ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই, রোগীর মৃত্যু

ফরিদপুর শহরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটের ভেতর গজ রেখেই সেলাই করার একটি মারাত্মক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অবহেলার কারণে কনিকা মণ্ডল নামের এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী ছিলেন এই দুর্ভাগা নারী। গত ২৯ জুন প্রসবব্যথা শুরু হলে তাকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং ওই দিন সন্ধ্যায় তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরপরই কনিকার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হতে শুরু করে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলেও স্থানীয় চিকিৎসকেরা তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

ঢাকায় চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে সার্জিক্যাল গজটি সফলভাবে বের করলেও শেষরক্ষা হয়নি। ওই দিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এদিকে নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত নিজের ভুল স্বীকার করে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিলেন। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের টনক নড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার পরদিন নিহত প্রসূতির বাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছিলেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ফরিদপুরের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত কার্যক্রম শেষে ওই কমিটি তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগে জমা প্রদান করে। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার ভিত্তিতে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মারাত্মক চিকিৎসা ত্রুটি ও অবহেলা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

‘গেম অব থ্রোনস’ সিনেমা মুক্তি পাবে ২০২৯ সালে

পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই, রোগীর মৃত্যু

প্রকাশিত ০৬:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুর শহরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটের ভেতর গজ রেখেই সেলাই করার একটি মারাত্মক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অবহেলার কারণে কনিকা মণ্ডল নামের এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী ছিলেন এই দুর্ভাগা নারী। গত ২৯ জুন প্রসবব্যথা শুরু হলে তাকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং ওই দিন সন্ধ্যায় তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরপরই কনিকার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হতে শুরু করে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলেও স্থানীয় চিকিৎসকেরা তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

ঢাকায় চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে সার্জিক্যাল গজটি সফলভাবে বের করলেও শেষরক্ষা হয়নি। ওই দিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এদিকে নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত নিজের ভুল স্বীকার করে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিলেন। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের টনক নড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার পরদিন নিহত প্রসূতির বাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছিলেন।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ফরিদপুরের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত কার্যক্রম শেষে ওই কমিটি তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগে জমা প্রদান করে। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার ভিত্তিতে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মারাত্মক চিকিৎসা ত্রুটি ও অবহেলা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।