ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্লে-জোন নির্মাণ করল রবি Logo ভিভো ওয়াই৩১ডি-এর সাথে উৎসবের দিন আরও রঙিন Logo পুনর্বাসন ও জীবিকা উন্নয়নে সিআরপি ও ডিআরআরএ–র পাশে ইউনিলিভার বাংলাদেশ Logo নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপি নিয়ে বাংলাদেশি কূটনীতিকের বিষোদগার Logo দেশের বাজারে নুবিয়া ভি৮০ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন Logo সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে হাসি ফোটাতে রমজানে কোকা-কোলার বিশেষ উদ্যোগ Logo শহর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে কর্মীদের দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান ডিএনসিসি প্রশাসকের Logo বগুড়া ও খুলনায় গ্র‍্যান্ড ওপেনিংয়ের মাধ্যমে ইল্লিয়ীনের যাত্রা শুরু Logo আফটার-সেলসে রিয়েলমির নতুন মানদণ্ডঃ এক্সক্লুসিভ ‘১ আওয়ার সার্ভিস Logo প্রথমবারের মতো স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর নিয়ে বাজারে এলো ইনফিনিক্স নোট ৬০ সিরিজ

খুবিতে ‘ফেউ’ প্রদর্শনী: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচিত্র

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘থার্টি ফাইভ এম এম – দি কে ইউ মুভি ক্লাব’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নির্মাতা সুকর্ন সাহেদ- এর ‘ফেউ’ ওয়েব সিরিজের বিশেষ প্রদর্শনী।

আজ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী অডিটোরিয়ামে এ প্রদর্শনী প্রদর্শিত হয়। খুলনা ও সুন্দরবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজের কলাকৌশলীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

‘ফেউ’ শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত এক শক্তিশালী গল্প। বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা সিনেমার মাধ্যমে চিত্রায়িত হয়েছে। নির্মাতা সুকর্ন সাহেদ মনে করেন, এ ধরনের চলচ্চিত্র দেশের বাস্তবতা ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

মরিচঝাঁপি থেকে ২০০২—দুই সময়ের গল্প ‘ফেউ’ চলচ্চিত্রের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল একটি ১৯৭৮ সালের মরিচঝাঁপি এবং অন্যটি ২০০২ সালের বাংলাদেশ। নির্মাতাদের ভাষ্যে, মরিচঝাঁপির ঘটনাসহ সে সময়কার খুলনার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে, যা ২০০২ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। সিনেমাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক বিস্তৃত চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে শুধু খুলনার ঘটনাপ্রবাহ নয়, বরং বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও উঠে এসেছে। একাধিক পক্ষের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ সংলাপ “ভাটি যার দখলে, পুরো এশিয়া তার দখলে থাকবে” এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী চরিত্রে তারিক আনাম খান, সুনীল চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী, মার্শাল চরিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, সুনীতা দেবী চরিত্রে তাহমীনা অথৈ, পলাশ চরিত্রে রিজভী রিজু, ড্যানিয়েল চরিত্রে তানভীর অপূর্ব, সোহেল চরিত্রে হোসাইন জীবন।

বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ও দীর্ঘ গবেষণা নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস ধরে ছবিটির শুটিং করা হয়েছে মূলত বাদা অঞ্চলে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরতে তাঁরা দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে গল্প সাজিয়েছেন। এতে খুলনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে।

প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। অনেকেই ছবিটি দেখে সমাজ ও রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন বলে মত দিয়েছেন। ‘ফেউ’ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতার এক অনন্য মিশ্রণ।

জনপ্রিয়

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্লে-জোন নির্মাণ করল রবি

খুবিতে ‘ফেউ’ প্রদর্শনী: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচিত্র

প্রকাশিত ০৮:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘থার্টি ফাইভ এম এম – দি কে ইউ মুভি ক্লাব’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নির্মাতা সুকর্ন সাহেদ- এর ‘ফেউ’ ওয়েব সিরিজের বিশেষ প্রদর্শনী।

আজ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী অডিটোরিয়ামে এ প্রদর্শনী প্রদর্শিত হয়। খুলনা ও সুন্দরবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজের কলাকৌশলীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

‘ফেউ’ শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত এক শক্তিশালী গল্প। বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা সিনেমার মাধ্যমে চিত্রায়িত হয়েছে। নির্মাতা সুকর্ন সাহেদ মনে করেন, এ ধরনের চলচ্চিত্র দেশের বাস্তবতা ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

মরিচঝাঁপি থেকে ২০০২—দুই সময়ের গল্প ‘ফেউ’ চলচ্চিত্রের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল একটি ১৯৭৮ সালের মরিচঝাঁপি এবং অন্যটি ২০০২ সালের বাংলাদেশ। নির্মাতাদের ভাষ্যে, মরিচঝাঁপির ঘটনাসহ সে সময়কার খুলনার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে, যা ২০০২ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। সিনেমাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক বিস্তৃত চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে শুধু খুলনার ঘটনাপ্রবাহ নয়, বরং বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও উঠে এসেছে। একাধিক পক্ষের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ সংলাপ “ভাটি যার দখলে, পুরো এশিয়া তার দখলে থাকবে” এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী চরিত্রে তারিক আনাম খান, সুনীল চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী, মার্শাল চরিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, সুনীতা দেবী চরিত্রে তাহমীনা অথৈ, পলাশ চরিত্রে রিজভী রিজু, ড্যানিয়েল চরিত্রে তানভীর অপূর্ব, সোহেল চরিত্রে হোসাইন জীবন।

বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ও দীর্ঘ গবেষণা নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস ধরে ছবিটির শুটিং করা হয়েছে মূলত বাদা অঞ্চলে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরতে তাঁরা দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে গল্প সাজিয়েছেন। এতে খুলনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে।

প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। অনেকেই ছবিটি দেখে সমাজ ও রাজনীতিকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন বলে মত দিয়েছেন। ‘ফেউ’ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতার এক অনন্য মিশ্রণ।