ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নীহারিকা সেন হয়ে আলোচনায় সিফাত নুসরাত Logo ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী দিলো সুপার কম্পিউটার Logo ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ স্থগিতের আশঙ্কা! Logo মাদরাসাছাত্রীকে নাতনি ডেকে ঘরে নিয়ে যান বৃদ্ধ, বেধড়ক পিটুনি Logo চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা Logo উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষে এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর Logo বাঁধন, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ইউনিটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo বাইপাস চার্জিং যেভাবে স্মার্টফোনকে আরও নিরাপদ করে তুলছে Logo যেভাবে মোবাইলে দেখবেন আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ Logo আর্জেন্টিনাকে হারাতে ‘অভিশপ্ত’ মূর্তির গায়ে জার্সি পরাল ব্রাজিল সমর্থকরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশভিত্তিক সাংবাদিকতায় দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)-এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দুই দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সামনে চট্টগ্রাম শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা এবং চলমান উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপনার কৌশল এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারা ফিল্ড ভিজিটে অংশ নিয়ে স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাসা-বাড়িতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা, ভাঙারিওয়ালাদের কার্যক্রম এবং তাদের জন্য সরবরাহ করা সুরক্ষা সামগ্রী সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন। কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দেশের অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়।

কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ। এছাড়া, এ সময় ইপসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় উৎসাহ জোগাবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং ইপসা’র সহযোগিতায় চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে একটি সমন্বিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। এ উদ্যোগের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৩,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩,০০০ জনের বেশি বর্জ্যকর্মী ও সংগ্রাহককে প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে এবং ১,৮২৭ জনকে গ্রুপ ইনস্যুরেন্স সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

উদ্যোগটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে কাজ করছে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এ উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

নীহারিকা সেন হয়ে আলোচনায় সিফাত নুসরাত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা

প্রকাশিত ০৯:০৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশভিত্তিক সাংবাদিকতায় দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)-এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দুই দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সামনে চট্টগ্রাম শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা এবং চলমান উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপনার কৌশল এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারা ফিল্ড ভিজিটে অংশ নিয়ে স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাসা-বাড়িতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা, ভাঙারিওয়ালাদের কার্যক্রম এবং তাদের জন্য সরবরাহ করা সুরক্ষা সামগ্রী সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন। কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দেশের অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়।

কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ। এছাড়া, এ সময় ইপসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় উৎসাহ জোগাবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং ইপসা’র সহযোগিতায় চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে একটি সমন্বিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। এ উদ্যোগের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৩,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩,০০০ জনের বেশি বর্জ্যকর্মী ও সংগ্রাহককে প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে এবং ১,৮২৭ জনকে গ্রুপ ইনস্যুরেন্স সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

উদ্যোগটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে কাজ করছে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এ উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।