এক টুকরো রান্না করা গরুর মাংসের দাম কত? বাজারের হিসাব অনুযায়ী উত্তরটা হতে পারে বেশ চড়া। তবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের সামনে গেলে মিলছে ভিন্ন এক চিত্র। সেখানে মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে রান্না করা এক টুকরো গরুর মাংস। আর স্বল্প মূল্যে প্রিয় খাবারটি পেয়ে তৃপ্তির হাসি ফুটছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘ইয়াহিয়ার স্বাদের কোণ’ নামের খাবারের দোকান। দোকানটির মালিক মো. জয়নাল আবেদীন গত এক মাস ধরে প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় রান্না করা গরুর মাংস বিক্রি করছেন। তবে, একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুই টুকরো মাংস কিনতে পারেন। অর্থাৎ দুই টুকরো মাংসের জন্য খরচ হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা।
দোকান মালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে এভাবে স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মাংস বিক্রি শুরু হলে দোকানের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড় জমে যায়। কখনও কখনও তৈরি হয় দীর্ঘ সারি।
মাত্র ১০ টাকায় কীভাবে রান্না করা গরুর মাংস দেওয়া সম্ভব—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জানা যায়, এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতা।
জয়নাল আবেদীন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে সপ্তাহজুড়ে অনুদান সংগ্রহ করা হয়। কেউ নগদ অর্থ দেন, আবার কেউ সরাসরি গরুর মাংস কিনে দেন। সেই অর্থ ও মাংস দিয়েই প্রতি শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প মূল্যে মাংস বিক্রির আয়োজন করা হয়।
জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রায় এক বছর ধরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে খাবারের দোকান পরিচালনা করছেন। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার দোকানের আশপাশের কয়েকটি খাবারের দোকানে দুই টুকরো রান্না করা গরুর মাংস ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। একদিন চিন্তা করলাম, শিক্ষার্থীদের জন্য যদি কম দামে গরুর মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। বিষয়টি সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা উৎসাহ দেন এবং আর্থিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। মূলত তাদের দেওয়া অনুদানের টাকাতেই এখন মাত্র ১০ টাকায় এক টুকরো গরুর মাংস দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “অনেক শিক্ষক গোপনে টাকা দেন কিংবা গরুর মাংস কিনে দিয়ে যান। তারা মূলত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই সহযোগিতা করেন। তবে যতটুকু অর্থ বা মাংস পাওয়া যায়, তা দিয়ে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। সহযোগিতা বাড়লে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে স্বল্প মূল্যে মাংস দেওয়া সম্ভব হবে।”
তবে, শুধু ১০ টাকায় গরুর মাংসই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি সুবিধা চালু করেছেন জয়নাল আবেদীন। তাঁর দোকানে রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল কিংবা সবজি নিলে এর জন্য কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে জয়নাল আবেদীন বলেন, আশপাশের অনেক দোকানে রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল-সবজির জন্য আলাদা করে ১০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু আমি শিক্ষার্থীদের জন্য রুটি বা পরোটার সঙ্গে ডাল-সবজি বিনা মূল্যে দিয়ে থাকি। শিক্ষার্থীদের উপকার এবং সওয়াবের নিয়তেই মূলত এই উদ্যোগ নিয়েছি।
প্রতি শুক্রবার দুপুরে দোকানটির সামনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেন আলাদা এক চিত্র তৈরি করে। স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেকে দোকানের সামনে এসে অপেক্ষা করেন। মাংস বিক্রি শুরু হলে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দের খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা যায় উচ্ছ্বাস।
জয়নাল আবেদীন বলেন, শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে মাংস নিতে আসে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি চাই, সহযোগিতা বাড়লে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার আওতায় আনতে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা অন্য কেউ এই উদ্যোগে সহযোগিতা করতে চাইলে তাঁরা অনুদান দিতে পারেন। সহযোগিতা যত বাড়বে, তত বেশি শিক্ষার্থীকে স্বল্প মূল্যে গরুর মাংস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
পাবিপ্রবিতে মিলছে ১০ টাকায় গরুর মাংস, তৃপ্তির হাসি শিক্ষার্থীদের
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - প্রকাশিত ০৬:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- ১১ বার পঠিত
জনপ্রিয়



























