ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে ‘পতিত দোসরদের’ নাশকতার চেষ্টা: রিজভী Logo কুবি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তা মেলা Logo পাবিপ্রবির সেন্ট্রাল ক্যাফেটারিয়ার খাবারে মিলল কেড়া পোকা, ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা Logo প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন গোবিপ্রবির ১০ শিক্ষার্থী  Logo লন্ডনের সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি Logo ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন নোবিপ্রবির ৮ শিক্ষার্থী Logo প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পাবিপ্রবির ১১ শিক্ষার্থী ‎ Logo নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলেও যোগাযোগ, স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু বাংলালিংকের Logo ফিনল্যান্ডে গুগলের ডেটা সেন্টারের কাজ বন্ধের নির্দেশ Logo আইফোন ডুও কেন অনন্য

হৃৎপিণ্ডের প্রতীক এল কোথা থেকে, দেখতে এটি হৃৎপিণ্ডের মতো নয় কেন

ভালোবাসা এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমরা যে বিশেষ আকৃতিটি ব্যবহার করে থাকি, তা মানুষের আসল হৃৎপিণ্ডের анатоমি বা গঠনের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী মানবদেহের হৃদপিণ্ডের আকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা হলেও, যুগ যুগ ধরে এই কাল্পনিক প্রতীকটিকেই ভালোবাসার সর্বজনীন চিহ্ন হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কেন এই সাংকেতিক রূপটি এত জনপ্রিয় হলো এবং এর পেছনে ঠিক কী ধরনের ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতা প্রতীকটির উৎস নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে। গবেষকদের মতে, এই জনপ্রিয় আকৃতিটির পেছনে কোনো একটি মাত্র নির্দিষ্ট ঘটনা বা উৎস কাজ করেনি, বরং শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির হাত ধরে এর বর্তমান রূপটি গড়ে উঠেছে। প্রাচীন গ্রিস ও রোমের বিভিন্ন শিল্পকলায় এই ধরনের পাতার আকৃতির প্রতীক ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে আজকের এই পরিচিত রূপ ধারণ করে।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বা প্রাচীন মুদ্রার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিলফিয়াম নামক বিলুপ্ত এক প্রকার উদ্ভিদের বীজ বা পাতার আকৃতির সঙ্গে এই প্রতীকের অবিশ্বাস্য মিল রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা জন্মনিরোধকসহ নানা ঔষধি কাজে এই গাছটি ব্যবহার করত এবং এর বীজকোষটি দেখতে অবিকল বর্তমানের লাভ প্রতীকের মতো ছিল। মুদ্রা এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনে এই উদ্ভিদের পাতার আকৃতি খোদাই করা থাকত, যা থেকে ধীরে ধীরে মানুষের মনে প্রতীকটির ধারণা পোক্ত হতে শুরু করে।

মধ্যযুগে ইউরোপীয় শিল্পকলা এবং ধর্মীয় পাণ্ডুলিপিতে এই প্রতীকটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ত্রয়োদশ শতাব্দীর পর থেকে শিল্পীরা মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য এই কাল্পনিক নকশাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় শারীরতত্ত্বের সঠিক জ্ঞান অর্জিত হলেও, মানুষের মন থেকে ভালোবাসার এই ঐতিহ্যবাহী ও কাল্পনিক প্রতীকটির আবেদন আজও এতটুকুও ম্লান হয়নি।

জনপ্রিয়

সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে ‘পতিত দোসরদের’ নাশকতার চেষ্টা: রিজভী

হৃৎপিণ্ডের প্রতীক এল কোথা থেকে, দেখতে এটি হৃৎপিণ্ডের মতো নয় কেন

প্রকাশিত ০৯:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভালোবাসা এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমরা যে বিশেষ আকৃতিটি ব্যবহার করে থাকি, তা মানুষের আসল হৃৎপিণ্ডের анатоমি বা গঠনের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী মানবদেহের হৃদপিণ্ডের আকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা হলেও, যুগ যুগ ধরে এই কাল্পনিক প্রতীকটিকেই ভালোবাসার সর্বজনীন চিহ্ন হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কেন এই সাংকেতিক রূপটি এত জনপ্রিয় হলো এবং এর পেছনে ঠিক কী ধরনের ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতা প্রতীকটির উৎস নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে। গবেষকদের মতে, এই জনপ্রিয় আকৃতিটির পেছনে কোনো একটি মাত্র নির্দিষ্ট ঘটনা বা উৎস কাজ করেনি, বরং শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির হাত ধরে এর বর্তমান রূপটি গড়ে উঠেছে। প্রাচীন গ্রিস ও রোমের বিভিন্ন শিল্পকলায় এই ধরনের পাতার আকৃতির প্রতীক ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে আজকের এই পরিচিত রূপ ধারণ করে।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বা প্রাচীন মুদ্রার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিলফিয়াম নামক বিলুপ্ত এক প্রকার উদ্ভিদের বীজ বা পাতার আকৃতির সঙ্গে এই প্রতীকের অবিশ্বাস্য মিল রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা জন্মনিরোধকসহ নানা ঔষধি কাজে এই গাছটি ব্যবহার করত এবং এর বীজকোষটি দেখতে অবিকল বর্তমানের লাভ প্রতীকের মতো ছিল। মুদ্রা এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনে এই উদ্ভিদের পাতার আকৃতি খোদাই করা থাকত, যা থেকে ধীরে ধীরে মানুষের মনে প্রতীকটির ধারণা পোক্ত হতে শুরু করে।

মধ্যযুগে ইউরোপীয় শিল্পকলা এবং ধর্মীয় পাণ্ডুলিপিতে এই প্রতীকটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ত্রয়োদশ শতাব্দীর পর থেকে শিল্পীরা মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য এই কাল্পনিক নকশাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় শারীরতত্ত্বের সঠিক জ্ঞান অর্জিত হলেও, মানুষের মন থেকে ভালোবাসার এই ঐতিহ্যবাহী ও কাল্পনিক প্রতীকটির আবেদন আজও এতটুকুও ম্লান হয়নি।