ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয় Logo নগদ অ্যাপে আইএফআইসি ব্যাংকের সঞ্চয় ও ঋণসেবা দিতে সমঝোতা চুক্তি Logo আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডকে আরো তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রদূত Logo কুষ্টিয়ায় ভেজাল সার বিক্রির দায়ে লাখ টাকা জরিমানা Logo সওজ বলছে অনুমোদন নেই, বন বিভাগ কাটছে তবু সিলেট-তামাবিল সড়কের গাছ Logo পুরোপুরি চালু হয়নি পিরোজপুর ডাম্পিং স্টেশন, রাজস্ব হারাচ্ছে পৌরসভা Logo জবিতে প্রথমবারের ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অধ্যাপক ইমরানুল Logo শরতের সাদা কাশফুলে সেজেছে হিলির ছোট যমুনা Logo ফিফা সংস্কারে আলোচনায় প্রস্তুত ইনফান্তিনো Logo চবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন

গাজায় দুধের সরবরাহ নেই, মৃত্যুর মুখে হাজার হাজার শিশু

গাজা উপত্যকায় ক্ষুধার্ত মায়েরা তাদের শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না, অন্যদিকে ইসরায়েলের অবরোধের ফলে ফর্মুলা দুধের (প্যাকেটজাত গুড়া দুধ) সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিকে একটি ‘নীরব বিপর্যয়ের’ বলে অভিহিত করে গাজার চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, শিগগিরই দুধের সরবরাহ স্বাভবিক না হলে হাজার হাজার শিশুর জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

গাজার খান ইউনিসের আল নাসের হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের প্রধান ডা. আহমেদ আল-ফারা বলেন, ‘দুধের অভাবে এই ওয়ার্ডের শিশুরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে।’

আল-ফারা জানিয়েছেন, ‘নবজাতকদের জন্য তৈরি নয় এমন অন্যান্য ধরণের দুধ এখনো অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে যায়, শিশুদের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছাসেবকরা বাজার থেকে সেগুলো সংগ্রহ করছেন।  তবে এগুলোর দামও অত্যধিক বেশি।’

গাজার ফিল্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. মারওয়ান আল-হামস শনিবার এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে কোনো ধরনের শিশু খাদ্য নেই, এমকি ইনকিউবেটরে ব্যবহৃত চিকিৎসা সূত্রও আমাদের কাছে নেই।’

gaza2

তিনি আরও বলেন, ‘গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে, যা নবজাতক এবং শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে।’

আল-হামসের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে কমপক্ষে ৬৬ জন শিশু মারা গেছে।

গাজার চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক পুষ্টির অভাবে শিশুরা কেবল দুর্বলই হয় না, বরং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। প্রোটিনের অভাব দ্রুত সংক্রমণ, ফোলাভাব এবং অঙ্গ ব্যর্থতার মতো অন্যান্য জটিলতার সৃষ্টি করে।

এদিকে শিশু খাদ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি তীব্র নিন্দা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

গাজার অবনতিশীল স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবরোধের ফলে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, দুর্ভিক্ষ আরও তীব্র হয়েছে এবং শিশু খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অবিলম্বে গাজার শিশুদের বাঁচাতে হস্তক্ষেপ করে, যারা এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।’

সূত্র: আলজাজিরা, এনবিসি

জনপ্রিয়

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

গাজায় দুধের সরবরাহ নেই, মৃত্যুর মুখে হাজার হাজার শিশু

প্রকাশিত ০৪:২১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

গাজা উপত্যকায় ক্ষুধার্ত মায়েরা তাদের শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না, অন্যদিকে ইসরায়েলের অবরোধের ফলে ফর্মুলা দুধের (প্যাকেটজাত গুড়া দুধ) সরবরাহ শেষ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিকে একটি ‘নীরব বিপর্যয়ের’ বলে অভিহিত করে গাজার চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, শিগগিরই দুধের সরবরাহ স্বাভবিক না হলে হাজার হাজার শিশুর জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

গাজার খান ইউনিসের আল নাসের হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের প্রধান ডা. আহমেদ আল-ফারা বলেন, ‘দুধের অভাবে এই ওয়ার্ডের শিশুরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে।’

আল-ফারা জানিয়েছেন, ‘নবজাতকদের জন্য তৈরি নয় এমন অন্যান্য ধরণের দুধ এখনো অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে যায়, শিশুদের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছাসেবকরা বাজার থেকে সেগুলো সংগ্রহ করছেন।  তবে এগুলোর দামও অত্যধিক বেশি।’

গাজার ফিল্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. মারওয়ান আল-হামস শনিবার এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে কোনো ধরনের শিশু খাদ্য নেই, এমকি ইনকিউবেটরে ব্যবহৃত চিকিৎসা সূত্রও আমাদের কাছে নেই।’

gaza2

তিনি আরও বলেন, ‘গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে, যা নবজাতক এবং শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে।’

আল-হামসের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে কমপক্ষে ৬৬ জন শিশু মারা গেছে।

গাজার চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক পুষ্টির অভাবে শিশুরা কেবল দুর্বলই হয় না, বরং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। প্রোটিনের অভাব দ্রুত সংক্রমণ, ফোলাভাব এবং অঙ্গ ব্যর্থতার মতো অন্যান্য জটিলতার সৃষ্টি করে।

এদিকে শিশু খাদ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি তীব্র নিন্দা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

গাজার অবনতিশীল স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবরোধের ফলে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, দুর্ভিক্ষ আরও তীব্র হয়েছে এবং শিশু খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অবিলম্বে গাজার শিশুদের বাঁচাতে হস্তক্ষেপ করে, যারা এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।’

সূত্র: আলজাজিরা, এনবিসি