বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের ডাকা একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। চলমান এই কর্মসূচির কারণে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এতে করে সেশনজট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ববিতে সেশনজট একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে। এর মধ্যেই শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সামনে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি থাকায় এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে অধিকাংশ বিভাগই মারাত্মক সেশনজটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের এই কর্মসূচির ফলে আজ লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা এবং জিওলোজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হামিম নিশান সিকদার বলেন, “শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্রতী হবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাদের পদোন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি গ্রহণ করা যৌক্তিক হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ একাডেমিক শাটডাউন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাবতে বাধ্য করছে, তারা আদৌ শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন কিনা।”
তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির ফলে অনেক বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, ক্লাসও হচ্ছে না। সামনে ছুটি থাকায় এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অধিকাংশ বিভাগ সেশনজটে পড়বে। এমনিতেই ববির অধিকাংশ বিভাগ কমবেশি সেশনজটে রয়েছে।”
তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে বিকল্প পথ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কমিয়ে আনা উচিত।
একই শিক্ষাবর্ষের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশনস বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, “শাটডাউনের কারণে আমাদের পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে এবং সেশনজট বাড়ছে। চার বছরে অনার্স শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় বছর বা তারও বেশি সময় লাগছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ।”
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, শিক্ষকদের এই কর্মসূচি তাদের শিক্ষাজীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এই পরিস্থিতি।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে, তবে তা যেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে নয়। তারা দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা চালু করে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
জুনায়েত/ববি


















