ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo শ্রমিকের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী! Logo মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান Logo ছেলের উপর হামলার ঘটনায় মামলা না নেওয়ায় ক্ষোভ আখতারুজ্জামানের, আটক ১ Logo বিচারহীনতার দশ বছর: সাঁওতালদের ভিটা বাগদাফার্মে কার স্বার্থে ইপিজেড? Logo গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গভীর রাতে বিক্ষোভ Logo নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ইঙ্গিত সামান্তার Logo নোবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে সাপের কামড় প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন Logo জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটে পরিচালক নিয়োগ: ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ ও শিক্ষক পদের দেনদরবারের অভিযোগ! Logo ট্রাম্পের চোখে ‘যুদ্ধের নায়ক’, তবুও নির্বাচনে পরাজয়ের ‘বলির পাঁঠা’ হেগসেথ? Logo ঢামেকে চীনা চিকিৎসক দলের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সমাপনী

জনপ্রতি ৬০০ টাকার উপহারে ইবি ছাত্রশিবিরের ১৯০০ শিক্ষার্থীকে বরণ

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৯:০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫০৩ বার পঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৩৯ তম আবর্তন) নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জনপ্রতি ৬০০ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দিয়ে ১৯০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেয় সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, অর্থসহ কুরআন, নোটপ্যাড, চাবির রিং, বুকলেট, ছাত্রদের টি-শার্ট ও ছাত্রীদের হিজাব এবং অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ডায়েরি, বই, কলমসহ অন্যান্য উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেয় সংগঠনটি। পরে দুপুরের খাবার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারা।

অনুষ্ঠানে শিবির শাখা সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাবেক শাখা সভাপতি এইচ এম আবু মুসা, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. মোঃ আব্দুল মান্নান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, আইআইইআর এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী, প্রেস প্রশাসক ড. মফিজুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সিনা, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও এছাড়া ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “একজন বুদ্ধিমান, একজন বিশ্বাসীর কাজ হচ্ছে, তিনি কতটুকু পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আমি আমার টার্গেট, আমার লক্ষ্যে, আমার স্বপ্নে পৌঁছার জন্য কতটুকু পথ এখন আমার সামনে বাকি রয়েছে, সে হিসাব-নিকাশ করা। সেই একই কথাটাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে এখানে বলে দিয়েছেন যে, তুমি তোমার ভবিষ্যতের জন্য, পরবর্তী জীবন বা সময়ের জন্য কী অর্জন করছ, তোমার ঝুলিতে কী জমা করছ, এই হিসাব-নিকাশ তোমাকে করতে হবে। আপনারা আপনাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আপন করে নিবেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের মতো করে গড়ে নিবেন এবং নিজেদের যে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ আপনারা চান, সেভাবে করে গড়ে নিজেদেরকেও গড়বেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কেও গড়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবেন ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, “আমি এখানে শিবির কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। এখানে এসে আমার অনেক সুন্দর সুন্দর উপহার পেয়েছি এবং আমার অনেক ভালো লাগছে। এই উপহারগুলোর মধ্যে অর্থসহ একটি কোরআন শরীফ রয়েছে, যেটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। এছাড়া দুপুরের লাঞ্চের জন্য খাবার আইটেম, চাবির রিং, ডায়রি, হিজাব, পেনসহ আরো অনেক কিছু আছে। শিবির সম্পর্কে আগে আমার ভয় ছিল, কারণ সবাই জানে যে “শিবিরে নাকি রগ কাটে”। তবে এখানে আসার পরে আমার খুব ভালো লাগছে এবং আমার ভিতরে শিবির সম্পর্কে একটা ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।”

কমিউনিকেশন অ্যান্ড ও মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের আরেক নবীন শিক্ষার্থী অন্বেষা দেবনাথ বলেন, “আজকে ছাত্র শিবিরের নবীনবরণে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে। অ্যারেঞ্জমেন্ট খুব সুন্দর ছিল এবং তারা আমাকে খাবার ও কলম, চাবির রিং-এর মতো বিভিন্ন উপহার দিয়েছে। আমি দেখেছি, এই অনুষ্ঠানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই নন, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও অংশগ্রহণ করেছে। অন্য ধর্মের একজন মানুষ হিসেবে আমি তাদের কাছ থেকে সুন্দর ব্যবহার পেয়েছি। সামগ্রিকভাবে এখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর ছিল এবং আমার অনুভূতিটা অনেক ভালো। আমার মতো যারা অন্য ধর্মাবলম্বী, তাদের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী যারা ছিল, তাদের জন্য কুরআন শরীফ ও হিজাবেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ছাত্র শিবির সম্পর্কে আমি আগে লোকমুখে ভালো-মন্দ মিশ্র ধারণা শুনেছিলাম, কিন্তু এখানে এসে বক্তব্য শুনে তাদের সম্পর্কে আমার কিছুটা ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে।

ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজিদ হোসেন বলেন, “আসলে আজকের অনুষ্ঠানটি খুব সুন্দর ছিল এবং খুব প্রশংসনীয় ছিল। একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে দিনটি খুব ভালোভাবে কেটেছে। আসলে শিবির সম্পর্কে আমাদের যে আগের নেতিবাচক কিছু চিন্তাভাবনা ছিল, আসলে যে তা ভুল ছিল, তা এই অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি।”

জনপ্রিয়

শ্রমিকের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী!

