ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় সমাবর্তন: রেজিস্ট্রেশন শুরু ১২ অক্টোবর, অংশ নিতে পারবেন কারা Logo উপাচার্যকে চেয়ারে বসিয়ে ভূমিমন্ত্রী বললেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই’ Logo পত্রিকা: ‘ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস’ Logo সন্দেহের বশে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ তকমায় দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক Logo বাংলাদেশে এআইনির্ভর অর্থনীতি Logo সরু চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা বেড়েছে Logo যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, হুমকি বিনিয়োগ বন্ধের Logo বাজারে এলপিজির সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি Logo নোবেল পুরস্কারের এ টু জেড: মনোনয়ন থেকে পুরস্কার তুলে দেওয়া পর্যন্ত কী ঘটে Logo কনস্টেবল নিয়োগ ৬৪ জেলায়, আবেদন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, হুমকি বিনিয়োগ বন্ধের

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রস্তাবিত একটি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে না বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, যা এই আপত্তির কারণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই মেইলটিতে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবির কাছে চাওয়া ঋণ প্রস্তাবের নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছিল। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা এন্ডারসন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বির কাছে এই বার্তা পাঠান। পরবর্তীতে সেই মেইল তৎকালীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর কাছে ফরোয়ার্ড করা হয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এডিবির প্রতিনিধিদেরও তা অবহিত করা হয়।

মার্কিন আপত্তির প্রধান কারণ হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএমএন টেকনোলজিস বা হুয়াওয়ে মেরিন নেটওয়ার্কসকে যুক্তরাষ্ট্র অনিরাপদ বা ‘আনট্রাস্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নিষিদ্ধ তালিকার পাশাপাশি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিবেদনেও প্রতিষ্ঠানটিকে সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া প্রস্তাবিত এই ক্যাবলটি পুরোনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ট্রাংক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় প্রকল্পটি এডিবির বোর্ড সভা থেকে প্রত্যাহার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় সমাবর্তন: রেজিস্ট্রেশন শুরু ১২ অক্টোবর, অংশ নিতে পারবেন কারা

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, হুমকি বিনিয়োগ বন্ধের

প্রকাশিত ০৮:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রস্তাবিত একটি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে না বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, যা এই আপত্তির কারণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই মেইলটিতে মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবির কাছে চাওয়া ঋণ প্রস্তাবের নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছিল। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা এন্ডারসন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার ফজলে রাব্বির কাছে এই বার্তা পাঠান। পরবর্তীতে সেই মেইল তৎকালীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর কাছে ফরোয়ার্ড করা হয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এডিবির প্রতিনিধিদেরও তা অবহিত করা হয়।

মার্কিন আপত্তির প্রধান কারণ হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচএমএন টেকনোলজিস বা হুয়াওয়ে মেরিন নেটওয়ার্কসকে যুক্তরাষ্ট্র অনিরাপদ বা ‘আনট্রাস্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নিষিদ্ধ তালিকার পাশাপাশি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিবেদনেও প্রতিষ্ঠানটিকে সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া প্রস্তাবিত এই ক্যাবলটি পুরোনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ট্রাংক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় প্রকল্পটি এডিবির বোর্ড সভা থেকে প্রত্যাহার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।