ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বগুড়ায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই যুবকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা Logo বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাবি উপাচার্যের বৃক্ষরোপণ : ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের অঙ্গিকার Logo জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কুবিতে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল Logo বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী Logo কারামুক্ত আইভী লড়বেন আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে Logo কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল বৌ-শাশুড়ির Logo কটিয়াদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য বাইক শোভাযাত্রা ও আনন্দ মিছিল Logo প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে ১৯ বছরের আন্দ্রিভা Logo ফ্রান্সকে হারিয়ে আইভরি কোস্টের ঐতিহাসিক জয় Logo বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচিত হাঙরের ভবিষ্যদ্বাণী

ছুটিতেও হল খোলা রাখার দাবী ইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ১১:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • ১২১ বার পঠিত

পবিত্র ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলো খোলা রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৮মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাশাসন ভবন চত্বরে মানববন্ধন করে তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খোলা রাখার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। তারা এই দাবির পেছনে বেশকিছু কারণ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-

১. বহু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, যারা ঈদুল আজহা উদযাপন করেন না। ছুটির সময় হলে বন্ধ থাকলে তাঁদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

২. চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি: ছুটির পরপরই ৪৭তম বিসিএসসহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী হলেই এসব পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হল বন্ধ হলে তাঁদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটবে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে।

৩. গবেষণা ও শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ: স্নাতকোত্তর ও গবেষণামূলক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান থিসিস, গবেষণা প্রকল্পএবং ল্যাবরেটরি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। হল বন্ধ হলে এসব কাজ অনিশ্চয়তায় পড়বে।

৪. দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা: অনেক শিক্ষার্থী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ অন্যান্য পরিবহন অত্যন্ত চাপের মুখে পড়ে, যা নিরাপদ ভ্রমণকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সময়ে বাড়ি যাওয়া ও ফিরে আসা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

৫. স্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তির বিষয়: অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা দূরে থাকেন বা পরিবারহীন অবস্থায় বিশ্ববিদালয়ে বসবাস করেন। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলই একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল। হল বন্ধ হয়ে গেলে তারা একাকীত্বে ভুগে মানসিকভাবে অসুস্থতা হয়ে পড়ে।

৬. পর্যাপ্ত সময় ও প্রস্তুতির সুযোগ: ঈদের পরপরই সেমিস্টার ফাইনাল, মধ্যবর্তী মূল্যায়ন বা প্রেজেন্টেশন থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসেই থেকে সেগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের পড়াশোনায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য হল খোলা রাখা আবশ্যক।

উপরোক্ত কারণ বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘ ছুটিতে হল খোলা রাখার অনুরোধ জানান এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সহায়ক পরিবেশে অবস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।

এই বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘হল খোলা রাখার বিষয়ে আমরা পজেটিভ। ছুটিতে যারা হলে থাকতে চায় তাদেরকে লিখিতভাবে স্ব স্ব হল প্রভোস্টের কাছে আবেদন দিতে বলেছি। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষার্থী যদি থাকতে চায় তাহলে আমরা হল খোলা রাখবো।’

প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে আগামী ৩১ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস-পরীক্ষা ও অফিসসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে ছুটি চলাকালীন ৪ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ রাখার বিষয়ে ভাবছে প্রভোস্ট কাউন্সিল।

জনপ্রিয়

বগুড়ায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই যুবকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

ছুটিতেও হল খোলা রাখার দাবী ইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত ১১:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

পবিত্র ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলো খোলা রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৮মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাশাসন ভবন চত্বরে মানববন্ধন করে তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খোলা রাখার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। তারা এই দাবির পেছনে বেশকিছু কারণ তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-

১. বহু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, যারা ঈদুল আজহা উদযাপন করেন না। ছুটির সময় হলে বন্ধ থাকলে তাঁদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

২. চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি: ছুটির পরপরই ৪৭তম বিসিএসসহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী হলেই এসব পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হল বন্ধ হলে তাঁদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটবে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে।

৩. গবেষণা ও শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ: স্নাতকোত্তর ও গবেষণামূলক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান থিসিস, গবেষণা প্রকল্পএবং ল্যাবরেটরি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। হল বন্ধ হলে এসব কাজ অনিশ্চয়তায় পড়বে।

৪. দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা: অনেক শিক্ষার্থী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ অন্যান্য পরিবহন অত্যন্ত চাপের মুখে পড়ে, যা নিরাপদ ভ্রমণকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সময়ে বাড়ি যাওয়া ও ফিরে আসা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

৫. স্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তির বিষয়: অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা দূরে থাকেন বা পরিবারহীন অবস্থায় বিশ্ববিদালয়ে বসবাস করেন। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলই একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল। হল বন্ধ হয়ে গেলে তারা একাকীত্বে ভুগে মানসিকভাবে অসুস্থতা হয়ে পড়ে।

৬. পর্যাপ্ত সময় ও প্রস্তুতির সুযোগ: ঈদের পরপরই সেমিস্টার ফাইনাল, মধ্যবর্তী মূল্যায়ন বা প্রেজেন্টেশন থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসেই থেকে সেগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের পড়াশোনায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য হল খোলা রাখা আবশ্যক।

উপরোক্ত কারণ বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘ ছুটিতে হল খোলা রাখার অনুরোধ জানান এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সহায়ক পরিবেশে অবস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।

এই বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘হল খোলা রাখার বিষয়ে আমরা পজেটিভ। ছুটিতে যারা হলে থাকতে চায় তাদেরকে লিখিতভাবে স্ব স্ব হল প্রভোস্টের কাছে আবেদন দিতে বলেছি। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষার্থী যদি থাকতে চায় তাহলে আমরা হল খোলা রাখবো।’

প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে আগামী ৩১ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস-পরীক্ষা ও অফিসসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে ছুটি চলাকালীন ৪ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ রাখার বিষয়ে ভাবছে প্রভোস্ট কাউন্সিল।