ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

শিবিরের দাবিতে অবশেষে ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর ঘোষণা ইবি প্রশাসনের

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৯:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২১ বার পঠিত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছাত্রশিবিরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক সপ্তাহের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার (২৬ অক্টোবর) ১২ টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেয় তারা।

এর আগে ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশন করার দাবি জানিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সাত দিনের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনে পদক্ষেপে না নিলে প্রশাসন অচল করে দেওয়া হুঁশিয়ারি দেয় ছাত্রশিবির। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে তাদের সমন্বয়মূলক আলোচনার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক বসে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজস্ব ইউনিক আইডি দেয়া হবে। যেখানে তার যাবতীয় পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। যার মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে বসেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভাগ ফি, হল ফি, পরিবহন ফিসহ সকল ধরনের পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহসহ উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী ও সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও পেমেন্ট সিস্টেম ইনচার্জ এ.এন.এম তাওহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহ ব্রাঞ্চের প্রধান এম রুহুল আমিন, মনিরুল ইসলাম ও শেখপাড়া বাজার সাব-ব্রাঞ্চের ইনচার্জ মোহাম্মদ রবিউল। এছাড়াও ছাত্রপ্রতিনিধিদের ছাত্রশিবিরের সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও পেমেন্ট সিস্টেম ইনচার্জ এ.এন.এম তাওহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যাতে ফ্রি অফ কস্ট তাদের টিউশন ফি দিতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। এবং অতি দ্রুতই হয়তো বা এটা বাস্তবে দেখা যাবে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা যেকোনো জায়গা থেকে এই সেবাটা নিতে পারবে। এর সাথে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসার আমরা এটিএম, সিআরএম, বাংলা কিউআর কোডসহ অন্যান্য সকল সেবাগুলো আমরা এখানে দিতে চাচ্ছি। যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা অটোমেশনের জায়গায় নিয়ে যেতে পারি।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটাল করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। স্মারকলিপিও দিয়েছিলাম অনেক আগেই। সর্বশেষ কর্মসূচিতে আমরা প্রশাসনকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এক্সিকিউশন হবে।

ব্যাংকের সাথে সমন্বয়ের বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে আমরাই কথা বলেছিলাম। সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটা ব্যাংকের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। সবাই সম্ভবত প্রশাসনের সাথে কথা বলেছে আমি যতটুকু জানি। তাদের সাথে ইসলামী ব্যাংকও এসেছে, প্রশাসনের সাথে বসেছে। হয়তো একটা চুক্তিতে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। আশা করছি যে আউটপুটটা আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে দেখতে পাবো।

উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ছাত্রদের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এবং আমরা বর্তমান যুগের চাহিদা অনুসারে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক এগিয়ে এসেছে। আমরা অতি শীঘ্রই ইসলামী ব্যাংকের সাথে ডিজিটালাইজেশন অব পেমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা তাদের সাথে নিয়মতান্ত্রিক প্রসেসে অগ্রসর হবো। এক সপ্তাহের মধ্যেই ওনারা পাইলটিং কাজটা শুরু করবেন বলে জানান তারা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো যে, ছাত্রদের দীর্ঘদিনের দাবী এটি পূরণ হতে যাচ্ছে। এটি হলো আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

শিবিরের দাবিতে অবশেষে ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর ঘোষণা ইবি প্রশাসনের

প্রকাশিত ০৯:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছাত্রশিবিরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক সপ্তাহের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার (২৬ অক্টোবর) ১২ টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেয় তারা।

এর আগে ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশন করার দাবি জানিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সাত দিনের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনে পদক্ষেপে না নিলে প্রশাসন অচল করে দেওয়া হুঁশিয়ারি দেয় ছাত্রশিবির। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে তাদের সমন্বয়মূলক আলোচনার সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক বসে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজস্ব ইউনিক আইডি দেয়া হবে। যেখানে তার যাবতীয় পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। যার মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে বসেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভাগ ফি, হল ফি, পরিবহন ফিসহ সকল ধরনের পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহসহ উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী ও সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও পেমেন্ট সিস্টেম ইনচার্জ এ.এন.এম তাওহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহ ব্রাঞ্চের প্রধান এম রুহুল আমিন, মনিরুল ইসলাম ও শেখপাড়া বাজার সাব-ব্রাঞ্চের ইনচার্জ মোহাম্মদ রবিউল। এছাড়াও ছাত্রপ্রতিনিধিদের ছাত্রশিবিরের সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও পেমেন্ট সিস্টেম ইনচার্জ এ.এন.এম তাওহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যাতে ফ্রি অফ কস্ট তাদের টিউশন ফি দিতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। এবং অতি দ্রুতই হয়তো বা এটা বাস্তবে দেখা যাবে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা যেকোনো জায়গা থেকে এই সেবাটা নিতে পারবে। এর সাথে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসার আমরা এটিএম, সিআরএম, বাংলা কিউআর কোডসহ অন্যান্য সকল সেবাগুলো আমরা এখানে দিতে চাচ্ছি। যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা অটোমেশনের জায়গায় নিয়ে যেতে পারি।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটাল করার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। স্মারকলিপিও দিয়েছিলাম অনেক আগেই। সর্বশেষ কর্মসূচিতে আমরা প্রশাসনকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এক্সিকিউশন হবে।

ব্যাংকের সাথে সমন্বয়ের বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে আমরাই কথা বলেছিলাম। সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটা ব্যাংকের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। সবাই সম্ভবত প্রশাসনের সাথে কথা বলেছে আমি যতটুকু জানি। তাদের সাথে ইসলামী ব্যাংকও এসেছে, প্রশাসনের সাথে বসেছে। হয়তো একটা চুক্তিতে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। আশা করছি যে আউটপুটটা আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে দেখতে পাবো।

উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ছাত্রদের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এবং আমরা বর্তমান যুগের চাহিদা অনুসারে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক এগিয়ে এসেছে। আমরা অতি শীঘ্রই ইসলামী ব্যাংকের সাথে ডিজিটালাইজেশন অব পেমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা তাদের সাথে নিয়মতান্ত্রিক প্রসেসে অগ্রসর হবো। এক সপ্তাহের মধ্যেই ওনারা পাইলটিং কাজটা শুরু করবেন বলে জানান তারা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো যে, ছাত্রদের দীর্ঘদিনের দাবী এটি পূরণ হতে যাচ্ছে। এটি হলো আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়।