বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে গত সাত দিনে পরপর তিনটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মোট আটজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইয়াবাসহ আটকদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী। গাঁজা সেবনের দায়ে আটক তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যজন নৌকাচালক, যাঁকে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে মাদকের ব্যবহার ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এতে ক্যাম্পাসে চলাফেরায় সুস্থ পরিবেশ নিয়ে সংকোচ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশপাশি ক্যাম্পাসকে মাদকের এই ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে চারজনকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। এর দুই দিন পরেই বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম এলাকার একটি নির্জন স্থানে অভিযান চালায় প্রক্টরিয়াল বডি ও ক্যাম্পাস পুলিশ। সেখানে মাদক সেবনের সময় কেবি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রহ্মপুত্র নদের উদীচী ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ নামে এক নৌকাচালককে গাঁজাসহ আটক করা হয়।
পরপর এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসসংলগ্ন নির্জন এলাকাগুলোতে নজরদারি কতটা কার্যকর এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রিদওয়ান ইসলাম বলেন, বেশিরভাগ সময়ই রাতে হলে ফিরতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। জব্বারের মোড় থেকে হলে আসার পথে মাঝে মাঝেই চোখে পড়ে রেললাইনের উপরে এবং আমাদের হল সংলগ্ন মাঠে অনেক মানুষের আড্ডা, বোঝার আর বাকি থাকে না যে তারা কি করছে। মাঝে মাঝে একটু ভয় অনুভব হয় যে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় যদি কখনো আমার উপরে আক্রমণ করে।
কৃষিকন্যা হলের অপর শিক্ষার্থী মোছা. আফিয়া মোবাশ্বিরা বলেন, ক্যাম্পাসে পরপর এই ধরণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মনে নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি করেছে। বিগত সময়েও দেখেছি প্রশাসন কাউকে আটক করলেও দুইদিন পরেই সে জেল থেকে ছাড়া পেয়েই আবার পূর্বের মতোই অনৈতিক কাজে জড়িত হয়। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত না করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব না
মাদক নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা তুলে ধরে সহকারি প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই মাদকের ব্যবহার, পাচার ও সরবরাহ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যেখানে আমরা জানতে পারি যে ক্যাম্পাসে মাদক প্রবেশের একটা বড় মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। সেই সূত্র ধরেই আজকে আমরা উদীচী ঘাটে অভিযান চালাই ও মাদক সহ এক নৌকাচালককে আটক করি।
এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা চেয়ে বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সকলের জন্য এটি খুবই আতঙ্কের একটা পরিবেশ। প্রশাসনের একার পক্ষে এটাকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। সাংবাদিক সহ সকল স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতা কামনা করছি, সবাই আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করুক।

































