ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার Logo শুধু নিয়ন্ত্রন নয়, ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব  Logo নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সাংবাদিকদের পিআইবির প্রশিক্ষণ Logo ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন

শিরোনামহীনের কীবোর্ড যাদুকর: মাইদুল ইসলাম সাইমনের সংগীত যাত্রা

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১০:১০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • ১৫৪ বার পঠিত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সরল জীবন থেকে শুরু হয়ে আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীনের কীবোর্ডে বাজানো মাইদুল ইসলাম সাইমন। ছোটবেলা থেকেই সুর-সঙ্গীত তার প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে। সঙ্গীত তার কাছে কখনো শুধু শখ ছিলো না, ছিল এক জীবনের পরিচয়।

সাইমনের সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুত বোঝা যায়, তার নিজস্ব এক রকম ধৈর্য আর পরিশ্রমের গল্প আছে, যা তাকে আজকের উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। ভাইয়ের ডিভিডিতে দেখা এক পিয়ানোবাদকের অর্কেস্ট্রার ভিডিওই তাকে কীবোর্ড শেখার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। গিটার শেখার আগ্রহ ছিল বন্ধুদের দেখে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিয়ানোতেই পাগল হয়ে গেল সে।

নিজেকে ‘সেল্ফ টচট মিউজিশিয়ান’ বলতে ভালোবাসেন সাইমন।
“আমি কখনো কোনো গুরুর কাছে গিয়ে সিগন্যাল পাইনি, নিজেরাই চেষ্টা করে শিখেছি,” সে জানায়।

কলেজ জীবনে প্রথম বন্ধুদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করে নিলেন। ২০১৩ সালে যোগ দিলেন চট্টগ্রামের ব্যান্ড মেট্রিক্যালের কীবোর্ডিস্ট হিসেবে। ২০১৫ সালে ‘ফিরে এসো’ গানটির সুর রচনা করে ব্যান্ডের জনপ্রিয়তাও বাড়িয়ে দিলেন। এরপর ‘গণতন্ত্রের ঘুড়ি’, ‘অনুভূতি যত’সহ আরও বেশ কিছু গানের সুর রচনা তারই প্রতিভার সাক্ষ্য।

বাংলাদেশের রক লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য পেয়ে তিনি আজও কৃতজ্ঞ। সাইমন জানান “বাচ্চু ভাই আমাকে ‘চকলেট বয়’ ডাকতেন, তার সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করে বাজানো ছিল জীবনের বড় পাওয়া,”

২০১৮ সালের শেষে যুক্ত হন শিরোনামহীনের সঙ্গে। ২০১৯ সালে ‘এই অবেলায়’ গান দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা শিরোনামহীনের কীবোর্ডে। ‘ক্যাফেটেরিয়া পেরিয়ে’, ‘কাশফুলের শহর দেখা’, ‘পারফিউম’— এসব গানেই তার সুরের ছোঁয়া স্পষ্ট।

শিরোনামহীনের ‘পারফিউম’, ‘দি অনলি হেডলাইনার’, ‘বাতিঘর’ অ্যালবামে কাজ করেছেন সাইমন। ‘বাতিঘর’ অ্যালবামের ‘মা’ গানের সুর রচনা তার কাছে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। যে গান যাইগা করে নিয়েছে লাখো ভক্তের মনে।

সাইমন বলেন, “ছোটবেলা থেকে যাদের গান শুনে বড় হয়েছি, আজ তাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করতে পারছি—এই ভাবনাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় খুশি। শিরোনামহীন মানেই নতুন কিছু, অন্যরকম কিছু। আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ পছন্দ করি, স্বপ্ন দেখি একদিন লন্ডনের রয়েল আলবার্ট হলে শিরোনামহীনের সঙ্গে পারফর্ম করব।”

এছাড়া ও সম্প্রতি মাইদুল ইসলাম সাইমন, JCI Signature Dhaka, এর ডিরেক্টর / পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
Junior Chamber International Bangladesh হলো বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ও সক্রিয় যুব সংগঠন, যা ১৮–৪০ বছর বয়সী তরুণদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে।

