বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কর্মরত ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সাত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) প্রশিক্ষণ কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
‘ট্রেনিং অন ইথিক্যাল ইনোভেশন, ডাটা ড্রিভেন জার্নালিজম অ্যান্ড এআই রিপোর্টিং’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য, শিক্ষানবিশ সাংবাদিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের কর্মকর্তাসহ মোট ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে এবং জিটিআইয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
জিটিআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন শাখার পরিচালক ও কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সেরা চারজন প্রশিক্ষণার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির বার্ষিক প্রকাশনা ‘অন্বেষণ’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে তথ্য বিভ্রান্তির ঝুঁকি বেড়েছে। সত্য তথ্য শনাক্ত করা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রশিক্ষণ জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে আধুনিক স্মার্ট টুল ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুধু লিখিত সংবাদ নয়, ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনের কৌশলও প্রশিক্ষণার্থীরা শিখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দেবেন।’
সাংবাদিকতার নৈতিকতা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘সাংবাদিকদের সত্যকে সত্যভাবেই উপস্থাপন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে বিচ্যুতি থাকলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করাও সাংবাদিকদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন এবং এর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও গবেষকদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।’




















