ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত নোটিশের তারিখ বদলিয়ে চলতি দিনে চলে আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ওয়েবসাইটে ঢুকলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এতে বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।
ওয়েবসাইটে ঘুরে দেখা যায় গত নভেম্বর মাসের ৪, ৮, ১৯, ২৩ তারিখ অক্টোবরের ১৫ ও ২৮ এবং সেপ্টেম্বরের ১, ১৮, ২৩, ২৪, ২৮, ২৯ তারিখে প্রকাশিত নোটিশগুলোর তারিখ পরিবর্তন হয়ে আজকের তারিখ (২৫ নভেম্বর) হয়ে আছে।
এছাড়াও ৩, ১৮, ১৯ আগস্ট, ৮, ১৪ জুলাই, ২২ জুন, ৪, ১০, ১২, ১৮, ১৯, ২৫ মে, ২০ এপ্রিল, ২৩ মার্চ এ দেয়া নোটিশের তারিখগুলোও পরিবর্তিত। প্রতিনিয়ত এই তারিখ পরিবর্তন বিভ্রান্তিতে ফেলছে শিক্ষার্থীদের।
ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ২৩ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত নোটিশ পাওয়া যায়। বিগত নয় মাসের মধ্যে প্রত্যেক মাসের নোটিশেই অভিন্নতা পাওয়া গেছে। এছাড়াও প্রকাশনায় সময় উল্লেখ না থাকা, সাইট লোডিং এ ধীরগতিসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত ইবির ওয়েবসাইটটি। যা শিক্ষার্থীদের নিত্যকার ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী সাদাত সালেহীন বলেন, “প্রায় বিভিন্ন একাডেমিক তথ্য কিংবা নোটিশ জানার জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু ওয়েবসাইটটি বর্তমানে অত্যন্ত পুরোনো, ধীরগতিসম্পন্ন ও অব্যবস্থাপনায় পূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক তথ্য ও নোটিশ সংগ্রহ দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিশগুলোর তারিখ প্রায়ই ভুল থাকে, অনেকক্ষেত্রে প্রকাশনার সময় উল্লেখ থাকে না, এবং সাইটটি লোড হতে অস্বাভাবিক সময় নেয়ার পাশাপাশি প্রায়ই হ্যাং করে। এই দুর্বল ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা যার সমাধান হিসেবে ওয়েবসাইটটির জরুরি আধুনিকায়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আপডেট করা একান্ত প্রয়োজন।”
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুবাশশির আমিন বলেন, “ইবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদের ঘাটতি এখন স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। বিভিন্ন সময় দেখা যায় যে, নোটিশগুলোর তারিখ ঠিক থাকে না। তারিখ চলতি হলেও মূল কনটেন্ট পুরনো থাকে, অনেক তথ্য অসম্পূর্ণ, আর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ দীর্ঘদিন ধরে আপডেটই করা হয় না। এমন একটি ওয়েবসাইট শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিভ্রান্তি ও ভোগান্তি তৈরি করছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যব্যবস্থা এত স্থবির থাকা একটি বড় দুর্বলতা।”
আইসিটি সেলের প্রোগ্রামার মেহেদী হাসান বলেন, ”ওয়েবসাইটটা আমিই দেখি। তবে পিএইচডির জন্য ছুটিতে ছিলাম। দুই-তিন দিন আগে জয়েন করেছি। বিষয়টা এখনো আমার নজরে আসেনি। এটা যতোসম্ভব ডেট ফিক্সড করে না দেওয়ার কারণে হতে পারে। দেখলে ভালো বলতে পারবো।”
আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী বলেন,“এ বিষয়টা ওয়েবসাইটের দায়িত্বে যারা আছে তারা দেখাশোনা করে আমি আগে জানতাম না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।”





















