কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কুরআন ও কালচারাল স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রমাদান ফেস্ট-২০২৬’ এর ইফতার মাহফিল এবং কোরআন তেলাওয়াত ও ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের সেমিনার কক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের প্রভাষক জনাব জহিরুল ইসলাম বাবর এবং কি-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কাশেমসহ ক্লাবের বিভিন্ন সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, কোরআন তেলাওয়াত এবং ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতায় মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে পাঞ্জাবি, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অধিকারীকে হিজাব ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। বাকি সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়।
ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাথী সুমাইয়া আক্তার রিক্তি বলেন, ‘সত্যি বলতে, পুরস্কারের চেয়েও বড় পাওয়া ছিল এই চমৎকার আয়োজনের অংশ হতে পারা। রমজানের পবিত্রতা আর শুদ্ধ সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন সত্যিই মুগ্ধকর। মাননীয় অতিথিদের হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করাটা আমার জন্য এক বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।’
কুরআন তেলওয়াত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলা বিভাগের শিক্ষাথী ফাহিম সুলতান বলেন, ‘কুরআন এন্ড কালচারাল স্টাডি ক্লাব’ এর ইন্টারডিপার্টমেন্ট কুরআন রিসাইটেশন এন্ড ক্যালিগ্রাফি কন্টেস্ট শীর্ষক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের শিক্ষার্থীবান্ধব, সৃজনশীল ও মননশীল আয়োজন আমরা সচারাচর দেখতে পাই না। আসলে আজকের আয়োজনটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী একটি আয়োজন ছিল এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমি মুগ্ধ। আশা করি ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা এবং সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সংগঠনটি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের প্রভাষক জনাব জহিরুল ইসলাম বাবর বলেন, ‘কুরআন এন্ড কালচারাল স্টাডি ক্লাব বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করে। কুরআন বিতরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা। আমার আশা, তাদের এই পরিচালনা সামনে নতুন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আরও ভালোভাবে কাজ করবে। শুধুমাত্র কুরআন বিতরণ নয়, কুরআনের নিয়মিত দারস্ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামের রুলস-রেগুলেশন, নীতি-নৈতিকতার বিষয়গুলো বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে কোনো ভালো ইসলামিক স্কলারদের নিয়ে এসে যদি আয়োজন করা হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা এই বিষয়গুলো জানতে পারবে।’
কোরআন এন্ড কালচারাল ক্লাবের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল যেহেতু রমাদান মাস কুরআনের মাস, তাই এই মাসের মর্যাদা রক্ষায় আমরা কুবি শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা এবং ক্যালিগ্রাফি কন্টেস্ট এর আয়োজন করা। আমাদের কাছে ক্যালিগ্রাফি হলো একটি বিপ্লবের ভাষা এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা যাচাইয়ের একটি মাধ্যম। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি প্রতিযোগী পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি।’



















