ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট: ৪০টি তথ্য Logo ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়তে পারে? Logo ইরানে ফের বড় হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত শিগগির Logo শাহজালালে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার, বিমানের দুই কর্মী আটক Logo ডাববোঝাই নছিমন অতিক্রম করতে গিয়ে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত Logo সরকারি কর্মচারীরা তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে পাবেন Logo খুলনায় ডিভোর্সের তিন মাস পর সাবেক শ্বশুরকে গুলি করলেন যুবক Logo বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় এসআরবির ওয়ারেন্ট অফিসার নিহত Logo অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেন, মাল্টা কেন ৫২০ টাকা: ব্যবসায়ীদের কাছে মন্ত্রীর প্রশ্ন Logo নবম পে স্কেলে ৩ মাসের বকেয়াসহ বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেন, মাল্টা কেন ৫২০ টাকা: ব্যবসায়ীদের কাছে মন্ত্রীর প্রশ্ন

বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম পাঁচশ টাকার বেশি হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তলব করেন। একই সঙ্গে আমদানিকারক পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পণ্যের মূল্য ও খরচ কীভাবে বাড়ছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বাজারে ফলের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানি ও সরবরাহ কম থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম কনটেইনার ফল দেশে পৌঁছানোয় এই ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে।

আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, উচ্চ শুল্কহার, পরিবহন খাতের বাড়তি খরচ এবং বন্দর ও জাহাজজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে চালানে পৌঁছাতে দেরি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, যা অনেক ব্যবসায়ীকে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তির পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারকরা শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত নতুন করে ঋণপত্র খোলার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে বাজারে ফলের ঘাটতি দূর হয়।

বৈঠকে আসন্ন মৌসুমে খেজুরের সরবরাহ ও দাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই শুল্কসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছে। খেজুরের অযৌক্তিক শুল্কায়ন মূল্য বা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু নির্ধারণের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কমিশন আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন যে, বাস্তবসম্মত বাজারদর ও আন্তর্জাতিক উৎস মূল্য বিবেচনা করে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার কাজ চলছে। সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হবেন না, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও সঠিক মূল্যে ফল কিনতে পারবেন।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট: ৪০টি তথ্য

অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেন, মাল্টা কেন ৫২০ টাকা: ব্যবসায়ীদের কাছে মন্ত্রীর প্রশ্ন

প্রকাশিত ১১:১৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম পাঁচশ টাকার বেশি হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তলব করেন। একই সঙ্গে আমদানিকারক পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পণ্যের মূল্য ও খরচ কীভাবে বাড়ছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বাজারে ফলের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানি ও সরবরাহ কম থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম কনটেইনার ফল দেশে পৌঁছানোয় এই ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে।

আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, উচ্চ শুল্কহার, পরিবহন খাতের বাড়তি খরচ এবং বন্দর ও জাহাজজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে চালানে পৌঁছাতে দেরি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, যা অনেক ব্যবসায়ীকে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তির পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারকরা শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত নতুন করে ঋণপত্র খোলার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে বাজারে ফলের ঘাটতি দূর হয়।

বৈঠকে আসন্ন মৌসুমে খেজুরের সরবরাহ ও দাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই শুল্কসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছে। খেজুরের অযৌক্তিক শুল্কায়ন মূল্য বা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু নির্ধারণের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কমিশন আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন যে, বাস্তবসম্মত বাজারদর ও আন্তর্জাতিক উৎস মূল্য বিবেচনা করে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার কাজ চলছে। সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হবেন না, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও সঠিক মূল্যে ফল কিনতে পারবেন।