ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ক্রেডিলিংককে প্রযুক্তি সেবা দেবে বিট্র্যাক সলিউশনস Logo চেয়ারে বসা নিয়ে রাবির দুই বিভাগের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪ Logo মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে Logo কবি নজরুল কলেজে ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল Logo কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ Logo কচুয়ায় মঘিয়া ইউনিয়ন আন্তঃ ওয়ার্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী Logo পরিক্ষায় নকল করায় এক বছরের জন্য বহিষ্কার রাবির সিনেট সদস্য আকিল Logo পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দফা দাবি শিবিরের Logo বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার ১১ বছরের যমজ ভাই তানভীর-তাফসীর Logo অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎ অপচয়ের মিথ নিয়ে জাবিতে আলোচনা সভা

গুমের শিকার দুই ইবি শিক্ষার্থীর স্মরণে এবারও সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১১:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৫৪ বার পঠিত

১৩ বছর আগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিবিরের সদস্য ওয়ালিউল্লাহ এবং মুকাদ্দাসের স্মরণে নামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের উপলক্ষে এ কার্ড ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’র ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে রাত ১২ টার পরপর আশুলিয়ার নবীনগর গাড়ি থামিয়ে র‍্যাব পরিচয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনিক গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর থেকে তাদের স্মৃতি উজ্জীবিত রাখতে প্রতিবছর তাদের নামে সদস্য সম্মেলনের সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়ে আসছে ছাত্রশিবির।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী বলেন, “২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের দুই প্রিয় মুখ— ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস। ১২টি বছর ধরে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। তাদের ফিরে পেতে আমরা সবটুকু চেষ্টা করেছি, আমরা নবগঠিত গুম কমিশনের কাছে আমাদের দাবি পেশ করেছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করেছি। নিখোঁজ ভাইদের সন্ধানে যা যা করা সম্ভব, তার প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের এই দুই বীর সেনানীকে আজও জনশক্তি হিসেবে সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রেখেছে। প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তাঁদের জন্য ডেলিগেট কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন— আমরা আমাদের ভাইদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চাই। সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি, ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাইকে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন যেন তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে। মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ, আমাদের ভাইদেরা যেখানেই রাখুন, সুস্থ অবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।”

উল্লেখ্য, আল-মুকাদ্দাস পিরোজপুর জেলার সদর থানার ২নং কদমতলি ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারী গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা আব্দুল হালিম। ওয়ালিউল্লাহ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোলজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোলজালিয়া গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা ফজলুর রহমান। তারা উভয়ই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন অর্থ সম্পাদক এবং মুকাদ্দাস সাংস্কৃতিক সম্পাদক দায়িত্বরত ছিলেন। দুইজনই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দেশীয় ব্লকের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

জনপ্রিয়

ক্রেডিলিংককে প্রযুক্তি সেবা দেবে বিট্র্যাক সলিউশনস

গুমের শিকার দুই ইবি শিক্ষার্থীর স্মরণে এবারও সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির

প্রকাশিত ১১:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

১৩ বছর আগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও শিবিরের সদস্য ওয়ালিউল্লাহ এবং মুকাদ্দাসের স্মরণে নামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের উপলক্ষে এ কার্ড ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’র ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথে রাত ১২ টার পরপর আশুলিয়ার নবীনগর গাড়ি থামিয়ে র‍্যাব পরিচয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনিক গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে। এখন পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এরপর থেকে তাদের স্মৃতি উজ্জীবিত রাখতে প্রতিবছর তাদের নামে সদস্য সম্মেলনের সম্মেলনের কার্ড ছাপিয়ে আসছে ছাত্রশিবির।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ইউসুব আলী বলেন, “২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের দুই প্রিয় মুখ— ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস। ১২টি বছর ধরে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি। তাদের ফিরে পেতে আমরা সবটুকু চেষ্টা করেছি, আমরা নবগঠিত গুম কমিশনের কাছে আমাদের দাবি পেশ করেছি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করেছি। নিখোঁজ ভাইদের সন্ধানে যা যা করা সম্ভব, তার প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি।

তিনি আরো বলেন, “ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের এই দুই বীর সেনানীকে আজও জনশক্তি হিসেবে সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রেখেছে। প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তাঁদের জন্য ডেলিগেট কার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের একটাই স্বপ্ন— আমরা আমাদের ভাইদের সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে চাই। সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি, ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাইকে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন যেন তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে। মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ, আমাদের ভাইদেরা যেখানেই রাখুন, সুস্থ অবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।”

উল্লেখ্য, আল-মুকাদ্দাস পিরোজপুর জেলার সদর থানার ২নং কদমতলি ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারী গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা আব্দুল হালিম। ওয়ালিউল্লাহ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার সোলজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোলজালিয়া গ্রামের সন্তান, তার পিতার নাম মাওলানা ফজলুর রহমান। তারা উভয়ই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিলেন। ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন অর্থ সম্পাদক এবং মুকাদ্দাস সাংস্কৃতিক সম্পাদক দায়িত্বরত ছিলেন। দুইজনই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দেশীয় ব্লকের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।