ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার Logo শুধু নিয়ন্ত্রন নয়, ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায় ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব  Logo নির্বাচনকালীন গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সাংবাদিকদের পিআইবির প্রশিক্ষণ Logo ইউনিলিভার, যুক্তরাজ্য সরকার ও ইওয়াই-এর যৌথ উদ্যোগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন

ইসরাইলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে ঝড়

ইসরাইলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারন হাসকেল সম্প্রতি ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও ব্রিটেনবিরোধী মন্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল থেকে আলাদা হয়ে গঠিত ‘নিউ হোপ পার্টি’র সদস্য হাসকেলকে এখন দেশটির অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে এক ইহুদি উপাসনালয়ে হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক জানাতে সেখানে যান শ্যারন হাসকেল।

সে সময় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, আমি একজন ইহুদি নারী হিসেবে ব্রিটেনের রাস্তায় নিরাপদ নই। শুধু আমার অস্তিত্বের কারণেই আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পরদিন ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত অভিবাসন, বিশেষ করে ইসলামপন্থী দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা-ব্রিটেনের সামাজিক মূল্যবোধকে নষ্ট করছে এবং ইহুদিবিদ্বেষ বাড়াচ্ছে।

তার এই বক্তব্যকে যুক্তরাজ্যের মুসলিম সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা স্পষ্ট ইসলামবিদ্বেষী বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বছর শুরুর দিকে হাসকেল এক ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধি দলের বৈঠকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি ব্রিটিশ এমপি এমিলি থর্নবেরিকে পশ্চিম তীরে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের সংসদীয় পররাষ্ট্র কমিটি একে “কূটনৈতিক আচরণবিধি লঙ্ঘন” বলে নিন্দা জানায়।

ফিলিস্তিন নিয়ে শ্যারন হাসকেলের বক্তব্য বহুবার সমালোচিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, শান্তি তখনই সম্ভব, যখন ফিলিস্তিনিরা আমাদের ঘৃণা করার চেয়ে তাদের সন্তানদের ভালোবাসবে।

গাজার যুদ্ধে শিশুহত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে হাসকেল বলেন, এগুলো হামাসের প্রচারণা। কোনো যুদ্ধেই শিশু নিহত হওয়া নতুন কিছু নয়।

অগাস্টে দক্ষিণ সুদান সফরকালে তিনি গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের ওই দেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়। তবে হাসকেল দাবি করেন, সফরটি ছিল মানবিক সহায়তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ।

সম্প্রতি হাসকেল ও ইসরাইলি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ইউরোপীয় চরম-ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলের প্রবাস বিষয়ক মন্ত্রী আমিখাই চিকলি উগ্র-ডানপন্থী ব্রিটিশ কর্মী টমি রবিনসনকে ইসরাইল সফরে আমন্ত্রণ জানান, যা নিয়ে ইসরাইল ও ব্রিটেন উভয় দেশেই ক্ষোভ দেখা দেয়।

ব্রিটেনের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউস ও জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলে, একজন দণ্ডিত উগ্রবাদীকে আমন্ত্রণ জানানো আমাদের সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এইসব বিতর্কের ফলে শ্যারন হাসকেল এখন শুধু ফিলিস্তিন প্রশ্নেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইসরাইলের উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আইয়

জনপ্রিয়

১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার 

ইসরাইলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে ঝড়

প্রকাশিত ১০:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

ইসরাইলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারন হাসকেল সম্প্রতি ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও ব্রিটেনবিরোধী মন্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল থেকে আলাদা হয়ে গঠিত ‘নিউ হোপ পার্টি’র সদস্য হাসকেলকে এখন দেশটির অন্যতম বিতর্কিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে এক ইহুদি উপাসনালয়ে হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক জানাতে সেখানে যান শ্যারন হাসকেল।

সে সময় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, আমি একজন ইহুদি নারী হিসেবে ব্রিটেনের রাস্তায় নিরাপদ নই। শুধু আমার অস্তিত্বের কারণেই আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পরদিন ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত অভিবাসন, বিশেষ করে ইসলামপন্থী দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা-ব্রিটেনের সামাজিক মূল্যবোধকে নষ্ট করছে এবং ইহুদিবিদ্বেষ বাড়াচ্ছে।

তার এই বক্তব্যকে যুক্তরাজ্যের মুসলিম সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা স্পষ্ট ইসলামবিদ্বেষী বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বছর শুরুর দিকে হাসকেল এক ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধি দলের বৈঠকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি ব্রিটিশ এমপি এমিলি থর্নবেরিকে পশ্চিম তীরে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের সংসদীয় পররাষ্ট্র কমিটি একে “কূটনৈতিক আচরণবিধি লঙ্ঘন” বলে নিন্দা জানায়।

ফিলিস্তিন নিয়ে শ্যারন হাসকেলের বক্তব্য বহুবার সমালোচিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, শান্তি তখনই সম্ভব, যখন ফিলিস্তিনিরা আমাদের ঘৃণা করার চেয়ে তাদের সন্তানদের ভালোবাসবে।

গাজার যুদ্ধে শিশুহত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে হাসকেল বলেন, এগুলো হামাসের প্রচারণা। কোনো যুদ্ধেই শিশু নিহত হওয়া নতুন কিছু নয়।

অগাস্টে দক্ষিণ সুদান সফরকালে তিনি গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের ওই দেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়। তবে হাসকেল দাবি করেন, সফরটি ছিল মানবিক সহায়তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ।

সম্প্রতি হাসকেল ও ইসরাইলি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ইউরোপীয় চরম-ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলের প্রবাস বিষয়ক মন্ত্রী আমিখাই চিকলি উগ্র-ডানপন্থী ব্রিটিশ কর্মী টমি রবিনসনকে ইসরাইল সফরে আমন্ত্রণ জানান, যা নিয়ে ইসরাইল ও ব্রিটেন উভয় দেশেই ক্ষোভ দেখা দেয়।

ব্রিটেনের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউস ও জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলে, একজন দণ্ডিত উগ্রবাদীকে আমন্ত্রণ জানানো আমাদের সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এইসব বিতর্কের ফলে শ্যারন হাসকেল এখন শুধু ফিলিস্তিন প্রশ্নেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইসরাইলের উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আইয়