ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’ Logo পাবিপ্রবিতে বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা Logo হামে শিশুমৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের Logo ডিআরইউ সঙ্গে পুপরোয়া’র মতবিনিময় সভা Logo শিক্ষকদের পাঠ মুল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামুলক করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

‘ফাঁসির দুঃস্বপ্ন দেখে পাগল হবে তোমরা’ – ইবি ছাত্র সাজিদ হত্যাকাণ্ডে খালার অভিশাপ

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৬:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৬৪ বার পঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে উত্তোলিত নিহত ছাত্র সাজিদের (২২) লাশ পাওয়ার ৪৭ দিন পরও বিচার না পাওয়া ভাগ্নের শোকে কাতর খালা হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য অভিশাপ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১:১৩ ঘটিকায় নিহত সাজিদের খালা উম্মে সালমা তার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক মর্মবিদারক স্ট্যাটাসে বিভিন্ন হত্যাকারীদের উদ্দেশ্যে একের পর এক প্রশ্ন, অভিশাপ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও বিস্তারিত চিত্র, যা শোককে রূপ দিয়েছে ক্রোধে।

হত্যাকারীদের কঠোর অভিশাপ ও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত এই ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হবে। যদি ৭০ বছর বেঁচে থাকেন, তবে শেষ ৩০ বছর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবেন আর প্রলাপ বলবেন ‘আমি সাজিদ কে হত্যা করেছি’ আর যদি রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে বিদেশে চলে যান, তবেও একদিন লাইভে এসে সবাইকে সাজিদ হত্যার দায় স্বীকার করবেন ইনশাআল্লাহ।’’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘আপনারা সাজিদের গ্রাফিটি দেয়াল থেকে মুছে ফেলবার জন্য দেয়াল সাদা রং করে ফেলেন। কিন্তু আপনারা কি পারবেন সাজিদের জন্য তৈরী হওয়া আমার বোনের (সাজিদের মা) বুকের ভেতরে হায়েনাদের করা সেই রক্তের দাগ মুছতে? সাজিদের মা-বাবার বুকের ভিতরে যে রক্তক্ষরণ অব্বাহত আছে, সেই রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণের জন্য হলেও বন্ধ করতে চেষ্ঠা করুন।’’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, একদল লোক রাতের অন্ধকারে সাজিদকে শারীরিকভাবে আটকে রেখে, বিছানায় চেপে ধরে এবং বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এরপর প্রমাণ মুছতে তার মৃতদেহ পুকুরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সাজিদের চোখ দিয়ে যখন অনেক আকুতি আর ধরধর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে তখন না জানি কত খুশি ছিলেন আপনারা? যখন কোনোভাবেই পারেনি তখন শারীরিক শক্তির মাধ্যমে ও বাঁচতে চেয়েছে। হাত-পা ছুড়েছে। আর বুনো হায়েনার মতো ওর শক্তিশালী হাত-পা গুলো চেপে ধরেছেন বিছানার সাথে। পাঁচ জনের কাছে আমার বাবার একার শক্তি পেরে উঠে নাই।’’

ভিসির কাছে আকুতি জানিয়ে তিনি লিখেন ‘‘আপনি একটা বক্তব্যতে বলেছেন, আপনার পিরিয়ডে রেমার্কাবল কিছু করতে চান ভার্সিটির জন্য। স্যার আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি প্লিজ সাজিদের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে, শাস্তি দিয়ে এই ভার্সিটিকে কলঙ্কমুক্ত করুন। তানাহলে হাজারো উন্নয়নমূলক কাজ করেও সারাজীবন ব্যর্থ ভিসির পরিচয় নিয়ে বেচে থাকবেন।’’

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সাজিদ আবদুল্লাহর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু ধারণা করা হলেও পরে ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।

এদিকে, সাজিদের পরিবারের এই মর্মস্পর্শী আর্তনাদ এবং বিচারের দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায়, ঘটনাটির প্রতি গণআকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জোরালো হচ্ছে।

জনপ্রিয়

রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার

‘ফাঁসির দুঃস্বপ্ন দেখে পাগল হবে তোমরা’ – ইবি ছাত্র সাজিদ হত্যাকাণ্ডে খালার অভিশাপ

প্রকাশিত ০৬:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে উত্তোলিত নিহত ছাত্র সাজিদের (২২) লাশ পাওয়ার ৪৭ দিন পরও বিচার না পাওয়া ভাগ্নের শোকে কাতর খালা হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য অভিশাপ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১:১৩ ঘটিকায় নিহত সাজিদের খালা উম্মে সালমা তার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক মর্মবিদারক স্ট্যাটাসে বিভিন্ন হত্যাকারীদের উদ্দেশ্যে একের পর এক প্রশ্ন, অভিশাপ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও বিস্তারিত চিত্র, যা শোককে রূপ দিয়েছে ক্রোধে।

হত্যাকারীদের কঠোর অভিশাপ ও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত এই ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হবে। যদি ৭০ বছর বেঁচে থাকেন, তবে শেষ ৩০ বছর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবেন আর প্রলাপ বলবেন ‘আমি সাজিদ কে হত্যা করেছি’ আর যদি রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে বিদেশে চলে যান, তবেও একদিন লাইভে এসে সবাইকে সাজিদ হত্যার দায় স্বীকার করবেন ইনশাআল্লাহ।’’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘আপনারা সাজিদের গ্রাফিটি দেয়াল থেকে মুছে ফেলবার জন্য দেয়াল সাদা রং করে ফেলেন। কিন্তু আপনারা কি পারবেন সাজিদের জন্য তৈরী হওয়া আমার বোনের (সাজিদের মা) বুকের ভেতরে হায়েনাদের করা সেই রক্তের দাগ মুছতে? সাজিদের মা-বাবার বুকের ভিতরে যে রক্তক্ষরণ অব্বাহত আছে, সেই রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণের জন্য হলেও বন্ধ করতে চেষ্ঠা করুন।’’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, একদল লোক রাতের অন্ধকারে সাজিদকে শারীরিকভাবে আটকে রেখে, বিছানায় চেপে ধরে এবং বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এরপর প্রমাণ মুছতে তার মৃতদেহ পুকুরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সাজিদের চোখ দিয়ে যখন অনেক আকুতি আর ধরধর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে তখন না জানি কত খুশি ছিলেন আপনারা? যখন কোনোভাবেই পারেনি তখন শারীরিক শক্তির মাধ্যমে ও বাঁচতে চেয়েছে। হাত-পা ছুড়েছে। আর বুনো হায়েনার মতো ওর শক্তিশালী হাত-পা গুলো চেপে ধরেছেন বিছানার সাথে। পাঁচ জনের কাছে আমার বাবার একার শক্তি পেরে উঠে নাই।’’

ভিসির কাছে আকুতি জানিয়ে তিনি লিখেন ‘‘আপনি একটা বক্তব্যতে বলেছেন, আপনার পিরিয়ডে রেমার্কাবল কিছু করতে চান ভার্সিটির জন্য। স্যার আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি প্লিজ সাজিদের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে, শাস্তি দিয়ে এই ভার্সিটিকে কলঙ্কমুক্ত করুন। তানাহলে হাজারো উন্নয়নমূলক কাজ করেও সারাজীবন ব্যর্থ ভিসির পরিচয় নিয়ে বেচে থাকবেন।’’

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সাজিদ আবদুল্লাহর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু ধারণা করা হলেও পরে ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।

এদিকে, সাজিদের পরিবারের এই মর্মস্পর্শী আর্তনাদ এবং বিচারের দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায়, ঘটনাটির প্রতি গণআকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জোরালো হচ্ছে।