ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি Logo নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল? Logo অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকার রাখতে হবে: জাতিসংঘে আইরিন খান Logo ব্যর্থতাই কি সফলতার আসল চাবিকাঠি? Logo ঢাকার ২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নয়, বিনিয়োগ চায়: রাষ্ট্রপতি Logo অবৈধ সম্পদ: সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড Logo নেপালের নাট্যোৎসবে অংশ নিচ্ছে ‘হিরণ কিরণ থিয়েটার’ Logo ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বাংলাদেশের জিডিপি: প্রধানমন্ত্রী

ইবিতে আছিয়ার গায়েবানা জানাজা, ৭ দিনের মধ্যে বিচার দাবি

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০১:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
  • ১৬৬ বার পঠিত

ধর্ষণের ঘটনায় নিহত আছিয়ার গায়েবানা জানাজা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনের এই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ৭ দিনের মধ্যে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেন। এসময় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা পড়ানোর পূর্বে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ইবির সহ-সমন্বয়ক হাসানুল বান্না ওলি বলেন, ২০০০ মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। তারা এই নিয়ত নিয়ে সরকার করেছে যে, এই দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার তারা নিশ্চিত করবে। কিন্তু আজকের এই ঘটনায় পুরো দেশ লজ্জিত, আমরা আছিয়ার ভাই হিসেবে লজ্জিত। ফিলিস্তিনের সেই ছোট্ট মেয়েটির মত বোন আছিয়া যদি বলে আমি আল্লাহর কাছে সব বলে দেবো, বাংলাদেশের সবগুলো মানুষ আছে আসামি হয়ে যাবে আছিয়ার প্রতি এই নির্মমতার বিচার আদায় করাতে না পারার জন্য।

সহ-সমন্বয়ক গোলাম রাব্বানী বলেন, বর্তমানে জনগণ চায় ধর্ষক যেন ধর্ষিতার আগেই দুনিয়া ত্যাগ করে। আমি বর্তমান সরকারকে বলতে চাই, আপনি যদি আইন সংশোধন করতে না পারেন, আইনের বাস্তবায়ন করতে না পারেন তাহলে গদি ছেড়ে দেন। আইন সংশোধন করে জনগণের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী যদি কাজ করতে না পারেন তাহলে গতি ছেড়ে দেন।

সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, পতিত স্বৈরাচার তার রেজিমের মাধ্যমে আমাদের পঞ্চাশ হাজার বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমরা দেখেছি তনু কিভাবে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। আমরা ভুলে গেছি বসুন্ধরার মালিক সায়েম সোবহান আনভির দ্বারা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার মুনিয়ার কথা। সেই আনভিরদের যদি আমরা বিচারের সম্মুখিন করতে পারতাম, সেই প্রতিবাদের ভাষা যদি জানি রাখতে পারতাম, তাহলে আজ আমাদের আছিয়ার মত বোনদের এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না।

তিনি আরো বলেন, আছিয়ার প্রতি নির্মমতার প্রতিবাদে আজ আমরা একত্রিত হয়েছি, কিছুদিন পরে কি আমরা আছিয়াকে ভুলে যাব। এরকম কখনোই হতে দেয়া যাবে না। আছিয়ার ধর্ষণের অভিযুক্তদের যতদিন শাস্তির আওতায় আনা না হচ্ছে ততদিন আমরা রাজপথ ছাড়বো না। এখন ইন্টারিমের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিচার হীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে নিয়ে আসা। আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহ্বান জানাবো আছিয়া ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ ৮ বছরের শিশু আছিয়া মাগুরায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে বোনের শ্বশুরের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিশুটির বোনের স্বামী, স্বামীর ভাই এবং স্বামীর মায়ের পাশবিক নির্যাতনের শিকার ৭ দিন হাসপাতালের বিছানায় বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর ১৩ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসতাপালে মৃত্যবরণ করেছে।

 

জনপ্রিয়

আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ইবিতে আছিয়ার গায়েবানা জানাজা, ৭ দিনের মধ্যে বিচার দাবি

প্রকাশিত ০১:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

ধর্ষণের ঘটনায় নিহত আছিয়ার গায়েবানা জানাজা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনের এই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ৭ দিনের মধ্যে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেন। এসময় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা পড়ানোর পূর্বে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ইবির সহ-সমন্বয়ক হাসানুল বান্না ওলি বলেন, ২০০০ মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। তারা এই নিয়ত নিয়ে সরকার করেছে যে, এই দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার তারা নিশ্চিত করবে। কিন্তু আজকের এই ঘটনায় পুরো দেশ লজ্জিত, আমরা আছিয়ার ভাই হিসেবে লজ্জিত। ফিলিস্তিনের সেই ছোট্ট মেয়েটির মত বোন আছিয়া যদি বলে আমি আল্লাহর কাছে সব বলে দেবো, বাংলাদেশের সবগুলো মানুষ আছে আসামি হয়ে যাবে আছিয়ার প্রতি এই নির্মমতার বিচার আদায় করাতে না পারার জন্য।

সহ-সমন্বয়ক গোলাম রাব্বানী বলেন, বর্তমানে জনগণ চায় ধর্ষক যেন ধর্ষিতার আগেই দুনিয়া ত্যাগ করে। আমি বর্তমান সরকারকে বলতে চাই, আপনি যদি আইন সংশোধন করতে না পারেন, আইনের বাস্তবায়ন করতে না পারেন তাহলে গদি ছেড়ে দেন। আইন সংশোধন করে জনগণের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী যদি কাজ করতে না পারেন তাহলে গতি ছেড়ে দেন।

সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, পতিত স্বৈরাচার তার রেজিমের মাধ্যমে আমাদের পঞ্চাশ হাজার বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমরা দেখেছি তনু কিভাবে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। আমরা ভুলে গেছি বসুন্ধরার মালিক সায়েম সোবহান আনভির দ্বারা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার মুনিয়ার কথা। সেই আনভিরদের যদি আমরা বিচারের সম্মুখিন করতে পারতাম, সেই প্রতিবাদের ভাষা যদি জানি রাখতে পারতাম, তাহলে আজ আমাদের আছিয়ার মত বোনদের এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না।

তিনি আরো বলেন, আছিয়ার প্রতি নির্মমতার প্রতিবাদে আজ আমরা একত্রিত হয়েছি, কিছুদিন পরে কি আমরা আছিয়াকে ভুলে যাব। এরকম কখনোই হতে দেয়া যাবে না। আছিয়ার ধর্ষণের অভিযুক্তদের যতদিন শাস্তির আওতায় আনা না হচ্ছে ততদিন আমরা রাজপথ ছাড়বো না। এখন ইন্টারিমের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিচার হীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে নিয়ে আসা। আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহ্বান জানাবো আছিয়া ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ ৮ বছরের শিশু আছিয়া মাগুরায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে বোনের শ্বশুরের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিশুটির বোনের স্বামী, স্বামীর ভাই এবং স্বামীর মায়ের পাশবিক নির্যাতনের শিকার ৭ দিন হাসপাতালের বিছানায় বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর ১৩ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসতাপালে মৃত্যবরণ করেছে।