ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’ Logo পাবিপ্রবিতে বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা Logo হামে শিশুমৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের Logo ডিআরইউ সঙ্গে পুপরোয়া’র মতবিনিময় সভা Logo শিক্ষকদের পাঠ মুল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামুলক করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় Logo মোহাম্মদপুরে আসাদুল হত্যার নেপথ্যে মারধরের পুরনো ক্ষোভ: ডিএমপি

জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) নবাব ফয়জুন্নেসা হলে গাঁজাসহ এক ছাত্রীকে হাতে-নাতে ধরে হল প্রশাসন। অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর নাম ইনিশা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক ছাত্রী।

শনিবার(১৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে হলের ১১৬ নম্বর কক্ষ থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। নবাব ফয়জুন্নেসা হলের যে কক্ষটিতে অভিযান চালানো হয়, সেটি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনুজা তিথির। ইনিশা ওই কক্ষে এসে মাদক সেবন করছিলেন।

নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের জিএস সুমাইয়া খানমের অভিযোগের ভিত্তিতে হলের ওয়ার্ডেন সুলতানা আক্তার ওই কক্ষে অভিযান চালান। অভিযানকালে ইনিশাকে মাদক সহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বেগম খালেদা জিয়া হলের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা তুজ যোহরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত ইনিশাকে নিয়ে যান।

ঘটনার বিবরণে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সেক্রেটারি সুমাইয়া খানম নিশি বলেন,”১১৬ নম্বর রুমে দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ এ তথ্য পেয়ে প্রথমে কর্মচারী খালাকে পাঠাই খোঁজ নিতে; তিনি গিয়ে দেখেন ভেতরে ধূমপান চলছে। এরপর আমি নিজে গেলে দেখি খালেদা জিয়া হলের জিএসসহ আরও কয়েকজন আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত, কিন্তু শুরুতে তারা আমাকে রুমে ঢুকতে দেয়নি। পরে হল সুপার ম্যামকে নিয়ে গেলে দরজা খোলা হয়। এসময় তারা পারিবারিক সমস্যার কথা বলে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।”

“তবে রুমে প্রবেশ করে আমরা সিগারেট, গাঁজা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় উপকরণ পাই। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রভোস্ট স্যারকে জানাই। তিনি এসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন এবং রুম থেকে পাওয়া সবকিছু তাকে দেখানো হয়” বলে জানান তিনি।

মাদক সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “সে মাদক সেবন শুধু সিগারেট খাচ্ছিল। তার মানসিক সমস্যা বিদ্যমান ছিল এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করছিল বিধায় আমি আমার সাথে আমার বাসায় নিয়ে আসি। এখন তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ” মেয়েটি পার্শ্ববর্তী বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হল সংসদকে জানানো হলে তাদের সেক্রেটারি এসে তাকে নিয়ে যান। এরপর রুমটি তালাবদ্ধ করা হয়, কারণ এ রুমের মূল শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না।”

তিনি আরও বলেন,”আমাকে অবহিত করা হলে আমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সেখানে গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাই। আমরা সেগুলো জব্দ করে হল অফিসে নিয়ে আসি এবং বিষয়টি প্রক্টর মহোদয়কে জানাই। তিনি আমাদের তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টকেও প্রমাণসহ অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি”

খালেদা জিয়া হলের জিএসের হস্তক্ষেপের বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মনজুর ইলাহী বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলে নিয়মিত থাকে না। হল জিএস ফাতেমা তুজ জোহরাএ আমাদের হলের দায়িত্বে থাকলেও সে এই হলে নিয়মিত না। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর বা আমবাগানে তার বাসা আছে এবং আজকের ঘটনার পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে হলে না এসে তাদের বাসায় চলে গিয়েছে বলে হলের দাযিত্বরতদের থেকে জানতে পেরেছি।”

এদিকে হল ওয়ার্ডেন অধ্যাপক ড. সুলতানা আক্তারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তিনদিনের মধ্য রিপোর্ট পেশ করার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবী, অভিযুক্তদের রুম থেকে ওর আগেও মাদকের আলামত পাওয়া গেছে। তাই তাদের জন্য বরাদ্দ নির্ধারিত আসন বাতিল করতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “এ বিষয়ে হল প্রশাসন ঘটনার সত্যতা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করবে।”

