ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার Logo শুধু নিয়ন্ত্রন নয়, ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব  Logo নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সাংবাদিকদের পিআইবির প্রশিক্ষণ Logo ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ নিয়ে সংলাপ চান লালমনিরহাটের চাষিরা

প্রস্তাবিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর কিছু ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা। তাদের মতে, সংশোধনের বর্তমান খসড়ায় থাকা কয়েকটি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তামাক খাতের সঙ্গে যুক্ত লালমনিরহাটের হাজার হাজার চাষির জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তামাক চাষিসহ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি অংশীজন সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো পর্যন্ত লালমনিরহাটের তামাক চাষিদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। অথচ লালমনিরহাট দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তামাক উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের অসংখ্য কৃষক তামাক চাষের ওপর নির্ভর করে তাদের পরিবার, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করেন। লালমনিরহাটে তামাক চাষ শুধু একটি ফসল নয়, এটি এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি জীবিকার ব্যবস্থা।

লালমনিরহাট জেলার তামাক চাষিদের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আদিতমারি উপজেলার মো. রফিকুল ইসলাম আলম, মো. এনামুল হক, মো. তাহাজুল ইসলাম, মো. শরিফ উদ্দিন, শ্যামল চন্দ্র দে, মো. আমিনুর ইসলাম, কৈলাশ চন্দ্র রায়, মো. সামসুল আলম এবং কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মো. সুজন আলী, সুমন চন্দ্র রায়, শ্রী তরনী কান্ত, মো. আইনুল হক, জানকী বর্মন ।

বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বছরে প্রায় ২০ কোটি ডলারের তামাক রপ্তানি হয়, যা সরকারের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাষিদের মতে, খাতটির সঙ্গে যুক্ত অংশীজনদের উপেক্ষা করে কোনো আইন প্রণয়ন করলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

চাষিদের মতে, প্রস্তাবিত খসড়ার কিছু ধারা বাস্তবতার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে তামাকজাত দ্রব্যে প্রয়োজনীয় উপাদান নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করবে। এর ফলে বৈধ বাজার সংকুচিত হয়ে অবৈধ সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের প্রসার ঘটতে পারে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি তামাক চাষ ও ব্যবসার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে তামাক চাষিদের ওপর। তাছাড়া প্রস্তাবনা অনুসারে, খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলে লালমনিরহাট অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

লালমনিরহাট অঞ্চলের চাষিরা বলেছেন, তারা একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পক্ষে। তবে সেই আইন অবশ্যই দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সারা দেশের লাখ লাখ ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতার ও প্রান্তিক চাষির জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত হতে হবে। সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীজন সংলাপের মাধ্যমে চাষিদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন সম্ভব। তাই আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত পরবর্তী আলোচনায় তাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন লালমনিরহাটের তামাক চাষিরা।

জনপ্রিয়

১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার 

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ নিয়ে সংলাপ চান লালমনিরহাটের চাষিরা

প্রকাশিত ০৭:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রস্তাবিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর কিছু ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা। তাদের মতে, সংশোধনের বর্তমান খসড়ায় থাকা কয়েকটি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তামাক খাতের সঙ্গে যুক্ত লালমনিরহাটের হাজার হাজার চাষির জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তামাক চাষিসহ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি অংশীজন সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো পর্যন্ত লালমনিরহাটের তামাক চাষিদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। অথচ লালমনিরহাট দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তামাক উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের অসংখ্য কৃষক তামাক চাষের ওপর নির্ভর করে তাদের পরিবার, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করেন। লালমনিরহাটে তামাক চাষ শুধু একটি ফসল নয়, এটি এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি জীবিকার ব্যবস্থা।

লালমনিরহাট জেলার তামাক চাষিদের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আদিতমারি উপজেলার মো. রফিকুল ইসলাম আলম, মো. এনামুল হক, মো. তাহাজুল ইসলাম, মো. শরিফ উদ্দিন, শ্যামল চন্দ্র দে, মো. আমিনুর ইসলাম, কৈলাশ চন্দ্র রায়, মো. সামসুল আলম এবং কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মো. সুজন আলী, সুমন চন্দ্র রায়, শ্রী তরনী কান্ত, মো. আইনুল হক, জানকী বর্মন ।

বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বছরে প্রায় ২০ কোটি ডলারের তামাক রপ্তানি হয়, যা সরকারের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাষিদের মতে, খাতটির সঙ্গে যুক্ত অংশীজনদের উপেক্ষা করে কোনো আইন প্রণয়ন করলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

চাষিদের মতে, প্রস্তাবিত খসড়ার কিছু ধারা বাস্তবতার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে তামাকজাত দ্রব্যে প্রয়োজনীয় উপাদান নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করবে। এর ফলে বৈধ বাজার সংকুচিত হয়ে অবৈধ সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের প্রসার ঘটতে পারে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি তামাক চাষ ও ব্যবসার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে তামাক চাষিদের ওপর। তাছাড়া প্রস্তাবনা অনুসারে, খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলে লালমনিরহাট অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

লালমনিরহাট অঞ্চলের চাষিরা বলেছেন, তারা একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পক্ষে। তবে সেই আইন অবশ্যই দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সারা দেশের লাখ লাখ ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতার ও প্রান্তিক চাষির জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত হতে হবে। সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীজন সংলাপের মাধ্যমে চাষিদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন সম্ভব। তাই আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত পরবর্তী আলোচনায় তাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন লালমনিরহাটের তামাক চাষিরা।