গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু কোনো জবরদস্তি কায়েম করা চলবে না।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলা, ময়মনসিংহে শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে শিশু আয়েশা আক্তারকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিচার করতে হবে। নির্বাচন বানচালের যে তৎপরতা চলছে, সরকারকে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার আজ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নিষিদ্ধ কার্যক্রম প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে সাকি বলেন, তারা এখনো দেশকে ধ্বংস করার তৎপরতা থেকে সরে আসেনি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণকে নস্যাৎ করতে চাচ্ছে।
দেশে নব্য ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্টদের ভয়ের রাজত্বের বিপরীতে নতুন করে আরেকটি ভয়ের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চলছে। সরকার এ ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করছে কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান জোনায়েদ সাকি।
সমাবেশে দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে হলে এখনই গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে হবে।
দলের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য তাসলিমা আখতার বলেন, যারা পতিত ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে চায়, তারাই নির্বাচন বারবার পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীকে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, দীপক কুমার রায়, আমজাদ হোসেন, অঞ্জন দাস ও লুৎফুন্নাহার সুমনা।




















