ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

নানা কর্মসূচিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো বিশ্ব দর্শন দিবস

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব দর্শন দিবস ২০২৫’ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে পায়রা অবমুক্ত ও কেক কাটা শেষে নতুন কলা ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম সভার সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ও প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ‘বিশ্ব দর্শন দিবস ২০২৫’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. তারিফুল ইসলাম।

সবাইকে বিশ্ব দর্শন দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই স্যার দের প্রতি যারা এই ছোট ছোট মানুষদের আমন্ত্রণে সারা দিয়ে আমদের কৃতজ্ঞ ও সম্মানিত করেছে। আমি সবসময় আমার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনেক কথাই বলি, তাই আজ আর কিছু বলবো না। আজ স্যারদের কথা শুনবো।

প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দর্শনের শিক্ষার্থী যারা যত বেশি অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে সমাজকে দেখবে ততো বেশি সমাজে সাম্য আনতে এবং অসমতা দূর করতে সক্ষম হবে। প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্ম সবকিছুই সমাজের কল্যাণের জন্য। আমি আশা করি এই দর্শনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে নোয়াম চমস্কির মতো ব্যাক্তিত্ব বের হয়ে আসবে এবং আজকের বিভাজিত সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা করে শান্তি ও সমৃদ্ধির সমাজ গড়তে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, বিশ্বে কোনকিছুই কারণ ছাড়া ঘটে না। বিজ্ঞানের দ্বারা সবকিছু পর্যবেক্ষণ ও পরিক্ষণের মাধ্যমে বের করা সম্ভব হয় না। তখন দর্শনের মাধ্যমে তার যৌক্তিক কারণ বের করা হয়। সুতরাং বিজ্ঞানের যেখানে সীমাবদ্ধতা থাকে সেখানে দর্শন কিছু উত্তর নিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, একজন মানুষ যেমন একইসাথে বাবা, ভাই ও শিক্ষক হতে পারে তেমনি একজন মানুষ একইসাথে দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও ধার্মিক হতে পারে। তবে তার ভূমিকা ও প্রেক্ষিত ভিন্ন হবে।

ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রতিটা বিভাগের শুরুই হয় দর্শন দিয়ে। সুতরাং দর্শন দিবসের অর্থ শুধু দর্শন বিভাগ খোলা না। কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলতে বসে তখন জাতিসংঘ একটি দিবস ঘোষণা করে তার গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য। বাবা-মা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও আজকের সমাজে তাদের গুরুত্ব কমে যাওয়ায় বাবা দিবস বা মা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে দর্শনের মতো বিষয়ের গুরুত্ব আজকের বিশ্বে কমে যাচ্ছে বিধায় ইউনেস্কো বিশ্ব দর্শন দিবস ঘোষণা করেছে।

আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মো. জাকির হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দর্শন বিভাগের প্রভাষক শায়লা ইসলাম নীপা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রভাষক ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মো. খাইরুল ইসলাম। এর আগে দর্শন বিভাগের প্রভাষক শুভ চন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত ‘বিশ্ব দর্শন দিবস স্মরণিকা–২০২৫’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব দর্শন দিবস পালন শুরু করে। ২০০৫ সালে প্রতিবছর নভেম্বর মাসে দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

নানা কর্মসূচিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো বিশ্ব দর্শন দিবস

প্রকাশিত ০৩:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব দর্শন দিবস ২০২৫’ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে পায়রা অবমুক্ত ও কেক কাটা শেষে নতুন কলা ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম সভার সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ও প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ‘বিশ্ব দর্শন দিবস ২০২৫’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. তারিফুল ইসলাম।

সবাইকে বিশ্ব দর্শন দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই স্যার দের প্রতি যারা এই ছোট ছোট মানুষদের আমন্ত্রণে সারা দিয়ে আমদের কৃতজ্ঞ ও সম্মানিত করেছে। আমি সবসময় আমার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনেক কথাই বলি, তাই আজ আর কিছু বলবো না। আজ স্যারদের কথা শুনবো।

প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দর্শনের শিক্ষার্থী যারা যত বেশি অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে সমাজকে দেখবে ততো বেশি সমাজে সাম্য আনতে এবং অসমতা দূর করতে সক্ষম হবে। প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্ম সবকিছুই সমাজের কল্যাণের জন্য। আমি আশা করি এই দর্শনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে নোয়াম চমস্কির মতো ব্যাক্তিত্ব বের হয়ে আসবে এবং আজকের বিভাজিত সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা করে শান্তি ও সমৃদ্ধির সমাজ গড়তে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, বিশ্বে কোনকিছুই কারণ ছাড়া ঘটে না। বিজ্ঞানের দ্বারা সবকিছু পর্যবেক্ষণ ও পরিক্ষণের মাধ্যমে বের করা সম্ভব হয় না। তখন দর্শনের মাধ্যমে তার যৌক্তিক কারণ বের করা হয়। সুতরাং বিজ্ঞানের যেখানে সীমাবদ্ধতা থাকে সেখানে দর্শন কিছু উত্তর নিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, একজন মানুষ যেমন একইসাথে বাবা, ভাই ও শিক্ষক হতে পারে তেমনি একজন মানুষ একইসাথে দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও ধার্মিক হতে পারে। তবে তার ভূমিকা ও প্রেক্ষিত ভিন্ন হবে।

ইমেরিটাস প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রতিটা বিভাগের শুরুই হয় দর্শন দিয়ে। সুতরাং দর্শন দিবসের অর্থ শুধু দর্শন বিভাগ খোলা না। কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলতে বসে তখন জাতিসংঘ একটি দিবস ঘোষণা করে তার গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য। বাবা-মা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও আজকের সমাজে তাদের গুরুত্ব কমে যাওয়ায় বাবা দিবস বা মা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে দর্শনের মতো বিষয়ের গুরুত্ব আজকের বিশ্বে কমে যাচ্ছে বিধায় ইউনেস্কো বিশ্ব দর্শন দিবস ঘোষণা করেছে।

আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মো. জাকির হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দর্শন বিভাগের প্রভাষক শায়লা ইসলাম নীপা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রভাষক ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মো. খাইরুল ইসলাম। এর আগে দর্শন বিভাগের প্রভাষক শুভ চন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত ‘বিশ্ব দর্শন দিবস স্মরণিকা–২০২৫’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব দর্শন দিবস পালন শুরু করে। ২০০৫ সালে প্রতিবছর নভেম্বর মাসে দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।