জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি। প্রতি বছরের মতো এবারও সংগঠনটির পক্ষ থেকে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সাথেই উক্ত জেলা সমিতির তথ্য সহায়তা কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়।
সংগঠনটির হেল্প ডেস্ক থেকে পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহায়তা, পরীক্ষা কেন্দ্র সম্পর্কে দিকনির্দেশনা, ব্যাগ ও মোবাইল গচ্ছিত রাখা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্বস্তি পাচ্ছেন।
হাটহাজারী থেকে আগত পরীক্ষার্থী আহমাদ সাঈদ বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে ক্যাম্পাস সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। জেলা সমিতির হেল্প ডেস্ক থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে।”
বাঁশখালি থেকে সন্তানকে নিয়ে আসা অভিভাবক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “দূর থেকে এসে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখানে এসে প্রথমেই আমি আমাদের ভাষায় কথা বলি, তারা আমার কথা বুঝে যথাযথ সম্মানের সাথে আচরণ করে। চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সদস্যরা যেভাবে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাতে আমার নিজ বাড়িতে এসেছি মনে হয়েছে। ”
সরেজমিনে দেখা যায়, ভর্তি পরীক্ষার দিনগুলোতে স্থাপিত ভর্তি সহায়তা টেন্টে সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা ছিল। নির্দিষ্ট টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও ব্যাগ নিরাপদে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে তারা নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
সহায়তা কার্যক্রমের প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহতাব চৌধুরী বলেন, “এই সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের ২৫ জনেরও অধিক শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা সুন্দরভাবে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবো বলে আশাবাদী।”
সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়া নাজিম রিয়াদ বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের এই সেবামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে ‘মুসকান ড্রিংকিং ওয়াটার’। তাদের প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের এই উদ্যোগে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী ও পরিচিতজনেরা অনুদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে পাওয়ার আশা রাখি।”
চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




















