ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’ Logo পাবিপ্রবিতে বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা Logo হামে শিশুমৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের Logo ডিআরইউ সঙ্গে পুপরোয়া’র মতবিনিময় সভা Logo শিক্ষকদের পাঠ মুল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামুলক করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

গুমের শিকার দুই ইবি শিক্ষার্থীর স্মরণে এবারও সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১১:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৬৫ বার পঠিত

১৩ বছর আগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিবিরের সদস্য ওয়ালিউল্লাহ এবং মুকাদ্দাসের স্মরণে নামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের উপলক্ষে এ কার্ড ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’র ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে রাত ১২ টার পরপর আশুলিয়ার নবীনগর গাড়ি থামিয়ে র‍্যাব পরিচয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনিক গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর থেকে তাদের স্মৃতি উজ্জীবিত রাখতে প্রতিবছর তাদের নামে সদস্য সম্মেলনের সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়ে আসছে ছাত্রশিবির।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী বলেন, “২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের দুই প্রিয় মুখ— ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস। ১২টি বছর ধরে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। তাদের ফিরে পেতে আমরা সবটুকু চেষ্টা করেছি, আমরা নবগঠিত গুম কমিশনের কাছে আমাদের দাবি পেশ করেছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করেছি। নিখোঁজ ভাইদের সন্ধানে যা যা করা সম্ভব, তার প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের এই দুই বীর সেনানীকে আজও জনশক্তি হিসেবে সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রেখেছে। প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তাঁদের জন্য ডেলিগেট কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন— আমরা আমাদের ভাইদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চাই। সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি, ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাইকে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন যেন তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে। মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ, আমাদের ভাইদেরা যেখানেই রাখুন, সুস্থ অবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।”

উল্লেখ্য, আল-মুকাদ্দাস পিরোজপুর জেলার সদর থানার ২নং কদমতলি ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারী গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা আব্দুল হালিম। ওয়ালিউল্লাহ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোলজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোলজালিয়া গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা ফজলুর রহমান। তারা উভয়ই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন অর্থ সম্পাদক এবং মুকাদ্দাস সাংস্কৃতিক সম্পাদক দায়িত্বরত ছিলেন। দুইজনই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দেশীয় ব্লকের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

জনপ্রিয়

রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার

গুমের শিকার দুই ইবি শিক্ষার্থীর স্মরণে এবারও সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির

প্রকাশিত ১১:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

১৩ বছর আগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিবিরের সদস্য ওয়ালিউল্লাহ এবং মুকাদ্দাসের স্মরণে নামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের উপলক্ষে এ কার্ড ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’র ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে রাত ১২ টার পরপর আশুলিয়ার নবীনগর গাড়ি থামিয়ে র‍্যাব পরিচয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনিক গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর থেকে তাদের স্মৃতি উজ্জীবিত রাখতে প্রতিবছর তাদের নামে সদস্য সম্মেলনের সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়ে আসছে ছাত্রশিবির।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী বলেন, “২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের দুই প্রিয় মুখ— ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস। ১২টি বছর ধরে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। তাদের ফিরে পেতে আমরা সবটুকু চেষ্টা করেছি, আমরা নবগঠিত গুম কমিশনের কাছে আমাদের দাবি পেশ করেছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করেছি। নিখোঁজ ভাইদের সন্ধানে যা যা করা সম্ভব, তার প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের এই দুই বীর সেনানীকে আজও জনশক্তি হিসেবে সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রেখেছে। প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তাঁদের জন্য ডেলিগেট কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন— আমরা আমাদের ভাইদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চাই। সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি, ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাইকে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন যেন তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে। মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ, আমাদের ভাইদেরা যেখানেই রাখুন, সুস্থ অবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।”

উল্লেখ্য, আল-মুকাদ্দাস পিরোজপুর জেলার সদর থানার ২নং কদমতলি ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারী গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা আব্দুল হালিম। ওয়ালিউল্লাহ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোলজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোলজালিয়া গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা ফজলুর রহমান। তারা উভয়ই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন অর্থ সম্পাদক এবং মুকাদ্দাস সাংস্কৃতিক সম্পাদক দায়িত্বরত ছিলেন। দুইজনই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দেশীয় ব্লকের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।