ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

হাবিপ্রবির টিএসসিতে এসি বসানো হলেও কাটেনি আসন সংকট, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) শিক্ষার্থীদের অবসর, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ভবনটিতে আধুনিক এয়ার কন্ডিশনার (এসি) স্থাপন করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না। এছাড়াও ৫ তলা টিএসসিতে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ শুধুমাত্র নিচ তলা

প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী টিএসসিতে সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু সেখানে বসার জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে। অনেকে দাঁড়িয়ে, দেয়ালে হেলান দিয়ে কিংবা মেঝেতে বসে সময় কাটাতে বাধ্য হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসি বসানো হলেও প্রয়োজনীয় আসন না থাকায় এই উন্নয়ন কার্যকর হচ্ছে না।

শিক্ষার্থী আবরার বলেন, এসি বসানো ভালো উদ্যোগ, কিন্তু বসার জায়গা না থাকলে এই আরাম উপভোগের সুযোগই থাকে না।

শিক্ষার্থী কাইয়ুম বলেন, টিএসসিতে ঢুকলে দেখি নতুন এসি চলছে, কিন্তু বসার জায়গা নেই। আমরা আশা করেছিলাম প্রথমে চেয়ার বাড়ানো হবে। কিন্তু আসন না থাকায় হতাশা নিয়ে হলে ফিরতে হয়।

আরেক শিক্ষার্থী হিমেল আহামেদ বলেন, “টিএসসি আমাদের পড়াশোনা ও আড্ডার জায়গা। বন্ধুদের সঙ্গে একটু বসে কথা বলার মতো জায়গা নেই। অথচ এসি বসানো হয়েছে, যা এখন প্রয়োজনের তুলনায় বিলাসিতা মনে হয়।”

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ লিখেছেন—“চেয়ার কম, বসার জায়গা নাই, কিন্তু ঘর ঠান্ডা! এই উন্নয়ন কি আসলেই আমাদের দরকার ছিল?”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান বলেন, “টিএসসিতে এসি লাগানো অপরিকল্পিত নয়। ছয় মাস আগেই লাগানোর কথা ছিল, আমরা ফিজিবিলিটি এনালাইসিস করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে এসি স্থাপন করেছি। আগের চেয়ারগুলো কোথায় গেল, কী হয়েছে—এসব বিশ্লেষণের পরই চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে শীঘ্রই।”

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সংস্কার পরিকল্পনায় তাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এছাড়াও এসি লাগানোর পর শুক্রবার বন্ধ রাখাসহ টিএসসি খোলা রাখার সময়সীমা বেধে দিয়েছে প্রশাসন। টিএসসি পরিণত হয়েছে লাইব্রেরিতে। চেয়ার ধরে রাখা ছাড়া জায়গা পাওয়া যায় না। এছাড়াও খালি পায়ে টেইলসের মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ পা দিয়ে রাখা যায় না। সামনে আসছে শীতকাল, সেন্ডেল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো দেখছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরাও আসন সংকটকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছেন। শীতকাল ঘনিয়ে এলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয় বলে জানান তারা।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

হাবিপ্রবির টিএসসিতে এসি বসানো হলেও কাটেনি আসন সংকট, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত ০৩:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) শিক্ষার্থীদের অবসর, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ভবনটিতে আধুনিক এয়ার কন্ডিশনার (এসি) স্থাপন করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না। এছাড়াও ৫ তলা টিএসসিতে ১২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ শুধুমাত্র নিচ তলা

প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী টিএসসিতে সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু সেখানে বসার জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে। অনেকে দাঁড়িয়ে, দেয়ালে হেলান দিয়ে কিংবা মেঝেতে বসে সময় কাটাতে বাধ্য হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসি বসানো হলেও প্রয়োজনীয় আসন না থাকায় এই উন্নয়ন কার্যকর হচ্ছে না।

শিক্ষার্থী আবরার বলেন, এসি বসানো ভালো উদ্যোগ, কিন্তু বসার জায়গা না থাকলে এই আরাম উপভোগের সুযোগই থাকে না।

শিক্ষার্থী কাইয়ুম বলেন, টিএসসিতে ঢুকলে দেখি নতুন এসি চলছে, কিন্তু বসার জায়গা নেই। আমরা আশা করেছিলাম প্রথমে চেয়ার বাড়ানো হবে। কিন্তু আসন না থাকায় হতাশা নিয়ে হলে ফিরতে হয়।

আরেক শিক্ষার্থী হিমেল আহামেদ বলেন, “টিএসসি আমাদের পড়াশোনা ও আড্ডার জায়গা। বন্ধুদের সঙ্গে একটু বসে কথা বলার মতো জায়গা নেই। অথচ এসি বসানো হয়েছে, যা এখন প্রয়োজনের তুলনায় বিলাসিতা মনে হয়।”

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ লিখেছেন—“চেয়ার কম, বসার জায়গা নাই, কিন্তু ঘর ঠান্ডা! এই উন্নয়ন কি আসলেই আমাদের দরকার ছিল?”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান বলেন, “টিএসসিতে এসি লাগানো অপরিকল্পিত নয়। ছয় মাস আগেই লাগানোর কথা ছিল, আমরা ফিজিবিলিটি এনালাইসিস করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে এসি স্থাপন করেছি। আগের চেয়ারগুলো কোথায় গেল, কী হয়েছে—এসব বিশ্লেষণের পরই চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে শীঘ্রই।”

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সংস্কার পরিকল্পনায় তাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এছাড়াও এসি লাগানোর পর শুক্রবার বন্ধ রাখাসহ টিএসসি খোলা রাখার সময়সীমা বেধে দিয়েছে প্রশাসন। টিএসসি পরিণত হয়েছে লাইব্রেরিতে। চেয়ার ধরে রাখা ছাড়া জায়গা পাওয়া যায় না। এছাড়াও খালি পায়ে টেইলসের মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ পা দিয়ে রাখা যায় না। সামনে আসছে শীতকাল, সেন্ডেল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো দেখছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরাও আসন সংকটকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছেন। শীতকাল ঘনিয়ে এলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয় বলে জানান তারা।