ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo হুতি হামলা থেকে সৌদি আরবের সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য Logo রাজধানীতে ‘আন্তর্জাতিক শেফস ডে’ উদযাপন Logo এলপিজির দাম কত বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো? বিইআরসিতে প্রস্তাব Logo সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নয়, আপনি বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী Logo ভিক্ষা করার অভিযোগে রিয়াদে বাংলাদেশি ও ভারতীয় ৪ জন গ্রেপ্তার Logo লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি করে মারধর, কৃষক দল নেতা গ্রেপ্তার Logo টাইগার শ্রফ নয়, মূল নিশানা ছিল অন্য কেউ: এনডিটিভি Logo বড় ধরনের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র, যেসব কারণ নেপথ্যে Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, অতঃপর যা বললেন ওসি Logo হরমুজ প্রণালির প্রয়োজন ফুরাতে পারে পাঁচ বছরের মধ্যে: এইচএসবিসি প্রধান

গুমের শিকার দুই ইবি শিক্ষার্থীর স্মরণে এবারও সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১১:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৮৩ বার পঠিত

১৩ বছর আগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিবিরের সদস্য ওয়ালিউল্লাহ এবং মুকাদ্দাসের স্মরণে নামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের উপলক্ষে এ কার্ড ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’র ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে রাত ১২ টার পরপর আশুলিয়ার নবীনগর গাড়ি থামিয়ে র‍্যাব পরিচয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনিক গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর থেকে তাদের স্মৃতি উজ্জীবিত রাখতে প্রতিবছর তাদের নামে সদস্য সম্মেলনের সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়ে আসছে ছাত্রশিবির।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী বলেন, “২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের দুই প্রিয় মুখ— ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস। ১২টি বছর ধরে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। তাদের ফিরে পেতে আমরা সবটুকু চেষ্টা করেছি, আমরা নবগঠিত গুম কমিশনের কাছে আমাদের দাবি পেশ করেছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করেছি। নিখোঁজ ভাইদের সন্ধানে যা যা করা সম্ভব, তার প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের এই দুই বীর সেনানীকে আজও জনশক্তি হিসেবে সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রেখেছে। প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তাঁদের জন্য ডেলিগেট কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন— আমরা আমাদের ভাইদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চাই। সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি, ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাইকে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন যেন তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে। মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ, আমাদের ভাইদেরা যেখানেই রাখুন, সুস্থ অবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।”

উল্লেখ্য, আল-মুকাদ্দাস পিরোজপুর জেলার সদর থানার ২নং কদমতলি ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারী গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা আব্দুল হালিম। ওয়ালিউল্লাহ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোলজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোলজালিয়া গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা ফজলুর রহমান। তারা উভয়ই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন অর্থ সম্পাদক এবং মুকাদ্দাস সাংস্কৃতিক সম্পাদক দায়িত্বরত ছিলেন। দুইজনই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দেশীয় ব্লকের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

জনপ্রিয়

হুতি হামলা থেকে সৌদি আরবের সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য

গুমের শিকার দুই ইবি শিক্ষার্থীর স্মরণে এবারও সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির

প্রকাশিত ১১:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

১৩ বছর আগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিবিরের সদস্য ওয়ালিউল্লাহ এবং মুকাদ্দাসের স্মরণে নামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের উপলক্ষে এ কার্ড ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’র ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে রাত ১২ টার পরপর আশুলিয়ার নবীনগর গাড়ি থামিয়ে র‍্যাব পরিচয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনিক গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর থেকে তাদের স্মৃতি উজ্জীবিত রাখতে প্রতিবছর তাদের নামে সদস্য সম্মেলনের সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়ে আসছে ছাত্রশিবির।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী বলেন, “২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের দুই প্রিয় মুখ— ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস। ১২টি বছর ধরে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। তাদের ফিরে পেতে আমরা সবটুকু চেষ্টা করেছি, আমরা নবগঠিত গুম কমিশনের কাছে আমাদের দাবি পেশ করেছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করেছি। নিখোঁজ ভাইদের সন্ধানে যা যা করা সম্ভব, তার প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের এই দুই বীর সেনানীকে আজও জনশক্তি হিসেবে সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রেখেছে। প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তাঁদের জন্য ডেলিগেট কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন— আমরা আমাদের ভাইদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চাই। সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি, ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাইকে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন যেন তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে। মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ, আমাদের ভাইদেরা যেখানেই রাখুন, সুস্থ অবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।”

উল্লেখ্য, আল-মুকাদ্দাস পিরোজপুর জেলার সদর থানার ২নং কদমতলি ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারী গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা আব্দুল হালিম। ওয়ালিউল্লাহ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোলজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোলজালিয়া গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা ফজলুর রহমান। তারা উভয়ই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন অর্থ সম্পাদক এবং মুকাদ্দাস সাংস্কৃতিক সম্পাদক দায়িত্বরত ছিলেন। দুইজনই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দেশীয় ব্লকের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।