ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

পান্থকুঞ্জ-হাতিরঝিল ধ্বংসের প্রকল্প বাতিল না হলে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা

রাজধানীতে হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ পার্ক ধ্বংস করে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করা না হলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এক নাগরিক সংলাপে এ কথা বলা হয়। ঢাকার হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ পার্ক ধ্বংস করে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাতিলের দাবিতে বাংলামোটরে বিআইপি সম্মেলনকক্ষে ৩১টি সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের আয়োজনে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্ক হয়ে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করা হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) উপদেষ্টা মুজিবুল হক হাওলাদার বলেন, ইতোমধ্যে অনেক প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। সেগুলোর মতো এই প্রকল্পও বাতিল করা হবে বলে আমরা আশা করি।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যদি এখান থেকে উত্থাপিত দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে সচিবালয় পর্যন্ত যাওয়া হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, হাতিরঝিল এবং পান্থকুঞ্জ পার্কের মতো এলাকার পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা না করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ঢাকা শহরে সবুজ এলাকা ও জলাধার কমে যাওয়ায় নগরজীবন ইতোমধ্যেই হুমকির মুখে। এই প্রকল্প পরিবেশগত ভারসাম্য আরও নষ্ট করবে।

এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ পরিবেশ সমীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা টেকসই উন্নয়নের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রকল্পগুলো পরিবেশবান্ধব হিসেবে বাস্তবায়ন করা উচিত।

ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই)-এর মুখপাত্র পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল বলেন, কয়েকজনের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের জন্য পান্থকুঞ্জের মতো জায়গা উজাড় করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো পরিবেশবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ৩৫ দিন অবস্থান করতে হয়নি। এমনকি কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়েও তা হয়নি। এ রকম বিকারহীন সমাজব্যবস্থা হতে পারে না।

সংলাপে ঢাকা শহরের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় গণপরিবহন কেন্দ্রিক প্রকল্প গ্রহণে জোর দেওয়া হয়। বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক শায়ের গফুর ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিশেষ সম্পাদক পারভীন ইসলামসহ অন্যরা সংলাপে বক্তব্য দেন।

সভা শেষে সংগঠনগুলোর নেতারা পান্থকুঞ্জ পার্কে অবস্থানরত বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব বলেন, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা তাদের সঙ্গে বসার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

রাজীব বলেন, পার্ক রক্ষার আন্দোলন করার কথা ছিল না। যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে বিগত সরকারের মতো পদদলিত করা হয়, তাহলে গণ-অভ্যুত্থানে এত আত্মাহুতি কেন দেওয়া হয়েছিল?

তিনি বলেন, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর ফাইভ স্টার হোটেলে সভা বন্ধ করতে হবে। দেশের পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

পান্থকুঞ্জ-হাতিরঝিল ধ্বংসের প্রকল্প বাতিল না হলে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা

প্রকাশিত ০১:৪২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

রাজধানীতে হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ পার্ক ধ্বংস করে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করা না হলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এক নাগরিক সংলাপে এ কথা বলা হয়। ঢাকার হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ পার্ক ধ্বংস করে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাতিলের দাবিতে বাংলামোটরে বিআইপি সম্মেলনকক্ষে ৩১টি সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের আয়োজনে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্ক হয়ে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করা হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) উপদেষ্টা মুজিবুল হক হাওলাদার বলেন, ইতোমধ্যে অনেক প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। সেগুলোর মতো এই প্রকল্পও বাতিল করা হবে বলে আমরা আশা করি।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যদি এখান থেকে উত্থাপিত দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে সচিবালয় পর্যন্ত যাওয়া হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, হাতিরঝিল এবং পান্থকুঞ্জ পার্কের মতো এলাকার পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা না করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ঢাকা শহরে সবুজ এলাকা ও জলাধার কমে যাওয়ায় নগরজীবন ইতোমধ্যেই হুমকির মুখে। এই প্রকল্প পরিবেশগত ভারসাম্য আরও নষ্ট করবে।

এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ পরিবেশ সমীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা টেকসই উন্নয়নের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রকল্পগুলো পরিবেশবান্ধব হিসেবে বাস্তবায়ন করা উচিত।

ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই)-এর মুখপাত্র পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল বলেন, কয়েকজনের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের জন্য পান্থকুঞ্জের মতো জায়গা উজাড় করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো পরিবেশবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ৩৫ দিন অবস্থান করতে হয়নি। এমনকি কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়েও তা হয়নি। এ রকম বিকারহীন সমাজব্যবস্থা হতে পারে না।

সংলাপে ঢাকা শহরের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় গণপরিবহন কেন্দ্রিক প্রকল্প গ্রহণে জোর দেওয়া হয়। বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক শায়ের গফুর ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিশেষ সম্পাদক পারভীন ইসলামসহ অন্যরা সংলাপে বক্তব্য দেন।

সভা শেষে সংগঠনগুলোর নেতারা পান্থকুঞ্জ পার্কে অবস্থানরত বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব বলেন, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা তাদের সঙ্গে বসার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

রাজীব বলেন, পার্ক রক্ষার আন্দোলন করার কথা ছিল না। যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে বিগত সরকারের মতো পদদলিত করা হয়, তাহলে গণ-অভ্যুত্থানে এত আত্মাহুতি কেন দেওয়া হয়েছিল?

তিনি বলেন, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর ফাইভ স্টার হোটেলে সভা বন্ধ করতে হবে। দেশের পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।