ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ জন বর্জ্য সংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ Logo জাবিতে ‘ভূ-স্থানিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ১৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু Logo রাবি হেলথ অ্যান্ড ফুড সেফটি অ্যাসোসিয়েশন-এর ২য় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা  Logo বাকৃবি ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ১০দিন ব্যাপি কুরআন শিক্ষা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল সভাপতির ইফতার Logo যবিপ্রবিতে ইকসাসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কুবি বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ২৮ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান Logo পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দায়িত্ব হস্তান্তর Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo হাবিপ্রবিস্থ বৃহত্তর রাজশাহী ছাত্র কল্যাণ সমিতির ইফতার মাহফিল ও আহবায়ক কমিটি ঘোষণা

ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ জন বর্জ্য সংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদন ও বিপণনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই উদ্যোগ জোরদার করতে নিরাপত্তা সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ’-এর আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১,৬৭৩ জন প্লাস্টিক বর্জ্যসংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে সেফটি ভেস্ট, গামবুট, রাবার গ্লাভস, হেলমেট, গগল্‌স ও লোহার হুক, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যের সংস্পর্শ কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া স্থানীয় স্ক্র্যাপ শপ বা ভাঙারিওয়ালাদের জন্য ১৭০টি ফার্স্ট এইড বক্স দেওয়া হয়েছে, যাতে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। একই অনুষ্ঠানে স্কুল ও মাদরাসায় উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থ্রি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

এর আগে এই উদ্যোগের আওতায় ৩,৭০০ জন বর্জ্যকর্মীকে সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করা হয় এবং ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থ্রি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৩০,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্যকর্মী ও তাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে বীমা সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

এই নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগগুলোর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে দেখা গেছে। একই সঙ্গে সংক্রমণের হার কমেছে, চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মীদের উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কাঠামোবদ্ধ প্রণোদনার ফলে সামগ্রিকভাবে আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং জীবনমানের উন্নতির মতো সামাজিক-অর্থনৈতিক ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ এন্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর শামিমা আক্তার, বলেন, “ইউনিলিভার বাংলাদেশে আমরা মনে করি, পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগকে মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নিতে হয়। এই ভাবনা থেকেই ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আমাদের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছি এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে কাজের অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে বর্জ্য সংগ্রহকারীরা এখনও নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাই তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জনপ্রিয়

ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ জন বর্জ্য সংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ জন বর্জ্য সংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

প্রকাশিত ০৭:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদন ও বিপণনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই উদ্যোগ জোরদার করতে নিরাপত্তা সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ’-এর আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১,৬৭৩ জন প্লাস্টিক বর্জ্যসংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে সেফটি ভেস্ট, গামবুট, রাবার গ্লাভস, হেলমেট, গগল্‌স ও লোহার হুক, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যের সংস্পর্শ কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া স্থানীয় স্ক্র্যাপ শপ বা ভাঙারিওয়ালাদের জন্য ১৭০টি ফার্স্ট এইড বক্স দেওয়া হয়েছে, যাতে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। একই অনুষ্ঠানে স্কুল ও মাদরাসায় উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থ্রি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

এর আগে এই উদ্যোগের আওতায় ৩,৭০০ জন বর্জ্যকর্মীকে সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করা হয় এবং ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থ্রি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৩০,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্যকর্মী ও তাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে বীমা সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

এই নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগগুলোর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে দেখা গেছে। একই সঙ্গে সংক্রমণের হার কমেছে, চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মীদের উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কাঠামোবদ্ধ প্রণোদনার ফলে সামগ্রিকভাবে আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং জীবনমানের উন্নতির মতো সামাজিক-অর্থনৈতিক ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ এন্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর শামিমা আক্তার, বলেন, “ইউনিলিভার বাংলাদেশে আমরা মনে করি, পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগকে মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নিতে হয়। এই ভাবনা থেকেই ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আমাদের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছি এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে কাজের অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে বর্জ্য সংগ্রহকারীরা এখনও নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাই তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।