এই তরুণ মিউজিশিয়ানটির গল্প শুধু সঙ্গীত নয়, তা স্বপ্ন দেখার, পরিশ্রমের ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যা আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয়

১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার 

শিরোনামহীনের কীবোর্ড যাদুকর: মাইদুল ইসলাম সাইমনের সংগীত যাত্রা

প্রকাশিত ১০:১০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সরল জীবন থেকে শুরু হয়ে আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীনের কীবোর্ডে বাজানো মাইদুল ইসলাম সাইমন। ছোটবেলা থেকেই সুর-সঙ্গীত তার প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে। সঙ্গীত তার কাছে কখনো শুধু শখ ছিলো না, ছিল এক জীবনের পরিচয়।

সাইমনের সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুত বোঝা যায়, তার নিজস্ব এক রকম ধৈর্য আর পরিশ্রমের গল্প আছে, যা তাকে আজকের উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। ভাইয়ের ডিভিডিতে দেখা এক পিয়ানোবাদকের অর্কেস্ট্রার ভিডিওই তাকে কীবোর্ড শেখার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। গিটার শেখার আগ্রহ ছিল বন্ধুদের দেখে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিয়ানোতেই পাগল হয়ে গেল সে।

নিজেকে ‘সেল্ফ টচট মিউজিশিয়ান’ বলতে ভালোবাসেন সাইমন।
“আমি কখনো কোনো গুরুর কাছে গিয়ে সিগন্যাল পাইনি, নিজেরাই চেষ্টা করে শিখেছি,” সে জানায়।

কলেজ জীবনে প্রথম বন্ধুদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করে নিলেন। ২০১৩ সালে যোগ দিলেন চট্টগ্রামের ব্যান্ড মেট্রিক্যালের কীবোর্ডিস্ট হিসেবে। ২০১৫ সালে ‘ফিরে এসো’ গানটির সুর রচনা করে ব্যান্ডের জনপ্রিয়তাও বাড়িয়ে দিলেন। এরপর ‘গণতন্ত্রের ঘুড়ি’, ‘অনুভূতি যত’সহ আরও বেশ কিছু গানের সুর রচনা তারই প্রতিভার সাক্ষ্য।

বাংলাদেশের রক লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য পেয়ে তিনি আজও কৃতজ্ঞ। সাইমন জানান “বাচ্চু ভাই আমাকে ‘চকলেট বয়’ ডাকতেন, তার সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করে বাজানো ছিল জীবনের বড় পাওয়া,”

২০১৮ সালের শেষে যুক্ত হন শিরোনামহীনের সঙ্গে। ২০১৯ সালে ‘এই অবেলায়’ গান দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা শিরোনামহীনের কীবোর্ডে। ‘ক্যাফেটেরিয়া পেরিয়ে’, ‘কাশফুলের শহর দেখা’, ‘পারফিউম’— এসব গানেই তার সুরের ছোঁয়া স্পষ্ট।

শিরোনামহীনের ‘পারফিউম’, ‘দি অনলি হেডলাইনার’, ‘বাতিঘর’ অ্যালবামে কাজ করেছেন সাইমন। ‘বাতিঘর’ অ্যালবামের ‘মা’ গানের সুর রচনা তার কাছে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। যে গান যাইগা করে নিয়েছে লাখো ভক্তের মনে।

সাইমন বলেন, “ছোটবেলা থেকে যাদের গান শুনে বড় হয়েছি, আজ তাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করতে পারছি—এই ভাবনাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় খুশি। শিরোনামহীন মানেই নতুন কিছু, অন্যরকম কিছু। আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ পছন্দ করি, স্বপ্ন দেখি একদিন লন্ডনের রয়েল আলবার্ট হলে শিরোনামহীনের সঙ্গে পারফর্ম করব।”

এছাড়া ও সম্প্রতি মাইদুল ইসলাম সাইমন, JCI Signature Dhaka, এর ডিরেক্টর / পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
Junior Chamber International Bangladesh হলো বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ও সক্রিয় যুব সংগঠন, যা ১৮–৪০ বছর বয়সী তরুণদের নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে।

এই তরুণ মিউজিশিয়ানটির গল্প শুধু সঙ্গীত নয়, তা স্বপ্ন দেখার, পরিশ্রমের ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যা আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।