ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

শতবর্ষী আটঘরের নৌকার হাটে বেচাকেনার ধুম, উন্নয়নের দাবি ব্যবসায়ীদের

পিরোজপুরের নেছারাবাদের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী আটঘরের নৌকার হাটে বর্তমানে পুরোদমে চলছে কেনাবেচা। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই এই হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই হাটে প্রতিদিন শত শত নৌকা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই হাটের খ্যাতি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঐতিহ্যবাহী হাট থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার নৌকা বেচাকেনা হয়ে থাকে। সাধারণত বর্ষার সময় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে জলপথের যোগাযোগের জন্য ছোট ও মাঝারি আকারের নৌকার চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে আশপাশের এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পেয়ারা ও আমড়া উৎপাদিত হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত এসব ফল পরিবহনের জন্য নৌকাগুলোর জুড়ি মেলা ভার।

নেছারাবাদ ছাড়াও ঝালকাঠির ভীমরুলি এবং বরিশালের বানারীপাড়ার মতো বিখ্যাত ভাসমান বাজারগুলোতে মূলত এই নৌকাগুলোর মাধ্যমেই ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়। বর্ষার দিনে যখন চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করে, তখন কৃষকেরা তাদের শাকসবজি, পেয়ারা ও আমড়া ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে হাটে নিয়ে আসেন। ফলে এসব অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এই নৌকাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।

এদিকে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখা এই হাটটির ব্যবসায়ীরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, শত বছরের পুরোনো এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্রেতাদের যাতায়াত আরও সহজ করার স্বার্থে এই হাটের আরও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল: টুকু

শতবর্ষী আটঘরের নৌকার হাটে বেচাকেনার ধুম, উন্নয়নের দাবি ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত ১১:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী আটঘরের নৌকার হাটে বর্তমানে পুরোদমে চলছে কেনাবেচা। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই এই হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই হাটে প্রতিদিন শত শত নৌকা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই হাটের খ্যাতি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঐতিহ্যবাহী হাট থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার নৌকা বেচাকেনা হয়ে থাকে। সাধারণত বর্ষার সময় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে জলপথের যোগাযোগের জন্য ছোট ও মাঝারি আকারের নৌকার চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে আশপাশের এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পেয়ারা ও আমড়া উৎপাদিত হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত এসব ফল পরিবহনের জন্য নৌকাগুলোর জুড়ি মেলা ভার।

নেছারাবাদ ছাড়াও ঝালকাঠির ভীমরুলি এবং বরিশালের বানারীপাড়ার মতো বিখ্যাত ভাসমান বাজারগুলোতে মূলত এই নৌকাগুলোর মাধ্যমেই ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়। বর্ষার দিনে যখন চারপাশ পানিতে থৈ থৈ করে, তখন কৃষকেরা তাদের শাকসবজি, পেয়ারা ও আমড়া ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে হাটে নিয়ে আসেন। ফলে এসব অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এই নৌকাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।

এদিকে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখা এই হাটটির ব্যবসায়ীরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, শত বছরের পুরোনো এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্রেতাদের যাতায়াত আরও সহজ করার স্বার্থে এই হাটের আরও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।