ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি Logo জাবিতে গাইবান্ধা জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল, নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা Logo কুবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে গণ-ইফতার  Logo কুবির আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির নেতৃত্বে মুজাহিদ–লাবিব Logo বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইনক্লুসিভ জাহাঙ্গীরনগর’র ইফতার মাহফিল Logo হাবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল Logo কঠোর সমালোচনা’ না করে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত: ডিএসসিসি প্রশাসক

উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হচ্ছে জাবির খেলার মাঠ

উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হচ্ছে জাবির খেলার মাঠ

উদ্বোধনের আগেই অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আল বেরুনী হলের পিছনের নবনির্মিত (কেন্দ্রীয় মাঠ-১) খেলার মাঠটি। অধিকতর প্রকল্পের অধীনে নির্মিত মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর ও উদ্বোধনের আগেই বহিরাগতদের অবাধ চলাচলের পাশাপাশি অননুমোদিত ব্যবহারে মাটি ও ঘাস নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় ৩ লক্ষ স্কোয়ার ফিট (প্রায় ২০ বিঘা) জায়গা জুড়ে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তুত হচ্ছে যৌথভাবে ক্রিকেট ও ফুটবলের জন্য নির্মিত খেলার মাঠটি। জানা যায়, মাঠটির ক্রিকেট পিস তৈরির জন্য আনা হবে বিশেষ ধরনের মাটি।

তবে মাঠটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, “দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ হলেও যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে মাঠটি উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

“প্রকল্পটি যেন একটি টেকসই ও উচ্চমানের ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে গড়ে ওঠে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও পেশাদার পর্যায়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি” বলেও জানায় তাঁরা।

এ বিষয়ে জাকসুর সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান বলেন, “মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘাসের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে শারীরিক শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।”

প্রকল্পটির ব্যয় ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “প্রকল্পটির মোট বাজেট প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। তবে ঘাস স্থাপনে ব্যয় বেশি হওয়াসহ সার্বিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে মাঠটি উদ্বোধনের আগে সংরক্ষিত করে রাখা সম্ভব হয়নি। বকেয়া পরিশোধ ও বাজেটসংক্রান্ত নিশ্চয়তা ঝুলে থাকায় প্রকল্পের হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে মাঠটি বহিরাগতদের কারণে ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ গ্রহণ না করা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই থাকবে।

মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানাকে আহ্বায়ক, শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক দেবব্রত পালকে সদস্য সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন, উপ-পরিচালক মো. আজমল আমীন টুটুল ও বিসিবির মাঠ প্রস্তুতকারী খাইয়রুল কবীর খোকনকে সদস্য করা হয়।

মাঠ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য ও শারীরিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন বলেন, “মাঠের ক্ষয়ক্ষতি ও অননুমোদিত ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠগুলোর দায়িত্ব এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, আগামী বুধবার মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।

“মাঠগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে শারীরিক শিক্ষা বিভাগে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন” বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয়

সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে

উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হচ্ছে জাবির খেলার মাঠ

প্রকাশিত ০১:৫১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হচ্ছে জাবির খেলার মাঠ

উদ্বোধনের আগেই অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আল বেরুনী হলের পিছনের নবনির্মিত (কেন্দ্রীয় মাঠ-১) খেলার মাঠটি। অধিকতর প্রকল্পের অধীনে নির্মিত মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর ও উদ্বোধনের আগেই বহিরাগতদের অবাধ চলাচলের পাশাপাশি অননুমোদিত ব্যবহারে মাটি ও ঘাস নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় ৩ লক্ষ স্কোয়ার ফিট (প্রায় ২০ বিঘা) জায়গা জুড়ে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তুত হচ্ছে যৌথভাবে ক্রিকেট ও ফুটবলের জন্য নির্মিত খেলার মাঠটি। জানা যায়, মাঠটির ক্রিকেট পিস তৈরির জন্য আনা হবে বিশেষ ধরনের মাটি।

তবে মাঠটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, “দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ হলেও যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে মাঠটি উদ্বোধনের আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

“প্রকল্পটি যেন একটি টেকসই ও উচ্চমানের ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে গড়ে ওঠে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি ও পেশাদার পর্যায়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি” বলেও জানায় তাঁরা।

এ বিষয়ে জাকসুর সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান বলেন, “মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘাসের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে শারীরিক শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।”

প্রকল্পটির ব্যয় ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “প্রকল্পটির মোট বাজেট প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। তবে ঘাস স্থাপনে ব্যয় বেশি হওয়াসহ সার্বিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে মাঠটি উদ্বোধনের আগে সংরক্ষিত করে রাখা সম্ভব হয়নি। বকেয়া পরিশোধ ও বাজেটসংক্রান্ত নিশ্চয়তা ঝুলে থাকায় প্রকল্পের হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে মাঠটি বহিরাগতদের কারণে ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ গ্রহণ না করা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই থাকবে।

মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানাকে আহ্বায়ক, শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক দেবব্রত পালকে সদস্য সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন, উপ-পরিচালক মো. আজমল আমীন টুটুল ও বিসিবির মাঠ প্রস্তুতকারী খাইয়রুল কবীর খোকনকে সদস্য করা হয়।

মাঠ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য ও শারীরিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন বলেন, “মাঠের ক্ষয়ক্ষতি ও অননুমোদিত ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠগুলোর দায়িত্ব এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, আগামী বুধবার মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।

“মাঠগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে শারীরিক শিক্ষা বিভাগে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন” বলে জানান তিনি।