ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম সোনা, ১৬ জনের ১৫ জনই পদকজয়ী Logo ১০ অক্টোবর ঢাকায় ‘রিয়েল এস্টেট কানেক্ট বাংলাদেশ’, চলছে নিবন্ধন Logo শ্রেয়াসের প্রথম সেঞ্চুরি, ৩২ বল হাতে রেখেই জয় ভারতের Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাস, দিনে ৫০-৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের আশা Logo মেসির জার্সিটা আমি নেবই, মায়ের কসম: বেনিনি ডিফেন্ডার Logo নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, প্রতিদিন মিলতে পারে ৭০ লাখ ঘনফুট Logo বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি বানাবে টয়োটা, উৎপাদন শুরু ২০২৭ সালে Logo কক্সবাজারে মোটরসাইকেল ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন পর্যটকেরা, ইয়ামাহার নতুন উদ্যোগ Logo বাংলাদেশে ২০২৭ সালে হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন শুরু করবে টয়োটা Logo জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া হতে হবে সহজ, নির্ভুল

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি বানাবে টয়োটা, উৎপাদন শুরু ২০২৭ সালে

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে বিশ্বখ্যাত মোটরযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে একটি হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায় বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের প্রতিনিধিদল এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে অবহিত করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি এবং এই বৈঠকে সরকারের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে।

বৈঠকে জানানো হয় যে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেইকেল বা এইচইভি তৈরির কাজ শুরু করবে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে প্রবেশ করবে। টয়োটার এই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মূল দর্শন হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দেশের মানুষের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি উৎপাদন করা। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করে বিভাগীয় পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বিনিয়োগ প্রস্তাবকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বর্তমান সরকার দেশে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল, স্থিতিশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরবচ্ছিন্ন নীতি সহায়তা, উন্নত অবকাঠামোগত সুযোগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী মোটরযান উৎপাদনের পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো উদীয়মান খাতগুলোতেও টয়োটাকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তির স্থানান্তরে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জাপানি এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। কারখানার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি তারা স্থানীয় তরুণ সমাজের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করতে আগ্রহী। এর ফলে দেশের কর্মক্ষম যুবশক্তি আধুনিক শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সামগ্রিক শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে। সংশ্লিষ্ট মহله মনে করছে, এই বিনিয়োগ দেশের অটোমোবাইল শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম সোনা, ১৬ জনের ১৫ জনই পদকজয়ী

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি বানাবে টয়োটা, উৎপাদন শুরু ২০২৭ সালে

প্রকাশিত ১০:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে বিশ্বখ্যাত মোটরযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে একটি হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায় বৈঠকে টয়োটা তুশো করপোরেশনের প্রতিনিধিদল এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে অবহিত করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি এবং এই বৈঠকে সরকারের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে।

বৈঠকে জানানো হয় যে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে টয়োটা হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেইকেল বা এইচইভি তৈরির কাজ শুরু করবে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে প্রবেশ করবে। টয়োটার এই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মূল দর্শন হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দেশের মানুষের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি উৎপাদন করা। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করে বিভাগীয় পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বিনিয়োগ প্রস্তাবকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বর্তমান সরকার দেশে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল, স্থিতিশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরবচ্ছিন্ন নীতি সহায়তা, উন্নত অবকাঠামোগত সুযোগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী মোটরযান উৎপাদনের পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো উদীয়মান খাতগুলোতেও টয়োটাকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তির স্থানান্তরে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জাপানি এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। কারখানার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি তারা স্থানীয় তরুণ সমাজের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করতে আগ্রহী। এর ফলে দেশের কর্মক্ষম যুবশক্তি আধুনিক শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সামগ্রিক শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে। সংশ্লিষ্ট মহله মনে করছে, এই বিনিয়োগ দেশের অটোমোবাইল শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।