ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি Logo জাবিতে গাইবান্ধা জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল, নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা Logo কুবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে গণ-ইফতার  Logo কুবির আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির নেতৃত্বে মুজাহিদ–লাবিব Logo বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইনক্লুসিভ জাহাঙ্গীরনগর’র ইফতার মাহফিল Logo হাবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল Logo কঠোর সমালোচনা’ না করে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo রাবি ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক হিসেবে সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীবের আত্মপ্রকাশ

যথাযোগ্য মর্যাদায় পাবিপ্রবিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

‎শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম আব্দুল আউয়াল, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. শামীম আহসান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাশেদুল হক সহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

‎কোষাধ্যক্ষ ড. মো. শামীম আহসান বলেন, বহু ত্যাগ ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেক বিষয়ে পড়াশোনায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন সরকারের প্রতি তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এর মর্যাদা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

‎উপাচার্য বলেন, আমরা পৃথিবীর বুকে একমাত্র জাতি, যারা ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি এবং সেই আন্দোলনে সালাম, রফিক, জব্বার ও বরকতের মতো তরুণরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। ভাষার জন্য এমন আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা আমাদের কেবল গর্বের ইতিহাস নয়, বরং দেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও সম্মান করার নৈতিক দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সাঁওতালসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষা ও বিকাশেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

‎তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামের সূচনা, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে। তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য ভাষার প্রশ্নেই প্রকটভাবে প্রকাশ পায়। একুশের চেতনা থেকেই ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী বিভিন্ন গণআন্দোলনের ভিত্তি রচিত হয়েছে।

‎পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

জনপ্রিয়

রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো

যথাযোগ্য মর্যাদায় পাবিপ্রবিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

প্রকাশিত ০৩:৫০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

‎শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম আব্দুল আউয়াল, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. শামীম আহসান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাশেদুল হক সহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

‎কোষাধ্যক্ষ ড. মো. শামীম আহসান বলেন, বহু ত্যাগ ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেক বিষয়ে পড়াশোনায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন সরকারের প্রতি তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এর মর্যাদা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

‎উপাচার্য বলেন, আমরা পৃথিবীর বুকে একমাত্র জাতি, যারা ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি এবং সেই আন্দোলনে সালাম, রফিক, জব্বার ও বরকতের মতো তরুণরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। ভাষার জন্য এমন আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা আমাদের কেবল গর্বের ইতিহাস নয়, বরং দেশের সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও সম্মান করার নৈতিক দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সাঁওতালসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষা ও বিকাশেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

‎তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক সংগ্রামের সূচনা, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে। তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য ভাষার প্রশ্নেই প্রকটভাবে প্রকাশ পায়। একুশের চেতনা থেকেই ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী বিভিন্ন গণআন্দোলনের ভিত্তি রচিত হয়েছে।

‎পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।