জনপ্রিয়

বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত ০৯:০৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) নবাব ফয়জুন্নেসা হলে গাঁজাসহ এক ছাত্রীকে হাতে-নাতে ধরে হল প্রশাসন। অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর নাম ইনিশা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক ছাত্রী।

শনিবার(১৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে হলের ১১৬ নম্বর কক্ষ থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। নবাব ফয়জুন্নেসা হলের যে কক্ষটিতে অভিযান চালানো হয়, সেটি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনুজা তিথির। ইনিশা ওই কক্ষে এসে মাদক সেবন করছিলেন।

নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের জিএস সুমাইয়া খানমের অভিযোগের ভিত্তিতে হলের ওয়ার্ডেন সুলতানা আক্তার ওই কক্ষে অভিযান চালান। অভিযানকালে ইনিশাকে মাদক সহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বেগম খালেদা জিয়া হলের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা তুজ যোহরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত ইনিশাকে নিয়ে যান।

ঘটনার বিবরণে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সেক্রেটারি সুমাইয়া খানম নিশি বলেন,”১১৬ নম্বর রুমে দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ এ তথ্য পেয়ে প্রথমে কর্মচারী খালাকে পাঠাই খোঁজ নিতে; তিনি গিয়ে দেখেন ভেতরে ধূমপান চলছে। এরপর আমি নিজে গেলে দেখি খালেদা জিয়া হলের জিএসসহ আরও কয়েকজন আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত, কিন্তু শুরুতে তারা আমাকে রুমে ঢুকতে দেয়নি। পরে হল সুপার ম্যামকে নিয়ে গেলে দরজা খোলা হয়। এসময় তারা পারিবারিক সমস্যার কথা বলে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।”

“তবে রুমে প্রবেশ করে আমরা সিগারেট, গাঁজা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় উপকরণ পাই। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রভোস্ট স্যারকে জানাই। তিনি এসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন এবং রুম থেকে পাওয়া সবকিছু তাকে দেখানো হয়” বলে জানান তিনি।

মাদক সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “সে মাদক সেবন শুধু সিগারেট খাচ্ছিল। তার মানসিক সমস্যা বিদ্যমান ছিল এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করছিল বিধায় আমি আমার সাথে আমার বাসায় নিয়ে আসি। এখন তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ” মেয়েটি পার্শ্ববর্তী বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হল সংসদকে জানানো হলে তাদের সেক্রেটারি এসে তাকে নিয়ে যান। এরপর রুমটি তালাবদ্ধ করা হয়, কারণ এ রুমের মূল শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না।”

তিনি আরও বলেন,”আমাকে অবহিত করা হলে আমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সেখানে গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাই। আমরা সেগুলো জব্দ করে হল অফিসে নিয়ে আসি এবং বিষয়টি প্রক্টর মহোদয়কে জানাই। তিনি আমাদের তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টকেও প্রমাণসহ অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি”

খালেদা জিয়া হলের জিএসের হস্তক্ষেপের বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মনজুর ইলাহী বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলে নিয়মিত থাকে না। হল জিএস ফাতেমা তুজ জোহরাএ আমাদের হলের দায়িত্বে থাকলেও সে এই হলে নিয়মিত না। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর বা আমবাগানে তার বাসা আছে এবং আজকের ঘটনার পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে হলে না এসে তাদের বাসায় চলে গিয়েছে বলে হলের দাযিত্বরতদের থেকে জানতে পেরেছি।”

এদিকে হল ওয়ার্ডেন অধ্যাপক ড. সুলতানা আক্তারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তিনদিনের মধ্য রিপোর্ট পেশ করার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবী, অভিযুক্তদের রুম থেকে ওর আগেও মাদকের আলামত পাওয়া গেছে। তাই তাদের জন্য বরাদ্দ নির্ধারিত আসন বাতিল করতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “এ বিষয়ে হল প্রশাসন ঘটনার সত্যতা ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করবে।”