ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ক্রেডিলিংককে প্রযুক্তি সেবা দেবে বিট্র্যাক সলিউশনস Logo চেয়ারে বসা নিয়ে রাবির দুই বিভাগের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪ Logo মিলাদুন্নবীতে দুই সংগঠনকে আমন্ত্রণ না দেয়ার অভিযোগ কবি নজরুল কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে Logo কবি নজরুল কলেজে ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল Logo কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ Logo কচুয়ায় মঘিয়া ইউনিয়ন আন্তঃ ওয়ার্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী Logo পরিক্ষায় নকল করায় এক বছরের জন্য বহিষ্কার রাবির সিনেট সদস্য আকিল Logo পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দফা দাবি শিবিরের Logo বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার ১১ বছরের যমজ ভাই তানভীর-তাফসীর Logo অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎ অপচয়ের মিথ নিয়ে জাবিতে আলোচনা সভা

সাংবাদিক মেরে বহিস্কৃত তিন ইবি শিক্ষার্থী, থাকতে পারবেন না হলেও

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৬:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯০৪ বার পঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাংবাদিকদের ওপর অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ৯ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে চিঠি পেলে বহিষ্কৃতদের আবাসিক হলে অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।

বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান, আফসানা পারভীন তিনা ও রিয়াজ মোর্শেদ। তাদেরকে দুই সেমিস্টার মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারএকই ঘটনায় পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আরও নয়জন শিক্ষার্থীকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তারা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাইফুল ইসলাম, মিল্টন মিয়া (অয়াজিল), মশিউর রহমান, রাকিব হোসেন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সৌরভ দত্ত, মিনহাজুল আবেদীন, সাব্বির হোসেন ও সৌরভ হোসেন সজীব এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফরিদুল আলম পান্না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটার ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনার ভিডিও করতে গেলে তিন সাংবাদিককে মারধর ও এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ২২ ঘন্টা ফোনটি তারা নিজেদের কাছে রাখে এবং সব ডকুমেন্ট মুছে ফেলে। পরবর্তীতে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে তারা।

ঘটনার পর ১৪ জুলাই প্রশাসন ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাঃ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিল্লাতুল করিমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিটির সুপারিশের আলোকে গত ৩০ অক্টোবর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় তাদেরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক রবিউলের তলপেটে লাথি মারা, সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল রিসেট দেওয়া ও সেটি মেডিকেল সেন্টারে ফেলে রেখে আসা এবং তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আফসানা পারভীন তিনার বিরুদ্ধে সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে ঘটনার মাত্রা তীব্র করার অভিযোগ রয়েছে। অপর অভিযুক্ত রিয়াজ মোর্শেদের বিরুদ্ধে তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করার এবং ঘটনা ত্বরান্বিতকরণে ও ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে নাহিদকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত নাহিদ হাসান ও রিয়াজ মোর্শেদের সংযুক্ত হল শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের বলেন, “আমি বহিষ্কারের বিষয়টা বিভিন্ন মারফতে অবগত হয়েছি। তবে অফিশিয়াল কোন চিঠি এখনো পাইনি। চিঠি পেলেই তাদের হল ত্যাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর হলে অবস্থানের কোন সুযোগ নেই।

জনপ্রিয়

ক্রেডিলিংককে প্রযুক্তি সেবা দেবে বিট্র্যাক সলিউশনস

সাংবাদিক মেরে বহিস্কৃত তিন ইবি শিক্ষার্থী, থাকতে পারবেন না হলেও

প্রকাশিত ০৬:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাংবাদিকদের ওপর অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ৯ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে চিঠি পেলে বহিষ্কৃতদের আবাসিক হলে অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।

বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান, আফসানা পারভীন তিনা ও রিয়াজ মোর্শেদ। তাদেরকে দুই সেমিস্টার মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারএকই ঘটনায় পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আরও নয়জন শিক্ষার্থীকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তারা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাইফুল ইসলাম, মিল্টন মিয়া (অয়াজিল), মশিউর রহমান, রাকিব হোসেন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সৌরভ দত্ত, মিনহাজুল আবেদীন, সাব্বির হোসেন ও সৌরভ হোসেন সজীব এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফরিদুল আলম পান্না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটার ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্তঃসেশন খেলাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনার ভিডিও করতে গেলে তিন সাংবাদিককে মারধর ও এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ২২ ঘন্টা ফোনটি তারা নিজেদের কাছে রাখে এবং সব ডকুমেন্ট মুছে ফেলে। পরবর্তীতে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে তারা।

ঘটনার পর ১৪ জুলাই প্রশাসন ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাঃ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিল্লাতুল করিমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিটির সুপারিশের আলোকে গত ৩০ অক্টোবর ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় তাদেরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক রবিউলের তলপেটে লাথি মারা, সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল রিসেট দেওয়া ও সেটি মেডিকেল সেন্টারে ফেলে রেখে আসা এবং তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আফসানা পারভীন তিনার বিরুদ্ধে সাংবাদিক আরিফ বিল্লাহর মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও উসকানিমূলক আচরণের মাধ্যমে ঘটনার মাত্রা তীব্র করার অভিযোগ রয়েছে। অপর অভিযুক্ত রিয়াজ মোর্শেদের বিরুদ্ধে তার বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রক্টর বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করার এবং ঘটনা ত্বরান্বিতকরণে ও ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে নাহিদকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বহিষ্কৃত নাহিদ হাসান ও রিয়াজ মোর্শেদের সংযুক্ত হল শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের বলেন, “আমি বহিষ্কারের বিষয়টা বিভিন্ন মারফতে অবগত হয়েছি। তবে অফিশিয়াল কোন চিঠি এখনো পাইনি। চিঠি পেলেই তাদের হল ত্যাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর হলে অবস্থানের কোন সুযোগ নেই।