‘নিকাব আমার সম্মান, নিকাব আমার মুক্তি; যতই কর কটুক্তি, ভাঙবে না এই ভক্তি’ সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীরা। বিএনপি সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নেতা কর্তৃক হিজাব ও নিকাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ এই মানববন্ধন করে তারা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের নারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে “লজ্জা আমার অলংকার নিকাব আমার অধিকার”, “No more criticize”, ” নিকাব আমার পরিচয় অপমান নয়”, “Stop Hijab shaming” “ইসলামী সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা রুখে দাও”, ” হিজাব আমার অধিকার”, “হিজাব বিদ্বেষ বন্ধ কর,নারীর স্বাধীনতা রক্ষা কর”, “নিকাব নয়, মানসিকতা বদলাও”, “নিকাব আমার সম্মান, নিকাব আমার মুক্তি; যতই কর কটুক্তি, ভাঙবে না এই ভক্তি”, “নিকাব নয় জুলুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ”, “বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না, চলবে না”, “নিকাবের নামে ঘৃণা, আমরা রুখে দাঁড়াবো”, “হে মূর্খ আগে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন কর” ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাহিনা রিনি বলেন “আমাদের সুশীল সমাজ কেন জানি এই বিষয়ে খুব চুপ হয়েছিল। কেন তারা চুপ হয়েছিল? এখানে আমরা বলতে চাই যে, যখন একটি সংগঠনের পদধারী নেতা এমন কথা বলেন, তখন সেই সংগঠন তার বিরুদ্ধে কী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে? তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে আপনারা সেই ব্যক্তিকে সমর্থন করছেন নাকি ইসলামী সংস্কৃতিকে ধারণ করছেন? আমরা দেখেছি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি ভাই দেশে যে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তার সেই কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গিয়েছেন যে ইনসাফের লড়াইয়ে হাদিরা বারবার জন্মগ্রহণ করে। হাদিরা কখনও থেমে থাকে না। আমরা আজ এখানে এই কটূক্তিকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছি। অনতিবিলম্বে এই শাস্তির কার্যকর চাই, যেন ভবিষ্যতে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করার আগে যে কেউ দশবার ভেবে তারপর কথা বলে।”
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মিম বলেন, সুরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন “হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।” কেউ যদি পর্দা করে নিজেকে আড়াল করে, তাকে কটূক্তি করা অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। পোশাকের স্বাধীনতা বলতে শুধু জিন্স বা ওয়েস্টার্ন পোশাক নয়; ফ্রক পরা মেয়ে যেমন স্বাধীন, তেমনি বোরকা ও নেকাব পরা মেয়েরও সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে। একটি মুসলিম দেশে শুধু ওয়েস্টার্ন কালচারের পোশাককে স্বাধীনতার মানদণ্ড বানানো লজ্জাজনক। বোরকা হোক বা জিন্স নারীর পোশাক নিয়ে বিভাজনমূলক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান, “আমরা দেখেছি বিএনপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, সাংস্কৃতিক সংগঠক, তিনি হিজাব এবং নিকাবকে নিয়ে কি পরিমাণ একটি নোংরা মন্তব্য করেছেন। আমি এটাকে দেখছি নারীর প্রতি তার যে বিদ্বেষ এবং তার অজ্ঞতা এবং তার নোংরা মন-মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছিল তাঁর কালকের এই মন্তব্য। তিনি বিএনপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হয়ে কিভাবে বলেন নিকাব পতিতাবৃত্তিদের পোশাক? বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা যখন বলেন নিকাব পতিতাদের পোশাক হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন তিনি নারীদের চরিত্রে যারা বহুকাল ধরে বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে নিকাবকে ধারণ করেছেন সেখানে তিনি কাদা ছুড়েছেন। তাঁকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই নারীদের চরিত্রে যখন তিনি কাদা ছুড়েছেন তাঁর উল্টো প্রতিঘাত তাঁকে নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, “আমরা দেখতে চাই, বিএনপির যে নীতিনির্ধারকরা আছেন, তারা এই নেতার বিরুদ্ধে কী অ্যাকশন নিচ্ছে। অথবা আমরা ধরে নেব, সাধারণ জনগণ ধরে নেবে যে তাঁর এই বক্তব্যকে বিএনপি ধারণ করে, লালন করে। যদি এরকম পর্যায়ের নেতা যদি সংসদে যায় তাহলে আমার মনে হয় আমি নিকাব করার কারণে আমি গ্রেফতার হতে পারি। আমার যে ভাই দাড়ি-টুপি রাখবে তাকেও বিশেষ ট্যাগিং দিয়ে জেলে ভরে রাখা হবে। নারীর সম্মান নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি চলবে না। নিকাব আমার অধিকার, নিকাব আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নিকাব আমার স্বাধীনতা। নিকাব আমার স্বাধীনতা আছে, ছিল এবং থাকবে। ভবিষ্যতে এর দিকে কেউ যদি আঙুল বাড়ায় বা হাত দেওয়ার চেষ্টা করে তবে আমাদের বাঙালি সমাজে যারা নারী আছেন, মুসলিম নারী আছেন যারা বিশ্বাস করেন তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।”




















