ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ১৯ সেকেন্ডেই সুপারকম্পিউটারের শতবছরের কাজ সম্পন্ন করেছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার Logo দেড় লাখ টাকা জরিমানা, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো Logo স্কুলে ছেলের সঙ্গে ঝগড়া, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের আছাড় Logo মির্জাপুরে দুর্গামন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর Logo নেপালে ঝুঁকিতে প্রায় ৭০০ ট্রেকার, হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে অনেককে Logo কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তায় নতুন সুবিধা চালু করল হোয়াটসঅ্যাপ Logo বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আদালত চত্বরে আওয়ামীপন্থী তিন আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ Logo মিরপুরে বাসচাপায় নারী আরোহীসহ চালক নিহত Logo সন্তানকে ছেড়ে হাসপাতালে ভর্তি হননি মা, ডেঙ্গুতে ছাড়তে হলো পৃথিবীই Logo রিসোর্ট-এনজিওতে ‘মেহমান’ পরিচয়ে রাতভর মুখস্থ করানো হতো ফাঁস করা প্রশ্নের উত্তর

মির্জাপুরে দুর্গামন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় একটি দুর্গামন্দিরে প্রবেশ করে নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত কিছুদিন আগে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি মন্দিরে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা হয়ে আসছে এবং চলতি বছরও পূজার প্রস্তুতি চলছিল। মন্দিরের ভেতর দুর্গা দেবীর প্রতিমাসহ মোট সাতটি প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। প্রতিমাগুলোতে শুধু রঙের কাজ বাকি থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে মন্দিরে প্রবেশ করে এ ভাঙচুর চালায়।

প্রতিমা ভাঙচুরের এই খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামুর্কী আর্য্য সমিতির উদ্যোগে প্রায় ৮৫ বছর ধরে এই স্থানে নিয়মিত পূজা উদযাপন করা হয়ে আসছে। প্রতি বছর শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালিত হলেও এমন আকস্মিক হামলায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার এবং সহকারী পুলিশ সুপার মো. আদনান মুস্তাফিজ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জামুর্কী আর্য্য সমিতির সভাপতি প্রকাশ বাকালী জানিয়েছেন যে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মির্জাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক লুকমান হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিমা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উপজেলার সকল মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জনপ্রিয়

১৯ সেকেন্ডেই সুপারকম্পিউটারের শতবছরের কাজ সম্পন্ন করেছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার

মির্জাপুরে দুর্গামন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর

প্রকাশিত ০৪:০০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় একটি দুর্গামন্দিরে প্রবেশ করে নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত কিছুদিন আগে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি মন্দিরে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা হয়ে আসছে এবং চলতি বছরও পূজার প্রস্তুতি চলছিল। মন্দিরের ভেতর দুর্গা দেবীর প্রতিমাসহ মোট সাতটি প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। প্রতিমাগুলোতে শুধু রঙের কাজ বাকি থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে মন্দিরে প্রবেশ করে এ ভাঙচুর চালায়।

প্রতিমা ভাঙচুরের এই খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামুর্কী আর্য্য সমিতির উদ্যোগে প্রায় ৮৫ বছর ধরে এই স্থানে নিয়মিত পূজা উদযাপন করা হয়ে আসছে। প্রতি বছর শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালিত হলেও এমন আকস্মিক হামলায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার এবং সহকারী পুলিশ সুপার মো. আদনান মুস্তাফিজ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জামুর্কী আর্য্য সমিতির সভাপতি প্রকাশ বাকালী জানিয়েছেন যে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মির্জাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক লুকমান হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিমা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উপজেলার সকল মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।