‘বাংলাদেশের সুর: মাটি ও মানুষ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘জাহাঙ্গীরনগর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। দেশীয় স্বাধীন, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রচার এবং থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে এই উৎসবের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলা থিয়েটার’।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৮টায় জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উৎসবের পর্দা নামে।
১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল জহির রায়হান মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম আসরে বাংলাদেশের নির্মাতা, দর্শক ও তরুণ মেধাকে জাতীয় শিল্পাঙ্গনে সংযুক্ত করার প্রয়াস চালানো হয়। উৎসবের ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম।
বাংলা থিয়েটারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের শেষ দিনে ছিল অভিনয়বিষয়ক মাস্টারক্লাস, একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন এবং সমাপনী অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান অভিনয়বিষয়ক মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন। পরে ‘আওয়ার স্টোরিজ’ শীর্ষক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
এর আগে ফেস্টিভ্যালের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ টিম। টিমের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী মাশা ইসলাম এবং লেখক সামিউল ভূঁইয়া দর্শকদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিন দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসবে সহযোগী সংগঠন হিসেবে যুক্ত ছিল—গ্রন্থাশ্রম, কাব্যিক স্কুল অব আর্টস, থার্মোকল জেইউ, সিএলসি ফিল্ম ক্লাব, মায়াদেশ এবং ণই প্রকাশন।
উৎসবজুড়ে নির্দেশনা, প্রযোজনা ও অভিনয়বিষয়ক বিভিন্ন মাস্টারক্লাসের পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় প্রশংসিত পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া এই ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন জাবির সাবেক শিক্ষার্থী অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, আবু রেজওয়ান ইউরেকা, আইনুন নাহার পুতুল এবং অবন্তী সিঁথি।
উৎসবে শিক্ষার্থী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানসহ অতিথিরা অংশগ্রহণকারী নির্মাতাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
ফেস্টিভ্যালের চিফ অর্গানাইজার মেহরাব সিফাত বলেন, ‘ফেস্টিভ্যালে তরুণ ও প্রবীণ চলচ্চিত্রকারদের শর্ট ফিল্ম এবং ফিচার ফিল্ম প্রদর্শিত হয়েছে। জাবির জন্য আলাদা সেগমেন্টে ৩টি শর্ট ফিল্ম দেখানো হয়, যার মধ্যে ‘ইনতেজার’ জুলাই অভ্যুত্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে।’


