জনপ্রতি ৬০০ টাকার উপহারে ইবি ছাত্রশিবিরের ১৯০০ শিক্ষার্থীকে বরণ

প্রকাশিত ০৯:০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৩৯ তম আবর্তন) নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জনপ্রতি ৬০০ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দিয়ে ১৯০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেয় সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, অর্থসহ কুরআন, নোটপ্যাড, চাবির রিং, বুকলেট, ছাত্রদের টি-শার্ট ও ছাত্রীদের হিজাব এবং অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ডায়েরি, বই, কলমসহ অন্যান্য উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেয় সংগঠনটি। পরে দুপুরের খাবার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারা।

অনুষ্ঠানে শিবির শাখা সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাবেক শাখা সভাপতি এইচ এম আবু মুসা, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. মোঃ আব্দুল মান্নান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, আইআইইআর এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী, প্রেস প্রশাসক ড. মফিজুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সিনা, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও এছাড়া ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “একজন বুদ্ধিমান, একজন বিশ্বাসীর কাজ হচ্ছে, তিনি কতটুকু পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আমি আমার টার্গেট, আমার লক্ষ্যে, আমার স্বপ্নে পৌঁছার জন্য কতটুকু পথ এখন আমার সামনে বাকি রয়েছে, সে হিসাব-নিকাশ করা। সেই একই কথাটাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে এখানে বলে দিয়েছেন যে, তুমি তোমার ভবিষ্যতের জন্য, পরবর্তী জীবন বা সময়ের জন্য কী অর্জন করছ, তোমার ঝুলিতে কী জমা করছ, এই হিসাব-নিকাশ তোমাকে করতে হবে। আপনারা আপনাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আপন করে নিবেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের মতো করে গড়ে নিবেন এবং নিজেদের যে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ আপনারা চান, সেভাবে করে গড়ে নিজেদেরকেও গড়বেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কেও গড়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবেন ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, “আমি এখানে শিবির কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। এখানে এসে আমার অনেক সুন্দর সুন্দর উপহার পেয়েছি এবং আমার অনেক ভালো লাগছে। এই উপহারগুলোর মধ্যে অর্থসহ একটি কোরআন শরীফ রয়েছে, যেটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। এছাড়া দুপুরের লাঞ্চের জন্য খাবার আইটেম, চাবির রিং, ডায়রি, হিজাব, পেনসহ আরো অনেক কিছু আছে। শিবির সম্পর্কে আগে আমার ভয় ছিল, কারণ সবাই জানে যে “শিবিরে নাকি রগ কাটে”। তবে এখানে আসার পরে আমার খুব ভালো লাগছে এবং আমার ভিতরে শিবির সম্পর্কে একটা ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।”

কমিউনিকেশন অ্যান্ড ও মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের আরেক নবীন শিক্ষার্থী অন্বেষা দেবনাথ বলেন, “আজকে ছাত্র শিবিরের নবীনবরণে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে। অ্যারেঞ্জমেন্ট খুব সুন্দর ছিল এবং তারা আমাকে খাবার ও কলম, চাবির রিং-এর মতো বিভিন্ন উপহার দিয়েছে। আমি দেখেছি, এই অনুষ্ঠানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই নন, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও অংশগ্রহণ করেছে। অন্য ধর্মের একজন মানুষ হিসেবে আমি তাদের কাছ থেকে সুন্দর ব্যবহার পেয়েছি। সামগ্রিকভাবে এখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর ছিল এবং আমার অনুভূতিটা অনেক ভালো। আমার মতো যারা অন্য ধর্মাবলম্বী, তাদের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী যারা ছিল, তাদের জন্য কুরআন শরীফ ও হিজাবেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ছাত্র শিবির সম্পর্কে আমি আগে লোকমুখে ভালো-মন্দ মিশ্র ধারণা শুনেছিলাম, কিন্তু এখানে এসে বক্তব্য শুনে তাদের সম্পর্কে আমার কিছুটা ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে।

ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজিদ হোসেন বলেন, “আসলে আজকের অনুষ্ঠানটি খুব সুন্দর ছিল এবং খুব প্রশংসনীয় ছিল। একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে দিনটি খুব ভালোভাবে কেটেছে। আসলে শিবির সম্পর্কে আমাদের যে আগের নেতিবাচক কিছু চিন্তাভাবনা ছিল, আসলে যে তা ভুল ছিল, তা এই অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি।”