ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এমডব্লিউসি ২০২৬–এ নিজেদের ‘রোবট ফোন’ ও নতুন এআই ভিশন উন্মোচন করল অনার Logo ইল্লিয়ীনের মাল্টি-ব্র্যান্ড স্টোর এখন বরিশালে Logo কুবিতে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন Logo কুবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে সুন্নাহ সামগ্রী বিতরণ Logo ‎কুবিস্থ জামালপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রাফি-জয় Logo জাবিতে আয়াতুল্লাহ খামেনী ও সকল শহীদের স্মরণে গায়েবানা জানাযা Logo আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ  Logo ইরানে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল  Logo হাবিপ্রবিতে সাদা দলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কুবির নটরডেমিয়ান পরিবারের উদ্যোগে ১১০ এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ 

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আজ রোববার (১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর, জাতীয় সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত হন।

বিক্ষোভ সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। যারা ইসলামের উত্থান সহ্য করতে পারে না, তারা ইসরাইলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ইরানের পার্লামেন্টে হামলা, অর্থনৈতিক অবরোধসহ নানা ষড়যন্ত্রের পরও দেশটির অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।

তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে?

জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতিসংঘ যদি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষাবলম্বন করে, তবে বিশ্ববাসীর মধ্যে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি ওআইসি ও জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে তিনি দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ইরানে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।

 

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মী হত্যার বিচার দাবি 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এবং আরো কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তারা হাফিজুর রহমানের হত্যার বিচারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. রেজাউল করিম। এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বহু কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

জনপ্রিয়

এমডব্লিউসি ২০২৬–এ নিজেদের ‘রোবট ফোন’ ও নতুন এআই ভিশন উন্মোচন করল অনার

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ 

প্রকাশিত ১১:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আজ রোববার (১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর, জাতীয় সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত হন।

বিক্ষোভ সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। যারা ইসলামের উত্থান সহ্য করতে পারে না, তারা ইসরাইলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ইরানের পার্লামেন্টে হামলা, অর্থনৈতিক অবরোধসহ নানা ষড়যন্ত্রের পরও দেশটির অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।

তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে?

জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতিসংঘ যদি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষাবলম্বন করে, তবে বিশ্ববাসীর মধ্যে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি ওআইসি ও জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে তিনি দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ইরানে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।

 

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মী হত্যার বিচার দাবি 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এবং আরো কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তারা হাফিজুর রহমানের হত্যার বিচারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সকল অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. রেজাউল করিম। এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বহু কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।