ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নিয়ে বিষোদগারের অভিযোগ উঠেছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিকদার মো. আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি উপ-হাইকমিশনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব কর্মকর্তাদের অভিযোগ নির্বাচনের আগে আশরাফুর বলতেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসলে চাদাবাজি হবে। জামায়াত আসলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো হবে। দেশে দুর্নীতি কমে যাবে। বিএনপি না আসাই ভালো৷ সবাইকেইতো দেখলাম। একবার জামায়াতকে সুযোগ দেয়া উচিত।”
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আশরাফুর বলেন, “এই নির্বাচনটা ভারতের সাহায্যে হয়েছে। বিএনপিতো এতো সিট পাওয়ার কথা না! এটা আগে থেকেই সেট হয়ে গেছে।”
ওদিকে, সম্প্রতি কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তারিকুল ইসলাম ভূইয়া ওরফে তারিক চয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডি থেকে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করে শিকদার মো. আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন, যার ফলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের পর ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
উপ-হাইকমিশনের ফেসবুক পেইজে গিয়ে দেখা যায়, তারিক চয়নের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠন বা এর পরবর্তী কোনো কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কোনো সংবাদ নেই মিশনের ফেসবুক পেইজে। তবে, তারিক চয়ন সমালোচনা করে পোস্ট করার পর ০৮ মার্চ নারী দিবসে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বাণী দুইদিন পর অর্থাৎ ১০ মার্চ পোস্ট করা হয়।
তারিক চয়ন সরাসরি ফেসবুকে পোস্ট করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় অবস্থান করা মিশন প্রধান ও তার তৈরি সিন্ডিকেট বিভিন্ন অনিয়ম ও বেআইনি কাজে লিপ্ত। যেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ মিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাড়তি খরচ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা, পলাতক বাংলাদেশিদের স্বপ্রণোদিত হয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করা, তথাকথিত উপরের মহলের ভয় দেখিয়ে অধস্তনদের সাথে কারণে-অকারণে দুর্ব্যবহার করা, বাংলাদেশি কোনো রোগী ভারতে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গেলে এনওসি দেয়ার সময় নানান জটিলতা তৈরি করে কালক্ষেপণ করা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি হাইকমিশনার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান বা কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এসব বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের মিশন প্রধান শিকদার মো. আশরাফুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, প্রেস সেক্রেটারি তারিক চয়নের ফেসবুক পোস্ট আমি দেখেছি। উপ-হাইকমিশনের ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট দেয়া চলমান ও প্রক্রিয়াধীন।





















