ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার Logo জাবির ছাত্রী হলে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন Logo সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান চর্চায় বাকৃবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ে ‘ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মেলা’

সাংবাদিক মেরে বহিস্কৃত তিন ইবি শিক্ষার্থী, থাকতে পারবেন না হলেও

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৬:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৪২ বার পঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাংবাদিকদের ওপর অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ৯ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে চিঠি পেলে বহিষ্কৃতদের আবাসিক হলে অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।

বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান, আফসানা পারভীন তিনা ও রিয়াজ মোর্শেদ। তাদেরকে দুই সেমিস্টার মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারএকই ঘটনায় পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আরও নয়জন শিক্ষার্থীকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তারা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাইফুল ইসলাম, মিল্টন মিয়া (অয়াজিল), মশিউর রহমান, রাকিব হোসেন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সৌরভ দত্ত, মিনহাজুল আবেদীন, সাব্বির হোসেন ও সৌরভ হোসেন সজীব এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফরিদুল আলম পান্না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটার ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনার ভিডিও করতে গেলে তিন সাংবাদিককে মারধর ও এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ২২ ঘন্টা ফোনটি তারা নিজেদের কাছে রাখে এবং সব ডকুমেন্ট মুছে ফেলে। পরবর্তীতে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে তারা।

ঘটনার পর ১৪ জুলাই প্রশাসন ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাঃ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিল্লাতুল করিমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিটির সুপারিশের আলোকে গত ৩০ অক্টোবর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় তাদেরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক রবিউলের তলপেটে লাথি মারা, সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল রিসেট দেওয়া ও সেটি মেডিকেল সেন্টারে ফেলে রেখে আসা এবং তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আফসানা পারভীন তিনার বিরুদ্ধে সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে ঘটনার মাত্রা তীব্র করার অভিযোগ রয়েছে। অপর অভিযুক্ত রিয়াজ মোর্শেদের বিরুদ্ধে তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করার এবং ঘটনা ত্বরান্বিতকরণে ও ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে নাহিদকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত নাহিদ হাসান ও রিয়াজ মোর্শেদের সংযুক্ত হল শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের বলেন, “আমি বহিষ্কারের বিষয়টা বিভিন্ন মারফতে অবগত হয়েছি। তবে অফিশিয়াল কোন চিঠি এখনো পাইনি। চিঠি পেলেই তাদের হল ত্যাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর হলে অবস্থানের কোন সুযোগ নেই।

জনপ্রিয়

ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে 

সাংবাদিক মেরে বহিস্কৃত তিন ইবি শিক্ষার্থী, থাকতে পারবেন না হলেও

প্রকাশিত ০৬:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাংবাদিকদের ওপর অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ৯ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে চিঠি পেলে বহিষ্কৃতদের আবাসিক হলে অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।

বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান, আফসানা পারভীন তিনা ও রিয়াজ মোর্শেদ। তাদেরকে দুই সেমিস্টার মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারএকই ঘটনায় পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আরও নয়জন শিক্ষার্থীকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তারা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাইফুল ইসলাম, মিল্টন মিয়া (অয়াজিল), মশিউর রহমান, রাকিব হোসেন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সৌরভ দত্ত, মিনহাজুল আবেদীন, সাব্বির হোসেন ও সৌরভ হোসেন সজীব এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফরিদুল আলম পান্না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটার ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনার ভিডিও করতে গেলে তিন সাংবাদিককে মারধর ও এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ২২ ঘন্টা ফোনটি তারা নিজেদের কাছে রাখে এবং সব ডকুমেন্ট মুছে ফেলে। পরবর্তীতে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে তারা।

ঘটনার পর ১৪ জুলাই প্রশাসন ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাঃ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিল্লাতুল করিমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিটির সুপারিশের আলোকে গত ৩০ অক্টোবর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় তাদেরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক রবিউলের তলপেটে লাথি মারা, সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল রিসেট দেওয়া ও সেটি মেডিকেল সেন্টারে ফেলে রেখে আসা এবং তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আফসানা পারভীন তিনার বিরুদ্ধে সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে ঘটনার মাত্রা তীব্র করার অভিযোগ রয়েছে। অপর অভিযুক্ত রিয়াজ মোর্শেদের বিরুদ্ধে তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করার এবং ঘটনা ত্বরান্বিতকরণে ও ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে নাহিদকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত নাহিদ হাসান ও রিয়াজ মোর্শেদের সংযুক্ত হল শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের বলেন, “আমি বহিষ্কারের বিষয়টা বিভিন্ন মারফতে অবগত হয়েছি। তবে অফিশিয়াল কোন চিঠি এখনো পাইনি। চিঠি পেলেই তাদের হল ত্যাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর হলে অবস্থানের কোন সুযোগ নেই।