বাজারে ‘সোনালী’ নামে বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন জাতের মুরগি

প্রকাশিত ১০:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ফার্মের (বয়লার) মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০–২২০ টাকা, আর ‘সোনালী’ মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০–৩৮০ টাকা দরে। দাম, স্বাদ ও গুণগত পার্থক্যের কারণে ক্রেতাদের কাছে এই দুই ধরনের মুরগির চাহিদাও ভিন্ন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ফার্মের মুরগি দ্রুত বড় হয়, মাংস নরম এবং দাম তুলনামূলক কম—যার ফলে এটি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বেশি সহজলভ্য। অন্যদিকে সোনালী মুরগি তুলনামূলক ধীরে বড় হয়, মাংস শক্ত ও স্বাদে দেশি মুরগির কাছাকাছি—এ কারণে এর দামও বেশি এবং অনেক ক্রেতা এটিকেই পছন্দ করেন।

তবে এই পার্থক্যই এখন তৈরি করছে বিভ্রান্তি। বাজারে ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘সোনালী’ নামে বিক্রি হওয়া সব মুরগি আসলে সোনালী নয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে কালার বার্ড বা অন্যান্য হাইব্রিড জাতের মুরগি সোনালী হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সোনালী মুরগির চাহিদা বেশি, কিন্তু সব সময় সরবরাহ থাকে না। তখন অনেক সময় অন্য জাতের মুরগিই সোনালী বলে বিক্রি করতে হয়।”

দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে ফার্মের মুরগি, সোনালী ও অন্যান্য হাইব্রিড জাতের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। তবে অনেক ক্রেতা বলছেন, রান্নার পর স্বাদ ও গঠনে পার্থক্য ধরা পড়ে। এক ক্রেতার ভাষায়, “সোনালী ভেবে কিনেছিলাম, কিন্তু খাওয়ার পর মনে হয়েছে স্বাদটা বয়লারের মতো।”

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব ও চাহিদা-সরবরাহের অসামঞ্জস্যের সুযোগেই এই ধরনের অনিয়ম ঘটছে। এতে একদিকে ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সুপারশপগুলোতে ‘ক্লাসিক সোনালী’ নামে মুরগি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করা হলেও সেখানে উৎস, প্রজাতি ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ফলে অনেক ক্রেতা আস্থার কারণে কিছুটা বেশি দাম দিয়েও সেখান থেকে মুরগি কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

সব মিলিয়ে, ফার্মের মুরগি ও সোনালীর স্পষ্ট পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও খোলা বাজারে এই দুইয়ের মধ্যে বিভ্রান্তি এখন বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।