মাত্র ২৩ বছর বয়সেই দেশের সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে একজন পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছেন মোঃ আসাদুজ্জামান ফরাজী। বরগুনা জেলার বরিশাল শহরে জন্ম নেওয়া এই তরুণ প্রযুক্তিবিদ অল্প বয়সেই দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আসাদুজ্জামান ফরাজীর শিক্ষাজীবনের শুরু বরগুনায়। সেখানেই তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগে অধ্যয়নরত। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা তাকে দেশের সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা খাতে একজন সম্ভাবনাময় তরুণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত করেছে।
তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেশাগত জীবন শুরু করেন এবং বর্তমানে তার ৭ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও আইটি সাপোর্ট খাতে। বর্তমানে তিনি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে আইটি এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক আইটি ব্যবস্থাপনা, ডাটা সুরক্ষা এবং সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন নিরাপত্তা, ডিজিটাল সুরক্ষা, ডাটা প্রাইভেসি এবং সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা দিয়ে আসছেন। তার পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে অল্প সময়েই তিনি একজন আস্থাভাজন আইটি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
২০১৮ সাল থেকে আসাদুজ্জামান ফরাজী সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের অনলাইন জীবনের ঝুঁকি কমানো, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা তৈরিতে তিনি নিয়মিত ভূমিকা রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও সহায়তাপ্রার্থী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন “Cyber7 IT Support” নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।
এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল হয়রানি ও তথ্য চুরির শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান ফরাজী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে সাইবার ও ডিজিটাল ঝুঁকিও বহুগুণে বেড়েছে। ফেসবুক বা অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক, ভুয়া লিংকের মাধ্যমে প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি—এসব এখন সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অথচ ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা জানা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়, এটি এখন প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। বাস্তব জীবনে যেমন আমরা ঘরবাড়ি ও সম্পদ রক্ষায় তালা ব্যবহার করি, তেমনি অনলাইন জীবনেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ‘Cyber7 IT Support’-এর মাধ্যমে আমরা বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি, যাতে কেউ ডিজিটাল অপরাধের শিকার হয়ে অসহায় না থাকে। আমার লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে ভয় নয়, সচেতনতার মাধ্যমে মানুষের জীবনে নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
অদম্য মনোবল, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে মোঃ আসাদুজ্জামান ফরাজী দেশের সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তরুণ বয়সেই তার এই পথচলা ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




















