ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার Logo শুধু নিয়ন্ত্রন নয়, ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব  Logo নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সাংবাদিকদের পিআইবির প্রশিক্ষণ Logo ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা সংশোধনের দাবিতে জাবিতে প্রাণরসায়ন সংসদের মানববন্ধন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত জরুরি নির্দেশনা সংশোধন এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি রিপোর্ট সিগনেটরি অথরিটি বিষয়ে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে প্রাণরসায়ন সংসদ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত স্মারক নং– স্বা: অধি:/হাস:/নির্দেশনা/২০২৫/১৫ (তারিখ: ০৫/০১/২০২৬)–এর ৫ নম্বর দফায় শুধু বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসকদের ডায়াগনস্টিক ল্যাব রিপোর্টে সিগনেটরি অথরিটি দেওয়ার নির্দেশনা অস্পষ্ট ও বৈষম্যমূলক। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বায়োকেমিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের অবদান ও পেশাগত দক্ষতা উপেক্ষিত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রাণরসায়ন সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেন,“স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাই আমাদের মূল দাবি। গত প্রায় ৫০ বছর ধরে বায়োকেমিস্টরা ল্যাবভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও বায়োকেমিস্টদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বায়োকেমিস্টরা ল্যাব রিপোর্ট বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়া পরিচালনায় সম্পূর্ণ যোগ্য। তাই কেবল বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সিগনেটরি অথরিটি দেওয়াকে আমরা অযৌক্তিক মনে করি।”

সংসদের সভাপতি ও প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আশরাফুল হাসান বলেন, “ডিজি হেলথের প্রজ্ঞাপনের ৫ নম্বর দফায় বায়োকেমিস্টদের ভূমিকা কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে। অথচ বায়োকেমিস্টরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেস্ট ভ্যালিডেশন, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং রোগের সঙ্গে রিপোর্টের সম্পর্ক নির্ণয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। ডায়াগনসিস একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া-এখানে চিকিৎসক, বায়োকেমিস্টসহ সব বিশেষজ্ঞের সম্মিলিত ভূমিকা থাকা জরুরি।”

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় কেবল বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সিগনেটরি অথরিটি দেওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট ও বৈষম্যমূলক। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বায়োকেমিস্টরা রোগ নির্ণয়, ল্যাব রিপোর্ট বিশ্লেষণ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও আধুনিক ডায়াগনস্টিকসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে স্বাস্থ্যসেবা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অসংখ্য গ্রাজুয়েটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি জানান, ডায়াগনস্টিক ল্যাব রিপোর্টের সিগনেটরি অথরিটি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত সংশোধন করে বায়োকেমিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সব বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে করে একটি সমন্বিত, কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি ডিজি হেলথ কর্তৃক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের জন্য জারিকৃত নির্দেশানার ৫ নম্বর ধারায় শুধুমাত্র বিএমডিসি রেজিস্টার্ড ডাক্তারদের দ্বারা টেস্ট রিপোর্টে স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা সংশোধনের দাবিতে জাবিতে প্রাণরসায়ন সংসদের মানববন্ধন

প্রকাশিত ১০:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত জরুরি নির্দেশনা সংশোধন এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি রিপোর্ট সিগনেটরি অথরিটি বিষয়ে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে প্রাণরসায়ন সংসদ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) স্বাক্ষরিত স্মারক নং– স্বা: অধি:/হাস:/নির্দেশনা/২০২৫/১৫ (তারিখ: ০৫/০১/২০২৬)–এর ৫ নম্বর দফায় শুধু বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসকদের ডায়াগনস্টিক ল্যাব রিপোর্টে সিগনেটরি অথরিটি দেওয়ার নির্দেশনা অস্পষ্ট ও বৈষম্যমূলক। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বায়োকেমিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের অবদান ও পেশাগত দক্ষতা উপেক্ষিত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রাণরসায়ন সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেন,“স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাই আমাদের মূল দাবি। গত প্রায় ৫০ বছর ধরে বায়োকেমিস্টরা ল্যাবভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও বায়োকেমিস্টদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বায়োকেমিস্টরা ল্যাব রিপোর্ট বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়া পরিচালনায় সম্পূর্ণ যোগ্য। তাই কেবল বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সিগনেটরি অথরিটি দেওয়াকে আমরা অযৌক্তিক মনে করি।”

সংসদের সভাপতি ও প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আশরাফুল হাসান বলেন, “ডিজি হেলথের প্রজ্ঞাপনের ৫ নম্বর দফায় বায়োকেমিস্টদের ভূমিকা কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে। অথচ বায়োকেমিস্টরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেস্ট ভ্যালিডেশন, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং রোগের সঙ্গে রিপোর্টের সম্পর্ক নির্ণয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। ডায়াগনসিস একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া-এখানে চিকিৎসক, বায়োকেমিস্টসহ সব বিশেষজ্ঞের সম্মিলিত ভূমিকা থাকা জরুরি।”

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় কেবল বিএমডিসি নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সিগনেটরি অথরিটি দেওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট ও বৈষম্যমূলক। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বায়োকেমিস্টরা রোগ নির্ণয়, ল্যাব রিপোর্ট বিশ্লেষণ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও আধুনিক ডায়াগনস্টিকসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে স্বাস্থ্যসেবা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অসংখ্য গ্রাজুয়েটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি জানান, ডায়াগনস্টিক ল্যাব রিপোর্টের সিগনেটরি অথরিটি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত সংশোধন করে বায়োকেমিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সব বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে করে একটি সমন্বিত, কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি ডিজি হেলথ কর্তৃক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের জন্য জারিকৃত নির্দেশানার ৫ নম্বর ধারায় শুধুমাত্র বিএমডিসি রেজিস্টার্ড ডাক্তারদের দ্বারা টেস্ট রিপোর্টে স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।