ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার Logo শুধু নিয়ন্ত্রন নয়, ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব  Logo নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সাংবাদিকদের পিআইবির প্রশিক্ষণ Logo ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলোর সরাসরি ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ)।

আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিসিএ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তামাক ব্যবসায়ী কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির যৌথ বিবৃতি প্রমাণ করে যে তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রণীত আইনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।

তারা আরো জানায়, তামাক কোম্পানি কখনোই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অংশীজন হতে পারে না, কারণ তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং জনস্বাস্থ্যের স্বার্থ পরস্পর সম্পূর্ণ বিরোধী। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (ডাব্লিউএইচও এফসিটিসি)-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অনুচ্ছেদ ৫.৩ বাস্তবায়নে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাধ্য। যেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে তামাক শিল্পকে দূরে রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তামাক কোম্পানি তাদের বিবৃতিতে কর্মসংস্থান, রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ পরিবেশ ও অবৈধ বাজার বৃদ্ধির যে দাবি তুলেছে তা বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণবিহীন। দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের ফলে ধূমপানের হার হ্রাস পায়, তামাকজনিত রোগে মৃত্যু কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের স্বাস্থ্যব্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ধোঁয়াবিহীন নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যকে তথাকথিত ‘কম ক্ষতিকর বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করাও একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি। এই পণ্যগুলো মূলত শিশু ও তরুণদের নিকোটিনে আসক্ত করার নতুন কৌশল, যা ভবিষ্যতে সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়িয়ে দেবে। বহু দেশে এ ধরনের পণ্যের কারণে তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তামাক কোম্পানি যাদের জীবিকার কথা বলছে বাস্তবে তারাই তামাক চাষ, উৎপাদন ও ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক ক্ষতির শিকার। প্রতিবছর বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে লক্ষাধিক মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং বিপুল অর্থ চিকিৎসা ব্যয়ে ব্যয়িত হয়। যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া সিগারেট কোম্পানিগুলো প্যাকেটে লিখিত মুল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে। তরুনদের নিকট বিক্রয় অব্যাহত রাখতে খুচরা শলাকা বিক্রি বন্ধের বিরোধীতা করছে।

বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস সরকারের কাছে জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছে—তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির সব ধরনের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, ডাব্লিউএইচও এফসিটিসি-এর অনুচ্ছেদ ৫.৩ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত অনুমোদন ও কার্যকর করতে হবে। জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আমরা বিশ্বাস করি একটি শক্তিশালী, প্রমাণভিত্তিক ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনই একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিদাতারা হলেন-বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটসের আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি সৈয়দ মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা রহমান, স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশের মডারেটর আমিনুল ইসলাম সুজন, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ ফারহানা জামান লিজা, উন্নয়ন কর্মী আবু রায়হান, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ সামিউল হাসান সজীব, সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল ও পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী সামিউল হাসান সজীব।

জনপ্রিয়

১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার 

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ

প্রকাশিত ০৮:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলোর সরাসরি ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ)।

আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিসিএ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তামাক ব্যবসায়ী কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানির যৌথ বিবৃতি প্রমাণ করে যে তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রণীত আইনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।

তারা আরো জানায়, তামাক কোম্পানি কখনোই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অংশীজন হতে পারে না, কারণ তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং জনস্বাস্থ্যের স্বার্থ পরস্পর সম্পূর্ণ বিরোধী। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (ডাব্লিউএইচও এফসিটিসি)-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অনুচ্ছেদ ৫.৩ বাস্তবায়নে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাধ্য। যেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া থেকে তামাক শিল্পকে দূরে রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তামাক কোম্পানি তাদের বিবৃতিতে কর্মসংস্থান, রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ পরিবেশ ও অবৈধ বাজার বৃদ্ধির যে দাবি তুলেছে তা বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণবিহীন। দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের ফলে ধূমপানের হার হ্রাস পায়, তামাকজনিত রোগে মৃত্যু কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের স্বাস্থ্যব্যয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ধোঁয়াবিহীন নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যকে তথাকথিত ‘কম ক্ষতিকর বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করাও একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি। এই পণ্যগুলো মূলত শিশু ও তরুণদের নিকোটিনে আসক্ত করার নতুন কৌশল, যা ভবিষ্যতে সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়িয়ে দেবে। বহু দেশে এ ধরনের পণ্যের কারণে তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তামাক কোম্পানি যাদের জীবিকার কথা বলছে বাস্তবে তারাই তামাক চাষ, উৎপাদন ও ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক ক্ষতির শিকার। প্রতিবছর বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে লক্ষাধিক মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং বিপুল অর্থ চিকিৎসা ব্যয়ে ব্যয়িত হয়। যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া সিগারেট কোম্পানিগুলো প্যাকেটে লিখিত মুল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে। তরুনদের নিকট বিক্রয় অব্যাহত রাখতে খুচরা শলাকা বিক্রি বন্ধের বিরোধীতা করছে।

বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস সরকারের কাছে জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছে—তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির সব ধরনের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, ডাব্লিউএইচও এফসিটিসি-এর অনুচ্ছেদ ৫.৩ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত অনুমোদন ও কার্যকর করতে হবে। জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আমরা বিশ্বাস করি একটি শক্তিশালী, প্রমাণভিত্তিক ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনই একটি সুস্থ, উৎপাদনশীল ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিদাতারা হলেন-বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটসের আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি সৈয়দ মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা রহমান, স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশের মডারেটর আমিনুল ইসলাম সুজন, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ ফারহানা জামান লিজা, উন্নয়ন কর্মী আবু রায়হান, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ সামিউল হাসান সজীব, সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল ও পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী সামিউল হাসান সজীব।