শিক্ষার্থীদের গবেষণা দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও গবেষণা ক্যারিয়ার গঠনের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) প্রথমবারের মতো মাল্টিডিসিপ্লিনারি গবেষণা ইন্টার্নশিপ ও ফেলোশিপ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ (BURS)-এর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু হয়।
এই প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মোট ১৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। আট মাসব্যাপী প্রোগ্রামের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের গবেষণা মানসিকতা গড়ে তোলা, গবেষণার নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাস্তবভিত্তিক গবেষণা দক্ষতা উন্নয়ন।
‘Developing the Right Mindset & Understanding Research Ethics’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জামান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “গবেষণায় যুক্ত হওয়া উচিত কেবল রেজিস্ট্রেশন বা সার্টিফিকেটের জন্য নয়; প্রকৃত আগ্রহ ও নতুন জ্ঞান তৈরির মানসিকতা ছাড়া গবেষণার কোনো অর্থ থাকে না। গবেষণায় পেপারের সংখ্যা নয়, এর গুণগত মানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, উপকূলীয় এলাকার কোনো উদ্ভিদ থেকে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান বা বিশেষ প্রোটিন তৈরি করা আন্তর্জাতিকভাবে বড় অর্জন হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
প্রধান আলোচক ড. মো. শামসুজ্জামান বলেন, “গবেষণা মানে হলো লুকানো বা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি এমন সত্যকে নৈতিকভাবে সামনে আনা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও ধৈর্য ও একাগ্রতার মাধ্যমে এর ফলাফল অত্যন্ত কার্যকর হয়। কেবল প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা দিয়েই একজন গবেষকের সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না; গবেষণার গভীরতা ও মানই প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে।”
ওরিয়েন্টেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষণা সংসদের প্রধান উপদেষ্টা ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলাম, গবেষণা পরিচালক ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. আজম খান। প্রোগ্রামের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মেসবাহ উদ্দীন।
এসময় প্রোগ্রামে গবেষণার সংসদের পূর্ববর্তী প্রকল্পের সদস্যদের সম্মাননা জানানো হয় এবং কার্যনির্বাহী দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনকারীদের “বেস্ট এক্সিকিউটিভ অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়।
আট মাসব্যাপী এই ইন্টার্নশিপ ও ফেলোশিপ প্রোগ্রাম ধাপে ধাপে পরিচালিত হবে। অংশগ্রহণকারীরা সুপারভাইজার ও মেন্টরদের সহায়তায় গবেষণার মৌলিক ধারণা, নৈতিকতা, সমস্যা নির্ধারণ ও সাহিত্য পর্যালোচনা শিখবেন। SPSS, R, Python, GIS, NVivo, KoboToolbox-এর মতো ডেটা বিশ্লেষণ টুলসে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবেন। শেষ ধাপে গবেষণা প্রবন্ধ লেখা, প্রকাশনা, কনফারেন্সে অংশগ্রহণ এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণা দক্ষতা ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন সম্ভব হবে।



















